প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধাপে ধাপে নির্বাচনের খুুব কাছে বাংলাদেশ!

মমতাজ উদ্দীন পাটোয়ারী : এক মাস আগেও বিশ্বাস করা সম্ভব হচ্ছিলো না যে, শেখ হাসিনার সরকারকে বহাল রেখে এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীন বাংলাদেশে এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে। সবাই ধরেই নিয়েছিলো যে, ২০১৩ সালের মতো ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মক- না হলেও তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দেশে একটা ছোটখাটো আকারে হলেও প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

সবার মধ্যেই এক ধরনের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছিলো। তবে কেউই ২০১৩ সালের মতো অবস্থার পুনরাবৃত্তি চাচ্ছিলো না। দেশে তখন যেন ক্রমেই একটি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে চলে যাচ্ছিলো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বিভিন্ন দলের নেতাবৃন্দের সংলাপে বসার মুহূর্ত থেকেই পরিস্থিতি পাল্টে যেতে থাকে, আগ্নেয়গিরির অগ্নিলাভার উদগীরণ মুহূর্তের মধ্যেই যেন বন্ধ হয়ে গেলো।

একটি স্বস্তির পরিবেশ ফিরে আসতে থাকে । সংলাপ হয়েছে, বিরোধী দলকে শেখ হাসিনা আস্থাায় আনতে পেয়েছেন, দলীয় সবকারের অধীন নির্বাচন করার ধারায় দেশকে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হলো। বেশ জটিল ছিল এখন জট খোলা, নির্বাচন প্রক্রিয়া সচল করা। অনেকের মধ্যেই সন্দেহ ছিলো। কিন্তু অনেক বিছুই এরমধ্যে অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে। সব পক্ষই তাদের প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। উৎসবের পরিবেশ ফিরে আসতে শুরু হয়। ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপির পক্ষে যদিও শুরু থেকেই তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করার অভিযোগ করছেন, নেতাকর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারছে না বলে ক্রমাগত অভিযোগ করছেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ করে আসছেন।

প্রশাসনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হচ্ছে। বিএনপির এসব অভিযোগের কিছু কিছু ভিওি হয়তো রয়েছে। ফৌজদারি মামলায় কেউ কেউ হয়তো গ্রেপ্তার হচ্ছেন। তবে ঢালাওভাবে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, বাড়ি ঘরে তারা থাকতে পারছে না, এ অভিযোগ হয়তো এতোটা সত্য নয়। অভিযোগগুলো বিএনপির থেকে ভোটারদের সহানুভূতি লাভের কৌশল হিসেবেও করতে পারেন।

সেটি তারা করবেই। আওয়ামী লীগ বা নির্বাচন কমিশন অভিযোগের জবাব কীভাবে দেবে সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর যাথাযথ জবাব মানুষ জানতে চায়। তবে এসব পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলতে থাকবে। তারপরও মনে হচ্ছে, নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ এখন বেশ দ্রুতই সৃষ্টি হচ্ছে।

বাংলাদেশে আগের নির্বাচনগুলোর আগে যে ধরনের ভয়ানক অব্স্থা দেখা যেতো এবার সে রকম কিছু নেই। মানুষ নতুন বাস্তবতায় অভ্যস্ত হচ্ছে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হওয়ার পর সকল পক্ষ প্রচার-প্রচারণায় ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। টান টান উত্তেজনা উভয় শিবিরে লক্ষ করা যাচ্ছে, আবার জোট- মহাজোটের মধ্যেও আছে। সব কিছুই মনে হচ্ছে নির্বাচনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে। ১০ তারিখ থেকে উভয় পক্ষ যখন মাঠে নামবে তখন পরিস্থিতি উৎসব মানুষ থাকবে, নির্বাচন শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠি হবে সেটিই সবার প্রত্যাশা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত