প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু
নির্বাচনের কারণে বরাদ্দ কমার আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট : চলতি অর্থবছরের ৬ মাস পার না হতেই বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে সংশোধিত এডিপিতে কি পরিমাণ বরাদ্দ থাকবে তা নির্ধারণে দু’দিনের সিরিজ বৈঠকে বসছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

১৯ ও ২০ ডিসেম্বর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ইআরডির সচিব মনোয়ার আহমেদ। মঙ্গলবার হতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বৈঠকের প্রস্তুতিমূলক চিঠি দেয়া শুরু করবে সংস্থাটি। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর ধাক্কা লাগতে শুরু করেছে এডিপি বাস্তবায়নে। ইতিমধ্যে কমে গেছে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড়। সব কিছু মিলে সংশোধিত এডিপিতে মোটা অংকের বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের।

ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের লিড ইকনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, এখানে দুটি ফ্যাক্টর রয়েছে। একটি হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে কিনা। যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অশান্তির সৃষ্টি হয়, তাহলে সেটি কোন মাত্রার হতে পারে বা কত দিন স্থায়ী হতে পারে তার ওপর নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়নের অবস্থা।

অন্যটি হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কতটা যুক্ত করা হবে। এখন যদি বড় প্রকল্পের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের নির্বাচন পরিচালনা বা অন্য কোনো কাজে যুক্ত করা হয়, তাহলে তারাতো প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগ দিতে পারবেন না। এ দুটি বিষয় যদি ঠিক না থাকে তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়ন এমনিতেই কমে যাবে। ফলে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ বেশি কমার আশঙ্কা থেকে যায়। তবে মেগা প্রকল্পে যারা রয়েছেন তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেয়াই উচিত হবে। তাদের বরং বলা প্রয়োজন তোমরা মনোযোগ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প ভিত্তিক বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হবে। এজন্য আজকের পাঠানো চিঠিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সংশোধিত এডিপির জন্য চাহিদাপত্র ফরেন এইড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফএএমএস) সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিত হতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে পরবর্তী পর্যায়ে কোনো আপত্তি বিবেচনা করা সম্ভব হবে না।

১৯ ডিসেম্বর এনইসি সম্মেলন কক্ষে ১০টি সেক্টর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে অনুষ্ঠিত হবে। সেক্টরগুলো হচ্ছে- বিদ্যুৎ, পরিবহন, তৈল-গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ, যোগাযোগ, সমাজ কল্যাণ-মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য-পুষ্টি-জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ, কৃষি ও ধর্ম এবং গণসংযোগ সেক্টর।

২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ৭টি সেক্টর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠক। এগুলো হচ্ছে- ভৌত-পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন সেক্টর, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান, পানি সম্পদ, জনপ্রশাসন, শিল্প, বিজ্ঞান-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেক্টর এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে. মুজরি যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের কারণে স্বাভাবিকভাবেই এডিপির বাস্তবায়ন কমেছে। সেই সঙ্গে বৈদেশিক সহায়তার ব্যবহারও কমবে এটাই স্বাভাবিক।

সাধারণভাবে নির্বাচনের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি স্তিমিত হয়। তাই সংশোধিত এডিপিতে মোটা অংকের বরাদ্দ কমার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ডিসেম্বরের পর অর্থাৎ নির্বাচন পরবর্তী স্বাভাবিক অবস্থা কতটা স্বাভাবিক থাকবে তার ওপরই নির্ভর করবে অনেক কিছুই। যত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তত তাড়াতাড়ি প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি ফিরবে।

সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি অর্থাৎ রাজনৈতিক কোনো অনিশ্চয়তা না থাকলেও ব্যয় করতে না পারায় এডিপি থেকে বাদ দেয়া হয় ৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা খাতে বরাদ্দ ছিল ৫৭ হাজার কোটি টাকা।

শেষ পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়া হয় ৫২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা থেকে বরাদ্দ দেয়া রয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই মূল এডিপির বাস্তবায়ন কমেছে সেই সঙ্গে কমেছে বৈদেশিক অর্থছাড়ও।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৪ মাসে (জুলাই-অক্টোবর) উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থছাড় করেছে ১৩২ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ১৪৫ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। এ হিসেবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে কমেছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। অন্যদিকে কমেছে প্রতিশ্রুতিও। চলতি অর্থবছরের ৪ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৩৬১ কোটি ১১ লখ ডলার।

গত অর্থবছরের ৪ মাসে প্রতিশ্রুতি এসেছিল ৫৬৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। তুলনামূলক প্রতিশ্রুতির পরিমাণ কমেছে ২০৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এছাড়া গত ৪ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন কমেছে।

টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও শতাংশের দিক থেকে বাস্তবায়ন হার কমে গেছে। এ সময় এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।

তবে নির্বাচনের প্রভাবে এডিপি বাস্তবায়ন কমেনি বলে এর আগে দাবি করেছিলেন আইএমইডির সদ্য সাবেক সচিব মো. মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, না এটা নির্বাচনের কোনো প্রভাব নয়। কেননা টাকার অংকে তো ব্যয় বেড়েছে। শতাংশে বিষয়টি এখই মূল্যায়ন করা যায় না। একই দাবি করেছেন ইআরডির সচিব মনোয়ার আহমেদ। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের কোনো প্রভাব নেই। গত অর্থবছরে জাপানের একটি বড় কিস্তি ছাড় হওয়ায় অর্থছাড় বেশি হয়েছিল।
সূত্র : যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ