প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটের মাঠে এখনও দু’ডজন বিদ্রোহী
বিদ্রোহী প্রার্থীদের আসনে ভরাডুবির শঙ্কা আওয়ামী লীগে!

আসাদুজ্জামান সম্রাট : দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ৭৯ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। যাচাই-বাছাইয়ে অনেক আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বাদ পড়লেও এখনও প্রায় দু’ডজন আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী টিকে যাওয়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছে আওয়ামী লীগের। এই আসনগুলোতে ভরাডুবির শঙ্কায় রয়েছে তারা। আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। এতেও কাজ না হলে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘আজীবন বহিস্কার’ করা হবে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও সেই রেকর্ড বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার কারণ হলেও মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগের জন্য তা খুব একটা চিন্তার কারন হয়নি। এবার বিএনপির নেতৃত্বাধীর ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এতো বিপুল সংখ্যক দলীয় বিদ্রোহী নিয়ে ভোটের মাঠে গেলে আওয়ামী লীগ নিশ্চিত ভরাডুবির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়েছিলেন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। যিনি ডলার সিরাজ নামেই বেশি পরিচিত। জেলা আওয়ামী লীগের বিবাদের সুবিধাভোগী হয়ে ওই আসনে তিনি জয়ী হন। এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও তিনি পাননি। সাবেক সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভুইয়া মোহনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ডলার সিরাজ এবারও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দু’জন প্রার্থী থাকলে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুষ্টিয়া-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা আ ক ম সারোয়ার জাহান। ভোটের মাঠে রেজাউল হক চৌধুরী থেকে গেলে এ আসনে জয় তোলা কঠিন হবে আ ক ম সরোয়ারের।

নেত্রকোনা-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোসতাক আহমেদ রুহী। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মানু মজুমদার। ভোটের মাঠে দু’জনের ভোট কাটাকাটিতে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে অপর এলাকাগুলোতে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহাজোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা বিদ্রোহী হয়েছেন তাদেরকে নিয়ে বসা হবে। তাদের সঙ্গে কথা বলে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের চেষ্টা চালানো হবে। এতেও কাজ না হলে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত দেয়াই আছে। তা কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, ইতিপূর্বে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের নানা সময়ে ক্ষমা করে দলে সুযোগ দেয়া হয়েছে। এবার আর সে সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আজীবন বহিস্কার করা হবে। সেটাই কার্যকর করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত