প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চলচ্চিত্রে দুর্দশা যেন কাটছেই না!

মহিব আল হাসান : চলতি বছররের শেষ মাস ডিসেম্বর চলছে। এরই মধ্যে ঢাকাই সিনেমায় বেশকিছু বাণিজ্যিক ধারার ছবি মুক্তি পেয়েছে। এইসব ছবির মধ্যে গুটিকয়েক ছবি দর্শক গ্রহণ করেছেন, আবার কিছু সিনেমা একদম দর্শক গ্রহণ করেননি। এবছর শেষ হতে আর মাত্র ২৭দিন বাকি, তারপরও আরও কয়েকটি ছবি মুক্তি পাবে। বর্তমানে ঢাকাই সিনেমার ছবি মুক্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সিনেমা হলে আগত দর্শকের মুখে মুখে সিনেমার গল্প লেগে থাকে। ছবি মুক্তির আগে ট্রেলার, পোস্টার, গান দেখে দর্শকরা হলে ভিড় করেন। আবার সিনেমা দেখে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ভালো-মন্দের তাৎক্ষণিক বিচার করেও সমালোচনার ঝড় তোলেন।

তবে, চলচ্চিত্রের বর্তমান সময়টা ব্যবসায়িক বলে ভালো যাচ্ছে না বলে মনে করেন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও সনি সিনেমা হলের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিনিয়ত খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ বছর আশানুরূপ কোনও ছবি ব্যবসা করতে পারেনি। হাতেগোনা কয়েকটি ছবি ‘পোড়ামন-টু’, ‘ভাইজান এলো রে’, ‘দেবী’ ব্যবসা করলেও ভালো সাফল্য পায়নি। গত ৩০ অক্টোবর ‘দহন’ ছবি মুক্তি পেলে দুদিন ব্যবসা করলেও এখন পর্যন্ত সেছবিটি আর ভালো যাচ্ছে না।

হার্টবিট প্রোডাকশনের ব্যানারে চলতি বছর দুুটি সিনেমা মুক্তি পায়। শাকিব খান-বুবলী অভিনীত ‘সুপার হিরো’ ও মাহি ও কলকাতার নায়ক বনি অভিনীত ‘মনে রেখো’। এই দুটি ছবির মধ্যে শাকিব খানের ছবিটি ব্যবসা করলেও মাহির ছবিটি সাফল্য পায়নি। এ বিষয়ে প্রযোজক ও হার্টবিটের কর্ণধার তাপসী ঠাকুর বলেন, আমার ছবি দুটি আশানুরুপ ব্যবসা না করলেও দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। প্রচারণার সুযোগ কম পাওয়ার কারণে আমার ছবি দুটি হিট করেনি, তবে ব্যবসা ভালো করেছে।

প্রযোজক ও মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, এ বছর শাকিব খান অভিনীত দেশি ও কলকাতা মিলে মোট আটটি ছবি মুক্তি পায়। এই ছবিগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছবি দর্শক গ্রহণ করেছেন। শাকিব ছাড়াও সাইমন, বাপ্পি, সিয়াম, শুভসহ বেশকয়েক জনের ছবি মুক্তি পেলেও দর্শক টানতে পারেনি। নায়িকাদের মধ্যে অপু বিশ্বাস, ববি, বুবলী, পরী মণিসহ অনেকের অভিনীত একটি বা একাধিক ছবি মুক্তি পেয়েছে। এদের মধ্যে জয়ার ‘দেবী’, অপু বিশ্বাসের ‘পাঙ্কু জামাই’, ববির ‘বিজলী’, বুবলীর ‘সুপার হিরো’, পরীমনির ‘স্বপ্নজাল’ দর্শক মোটামুটি পছন্দ করেছেন। তবে ‘দেবী’ নিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন জয়া আহসান।

নওশাদ আরও বলেন, মুলত ছবির কনটেন্টের কারণে চলচ্চিত্রের এমন অবস্থা। ভালো গল্প আর ম্যাকিং না হওয়ায় ছবিগুলো হলে দর্শক টানতে পারেনি। তাই বেশিরভাগ সিনেমা ব্যবসা করেনি। ফলাফলে প্রযোজকরা গুনেছেন লোকসান ।

সিনেমার সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন বর্তমানে ঢাকাই সিনেমার যে অবস্থা তাতে করে ছবির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। হলে দর্শক কমছে ভালোমানের ছবি উপহার না দেওয়ার কারণে। সবকিছু মিলে প্রযোজকরা আশাহত এ বছর। তেমন কোনো শুটিংও নেই এফডিসিজুড়ে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের বেশকিছু জায়গায় সিনেপ্লেক্স নির্মাণ এখন খুবই জরুরি। না হলে চলচ্চিত্রের দুর্দশা কাটবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ