Skip to main content

হাওলাদারের মনোনয়ন বাণিজ্যে ধস

প্রভাষ আমিন : রুহুল আমিন হাওলাদার দুটি আসন থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসার তার দুটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করে দেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ঋণখেলাপের। এই বিপর্যয় হয়তো তিনি সামলে নিতে পারতেন। কারণ একটি আসনে তার স্ত্রী রত্না হাওলাদারের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তবে পরদিন, মানে ৩ ডিসেম্বর যে আঘাতটি এসেছে, তা সামলানো সত্যি কঠিন। তাকে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের পদ থেকে অপসারণ করে মসিউর রহমান রাঙাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র ২৬ দিন আগে কোনো পার্টির মহাসচিবকে অপসারণ স্বাভাবিক ঘটনা নয়। রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক মনোনয়নবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিলো। জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনের জন্য ২ হাজার ৮৬৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছিলো। শেষপর্যন্ত মনোনয়ন দিয়েছিলো ২০০ আসনে। কিন্তু মহাজোট থেকে তারা পাবে বড় জোর ৪০ আসন। তাহলে মনোনয়ন পাওয়া বাকি ১৬০ জনের কী হবে? এই নিয়ে তোলপাড় ছিলো পার্টির বনানী কার্যালয়ে। এরশাদ সিএমএইচে পালিয়ে বেঁচেছেন। কিন্তু তোপের মুখে পড়লেন রুহুল আমিন হাওলাদার। বনানী কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নবঞ্চিতরা প্রকাশ্যেই টাকা ফেরত চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন। তবে রুহুল আমিন হাওলাদার একাই পুরো মনোনয়নবাণিজ্যের লাভ মেরে দিয়েছেন বলে মনে হয় না। আমার ধারণা, মনোনয়নবাণিজ্যের অর্থ নিয়ে বড় নয়ছয় হয়েছে। তাতেই বলির পাঁঠা হাওলাদার। হতে পারে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে হাওলাদার বড় দাও মেরে দিয়েছেন, যাতে ক্ষুব্ধ এরশাদ তাকে অপসারণ করেছেন। আবার চতুর এরশাদেরও বাঁচার একটা রাস্তা দরকার ছিলো। এখন মনোনয়ন বঞ্চিতরা এরশাদের কাছে বিনিময় ফেরত চাইলে, তিনি বলতে পারবেন, আমি কোত্থেকে দেবো? সব তো হাওলাদার নিয়ে গেছে। এ কারণেই তো তাকে শাস্তি দিয়েছি, বহিষ্কার করেছি। আর হাওলাদারকে ধরলে তিনি বলবেন, আমি তো কিছু জানি না। জাতীয় পার্টির সব তো এরশাদের কাছে। আর আমাকে তো বেরই করে দিয়েছে। মাঝখান থেকে এমপি হতে চাওয়া কিছু লোভী মানুষের পকেট একটু হালকা হলো। রুহুল আমিন হাওলাদারকে বহিষ্কার করে এরশাদ আসলে মনোনয়নবাণিজ্যের অভিযোগটি স্বীকার করে নিলেন। আর নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙা জানালেন, অভিযোগ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দলে এমন প্রকাশ্যে মনোনয়নবাণিজ্য চলতে পারে, তা অবিশ্বাস্য। লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

অন্যান্য সংবাদ