প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যফ্রন্ট ও তার রাজনীতি

ফয়সাল কামাল : বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে বেশ কিছু উচ্চাভিলাষী সংস্কার কাজ হাতে নেবে বলে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এসব প্রস্তাব উচ্চাভিলাষী শুধু নয়, দুঃসাধ্যও বটে। তার কারণ প্রধানত দুটি। প্রথমত, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এসব দল মিলে একটা জোট করতে সক্ষম হলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন দেবে কিনা, তা সুস্পষ্ট নয়। দ্বিতীয়ত, সাধারণত এধরনের জোট একবার ক্ষমতায় গেলে তাদের ভেতর ভাঙন দেখা দেয়। এত বেশি মতপার্থক্যের নানা দল নিয়ে গড়া এসব জোটের মধ্যে তখন শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এসব সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমতঃ প্রধানমন্ত্রী কতদিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, সে ব্যাপারে একটা সময়সীমা বেঁধে দিতে চায় তারা । যদিও তা সংসদীয় রীতিনীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তবু তা বাস্তবায়ন করা গেলে সেটা বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির একটা ভালো বিকল্প হতে পারবে। প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে অবিশ্বাস ও বিরোধ কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে পারে। এক ব্যক্তি কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন তার ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ দুই দলের মধ্যে বিরাজমান অচলাবস্থা নিরসনের একটা উত্তম পন্থা। তবে সমস্যা হল, রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক এমন কোন পন্থা নেই যার সাহায্যে স্বৈরাচারীদের ক্ষমতা গ্রহণ এবং আইন পরিবর্তনের বিষয়টি ঠেকাতে পারবে।

দ্বিতীয়তঃ বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে কানাডার ধাঁচে একটি নমনীয় আপার হাউস বা সিনেটের ধারণা মন্দ নয়। দ্বিতীয় এই কক্ষটি নির্বাহী কর্তৃপক্ষের ওপর অপেক্ষাকৃত বেশি নজরদারি করতে পারে। যদিও এধরনের উচ্চ কক্ষের ধরণ ও কর্মদক্ষতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। এই কক্ষের সদস্যরা কি নির্বাচিত প্রতিনিধি হবেন নাকি মনোনীত? নি¤œ কক্ষ যদি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে এবং উচ্চ কক্ষ বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে নির্বাহী কর্তৃপক্ষ অধিকতর গ্রহণযোগ্য হবে। অন্যদিকে, উভয় কক্ষ কোন একটি দলের নিয়ন্ত্রণে থাকলে বিরোধপূর্ণ রাজনীতির ক্ষেত্রে কোন সুফল বয়ে আনবে না।

সর্বশেষ বলা যায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করার যে প্রস্তাব তারা গ্রহণ করেছে, গণতন্ত্রের স্বার্থে তা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি দিক মাত্র। দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী যে সময়টা, সেখানে গণতন্ত্রের চর্চা কতটা এবং কিভাবে হচ্ছে সেটাই টেকসই গণতন্ত্রের বড় নির্দেশক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত