প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটের মাঠে শক্তভাবে লড়তে চায় বিএনপি

আমাদের সময় : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি মনোনীত ১৪১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, এটি তাদের ধারণাতেই ছিল। তাই তারা খুব একটা বিচলিত নয়। দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, যেসব কারণে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তা আপিলে অধিকাংশ টিকবে না। তাই মাঠের লড়াইয়ে তারা ভালোভাবেই থাকছেন। কোনো অবস্থাতেই ভোটের মাঠ ছাড়বে না।

দলের দুই নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের হতোদ্যম করতে সরকারের নির্দেশে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ‘গণহারে’ মনোনয়ন বাতিল করেছেন। এ ধারণা বিএনপির আগেই ছিল। তাই প্রায় সব আসনে একাধিক প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এটি তাদের ধারণার বাইরের ঘটনা নয়।

মনোনয়ন বাতিলের রেকর্ড ঘটনার মধ্যে রবিবার রাতেই মনোনয়নপত্র অবৈধ হওয়া প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে আপিল করার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এ নিয়ে গতকাল দলের হাইকমান্ডের কয়েক নেতা বৈঠক করেন।

জানতে চাইলে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু আমাদের সময়কে বলেন, সরকার নির্বাচনে কীভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে, সে ধারণা তাদের ছিল। সেভাবেই কর্মকৌশল তৈরি করা হয়েছে।

এ বাস্তবতায় গতকাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণফোরাম ২৩ আসন চেয়ে তালিকা দিয়েছে। এর মধ্যে সুব্রত চৌধুরী ঢাকা-৬, রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ এবং মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ঢাকার একটি আসন নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা-১৮ আসন গণফোরামকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত। ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা সুলতান মনসুরকে মৌলভীবাজার-২, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়া-২ আসন আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আ স ম রবের লক্ষ্মীপুর-৪ আসনও নিশ্চিত।

জানা গেছে, গতকাল নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না এবং আ স ম রবের প্রতিনিধির সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে বিএনপির এক নেতা বৈঠক করেছেন। এখন পর্যন্ত গণফোরাম ৫, নাগরিক ঐক্য ৪ অথবা ৫, বিকল্পধারা (একাংশ) ১ এবং আ স ম রবের জেএসডিকে ৪ আসন ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। রবিবার রাতে ২০-দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জোট শরিকদের কয়েকটি দল এখনো আসন বণ্টন চূড়ান্ত না করায় কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আগামীকাল বুধবার ২০ দলের আসন বণ্টন চূড়ান্ত হতে পারে।

গণফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, ৮ ডিসেম্বর আসন বণ্টন নিয়ে বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের আসন বণ্টন চূড়ান্ত হবে।

বিএনপির বিশ্লেষণমতে, উপজেলা চেয়ারম্যানদের মধ্যে যারা পদত্যাগ করে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি উল্লেখ করে অধিকাংশের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আপিলে তারা বৈধ বলে বিবেচিত হবেন বলে মনে করে বিএনপি। এর বাইরে দলের মহাসচিবের স্বাক্ষর অমিলের বিষয়টিও টিকবে না। দ-িতের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার বিষয়টি আগেই অবগত ছিলেন তারা। সে বিবেচনায় যোগ্য বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

দলের নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি কোনোভাবেই নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না। বরং নির্বাচন পরিচালনা কোন প্রক্রিয়ায় সুনিপুণভবে করা যায়, সেই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হচ্ছে। দলের সিদ্ধান্ত, আগামী ১০-১২ ডিসেম্বর সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় গণসংযোগ শুরু করবেন। এতে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা থাকবেন।

একাধিক নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, বিএনপি আসনভিত্তিক একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কাজ শুরু করেছে। অধিকাংশ আসনে মনোনয়ন বাতিল হবেÑ এমন আশঙ্কা থেকে বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হয়। কিছু আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় যোগ্যতম একাধিক নেতাকে মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়। এখন ওইসব আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কাজ করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের এক নেতা, কুমিল্লায় এক সাংবাদিক নেতা এবং চাঁদপুরে এক সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলেকে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কাজ শুরু করেছেন। বেশকিছু আসনে প্রার্থিতা নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের দ্বিমত রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ