প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘রাজত্ব’ হারালেন মেসি-রোনালদো মদ্রিচের হাতেই ব্যালন ডি’অর

আবু সুফিয়ান শুভ: সকল কল্পনা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সত্যি সত্যিই আর্জেন্টাইন জাদুকর মেসি আর পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোর রাজত্বে হানা দিয়ে ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ জিতে নিলেন এবারের ব্যালন ডি’অর। বছরের অন্য সব ব্যক্তিগত বড় পুরস্কারের মতো সবচেয়ে মর্যাদার ব্যালন ডি’অরটাও জিতলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।

গত দুই বছরসহ মোট পাঁচবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন বর্তমানে জুভেন্টাসে খেলা পর্তুগিজ স্ট্রাইকার রোনালদো। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা মেসির সঙ্গে সর্বাধিক পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জয়ের কৃতিত্ব রয়েছেন একমাত্র রোনালদোরই। ১৯৫৬ সাল থেকে বিশ্বের বর্ষসেরা ফুটবলারকে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার দিয়ে আসছে ফ্রান্সের একটি পত্রিকা। পুরস্কার প্রাপককে বেছে নেয় জার্নালিস্টদের একটি প্যানেল।

ক্লাবের জার্সিতে মেসি লা লিগা এবং নিজের সাবেক ক্লাব রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন রোনালদো। তবে রাশিয়া বিশ্বকাপে কিছুই পাওয়া হয়নি মেসির। ওদিকে, রোনালদো দেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়েছিলেন। আর রিয়ালের হয়ে চমৎকার বছর কাটানো ক্রোয়াট তারকা মদ্রিচ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মুকুট জেতার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজ দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে যান ফাইনালে। এটাই তাকে এগিয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন তিনি। উয়েফার বর্ষসেরা খেতাবও উঠেছে এই মিডফিল্ডারের হাতে। রোনালদো ও মিসরীয় তারকা মোহাম্মদ সালাহকে হারিয়ে ফিফার বর্ষসেরা পদকও লুফে নেন মদ্রিচ।

ফরাসি ফুটবল ম্যাগাজিনের দেওয়া বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের জন্য ৩০ জন ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে প্রথম দিকেই ছিলেন রোনালদো, মেসি, নেইমার, মদ্রিচ, অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যানরা।

ব্যালন ডি’অরে মেসি ও রোনালদোর দশ বছরের আধিপত্যের অবসান হলো। ২০০৭ সালে ব্রাজিল তারকা কাকা এই পুরস্কার জেতার পর মেসি-রোনালদোর বাইরে পুরস্কারটি জিততে পারেননি আর কেউ। সমান পাঁচবার করে জেতেন তারা।

এবারের সেরা ত্রিশ:
প্রথম: লুকা মদ্রিচ (রিয়াল মাদ্রিদ, ক্রোয়েশিয়া)
দ্বিতীয়: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ/জুভেন্টাস, পর্তুগাল)
তৃতীয়: অ্যান্তোনিও গ্রিজমান (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ, ফ্রান্স)
চতুর্থ: কাইলিয়ান এমবাপে (পিএসজি, ফ্রান্স)
পঞ্চম: লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা, আর্জেন্টিনা)
ষষ্ঠ: মোহামেদ সালাহ (লিভারপুল, মিশর)
সপ্তম: রাফায়েল ভারানে (রিয়াল মাদ্রিদ, ফ্রান্স)
অষ্টম: এডেন হ্যাজার্ড (চেলসি, বেলজিয়াম)
নবম: কেভিন ডি ব্রুইন (ম্যানচেস্টার সিটি, বেলজিয়াম)
দশম: হ্যারি কেইন (টটেনহ্যাম হটম্পার, ইংল্যান্ড)
একাদশ: এনগোলো কন্তে (চেলসি, ফ্রান্স)
দ্বাদশ: নেইমার (পিএসজি, ব্রাজিল)
ত্রয়োদশ: লুইস সুয়ারেজ (বার্সেলোনা, উরুগুয়ে)
চতুর্দশ: থিবো কোর্তোয়া (চেলসি/ রিয়াল মাদ্রিদ, বেলজিয়াম)
পঞ্চদশ: পল পগবা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ফ্রান্স)
ষোড়শ: সার্জিও আগুয়েরো (ম্যানচেস্টার সিটি, আর্জেন্টিনা)
যৌথভাবে সপ্তদশ: করিম বেনজেমা (রিয়াল মাদ্রিদ, ফ্রান্স), গ্যারেথ বেল (রিয়াল মাদ্রিদ, ওয়েলস)
যৌথভাবে উনবিংশ: রবের্তো ফিরমিনো (লিভারপুল, ব্রাজিল), ইভান রেকিটিচ (বার্সেলোনা, ক্রোয়েশিয়া) ও সার্জিও রামোস (রিয়াল মাদ্রিদ, স্পেন)
যৌথভাবে ২২তম: এডিনসন কাভানি (পিএসজি, উরুগুয়ে), সাদিও মানে (লিভারপুল, সেনেগাল) ও মার্সেলো (রিয়াল মাদ্রিদ, ব্রাজিল)
যৌথভাবে ২৫তম: আলিসন (রোমা/লিভারপুল, ব্রাজিল), মারিও মানজুকিচ (জুভেন্টাস, ক্রোয়েশিয়া) ও ইয়ান ওবলাক (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ, স্লোভেনিয়া)
২৮তম: দিয়েগো গডিন (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ, উরুগুয়ে)
যৌথভাবে ২৯তম: ইসকো (রিয়াল মাদ্রিদ, স্পেন) ও হুগো লরিস (টটেনহ্যাম হটস্পার, ফ্রান্স)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ