প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নেত্রকোনা ও কবি হেলাল হাফিজের ব্যর্থ প্রেমের কথা

মাসুদ রানা : নেত্রকোণা আমার নিজের শহর নয়, কিন্তু কেন যেন আমার অতি আপনার মনে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকালে আমার প্রিয় বন্ধুদের বেশ কজন ছিলো নেত্রকোণার। সেই সুবাদে এবং রাজনৈতিক সংযোগে আমি মাত্র একবারই গিয়েছিলাম নেত্রকোণায়।

কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে লন্ডনে গত শুক্রবারে এসে দু’রাত আমাদের বাড়িতে থেকে গেলো বন্ধু ব্যারিস্টার কামরুল হাফিজ, যে শুরু থেকে শেষপর্যন্ত নেত্রকোণার ভাষায় কথা বলে, যা আমার কাছে দারুণ লাগে।

কামরুল হাফিজ গতরাতে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা কবি হেলাল হাফিজের ব্যর্থপ্রেম এবং তা থেকে সৃষ্ট কবিতার কথা আবেগ-আপ্লুত হয়ে শোনালো আমাদের। প্রাচীন ট্রয় নগরীর বিখ্যাত এক রূপসীর নামে নাম ছিলো কবি হাফিজের প্রেমিকার, যাকে তার জনক লোভাতুর হয়ে ঢাকা থেকে গাড়ি চড়ে আসা এক আগন্তুকের সাথে বিয়ে দিয়েছিলো তার দেওয়া ‘গুলিস্তান সিনেমার মালিক’ পরিচয় শুনে।

দুর্ভাগ্যবশত  সে-লোকটি ছিলো আসলে গুলিস্তান সিনেমার এক টিকিট-কালোবাজারি। বিয়ের পর সেই সুন্দরী নারী ঢাকায় গিয়ে তার স্বামীর আসল পরিচয় পান। ওদিকে তার প্রেমিক-কবি ব্যর্থতার গ্লানি বয়ে দারুণ সব কাব্য লিখে তার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ দেখাতে থাকেন। হাফিজের হতভাগিনী প্রেমিকা তার ভাগ্য-বিড়ম্বনা সহ্য করতে না পেরে উন্মাদিনী হয়ে পথে-পথে ঘুরে বেড়ান।

আজ সকালে চলে গেলো কামরুল হাফিজ। যাওয়ার কালে নেত্রকোণার বন্ধুদের জন্যে দু’টো উপহার কিনে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে কিছু টাকা দিলাম প্রিয় বন্ধুর হাতে। আমি কৃতজ্ঞ যে, আমার অনুভূতির কথা চিন্তা করে সেটি গ্রহণ করলো সে।

ক্ষণিকের অতিথি প্রিয় বন্ধু কামরুল হাফিজের বিদায় নেওয়ার পর থেকে নীল হৃদয়ে ভাবছি কবি হেলাল হাফিজ ও তার প্রেমিকার কথা। ভাবছি, কবি যদি তার প্রেমিকাকে পেতেন, আমরা কি পেতাম তার অমর প্রেমের কবিতাগুলো?

এটি কি ঠিক নয় যে, কোনো-কোনো মানুষ দগ্ধ হয়ে আলোকিত করে মানবতাকে? এটিই ঠিক যে, যুগে যুগে সভ্যতার আলোর সলতে হয়ে জ্বলতে  হয় কিছু মানুষকে! লন্ডন, ইংল্যান্ড। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ