Skip to main content

জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তারাই আমাদের মশালবাহক

ব্যারিস্টার আল আমিন রহমান : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে যাচাই-বাছাইয়ের সময় ৭৮৬ জনের (২ ডিসেম্বর পর্যন্ত) মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন(ইসি)। যা, ২৮ নভেম্বর শেষ সময় পর্যন্ত জমা পড়া বিভিন্ন দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাখিল করা মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্রের ২৫ শতাংশেরও বেশি। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তাঁরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন শুনানি করে আপিল নিষ্পত্তি করবে ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর। ঢাকার ২০টি আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ২৬৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাদের মধ্যে ৭১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আইন মেনে এবং সব ধরনের বিতর্কের উপরে উঠে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষমতা দেয়া হয় রিটার্নিং কর্মকতাদের। নির্বাচনের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে তাদেরকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ(আর.পি.ও.১৯৭২)। ইসি’র আটটি প্রশ্নের জবাবে মিথ্যা তথ্য দেয়া হলে তারা মনোনয়নপত্র বাতিল করতে পারেন। আইন অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তারা নিজ দায়িত্বে সংক্ষিপ্ত তদন্ত শেষে কিংবা অন্য কারো নালিশের ভিত্তিতে এই কাজটি করতে পারেন। এমনকি কোন প্রার্থী মিথ্যা তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে মামলাও করতে পারেন। বাংলাদেশের দ-বিধি অনুযায়ী মনোনয়নপত্রে মিথ্যা তথ্য দেয়ার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। দ-বিধির ১৮১ ধারা অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল ও জরিমানা হতে পারে। ফলে, জনগণ প্রত্যাশা করতে পারে যে, রিটার্নিং কর্মকতারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ থেকে নিরপেক্ষ কার্যকরি ভূমিকা রাখবেন। প্রার্থীদের দেয়া তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সেই সাথে আইন অনুযায়ী সব প্রার্থীকে সমান চোখে দেখাও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। যদি কোন ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড থাকার পরও, যদি কোন প্রার্থী ঘোষণাপত্রে সেটি গোপন রাখেন, সেটি তার প্রার্থিতা বাতিল করার জন্য যথেষ্ট। এছাড়াও, পূর্ববর্তী নির্বাচনে প্রার্থীদের দেয়া প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে জনগণকে জানানোর পাশাপাশি, প্রার্থী একক, যৌথ বা পারিবারিক সদস্যের নামে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে থাকলে, সেটি সম্পর্ক জনগণকে জানানোও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তারা একজন বিচারক এবং একজন প্রশাসকের ভূমিকা পালন করেন। এখন, রাজনৈতিক সরকারের অধীনে আসন্ন নির্বাচনে আইনের শাসন বাস্তবায়নের উদাহরণ সৃষ্টি করার বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উপর নির্ভর করছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও নির্ভর করছে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উপর। নির্বাচনের আগে যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে রিটার্নিং কর্মকর্তারাই আমাদের মশালবাহক। লেখক : বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং পার্টনার, এফএম এসোসিয়েটস, বাংলাদেশ।

অন্যান্য সংবাদ