প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তাবলীগ জামাতের সংঘর্ষ ও জনগণের আস্থা

সাইদুর রহমান: ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক দ্বীন প্রচার প্রতিষ্ঠান তাবলীগ জামাতের আভ্যন্তরীণ কোন্দল জনসম্মুখে এসেছে। এ ঘটনা দেশের বাইরেও পৌঁছে গেছে। হতবাক হয়েছেন সাধারণ মানুষ। কল্পনায়ও আনতে পারেননি সংঘটিত চিত্র। আঘাত হেনেছে সাধারণ মানুষের আস্থাতে।

তাবলীগের অন্যতম মূলনীতি হলো ইকরামুল মুসলিম। অর্থ্যাৎ অপর মুসলিম ভাইকে সম্মান করা। এ নীতির ওপরই এ যাবৎ চলে আসছিল। এখন সম্মানের দরজা অতিক্রম করে জালেম ও মজলুমের দরজায় পৌছে গেছে সাম্প্রতিক কর্মকা-। যা সুস্পষ্টতই শরীয়তে হারাম। একজন মুসলিমের রক্ত অন্য মুসলিমের জন্য হারাম। তার ইজ্জত ও আবরু হারাম।

তাবলীগের মতো এ পবিত্র কাজের প্রক্রিয়ায় হারামের সব পর্যায় অতিক্রম করা হয়েছে। আল্লাহর নাফরমানি করলে এ কাজের প্রভাব নষ্ট হয়ে যাবে। মানুষের মনে এর প্রতিক্রিয়া হবে না। তাবলীগের পূর্বপুরুষদের অক্লান্ত পরিশ্রমের বদৌলতে তাবলীগের এতই বিস্তৃতি ছড়িয়ে। সংশ্লিষ্ট বিভেদের কারণে নিষ্প্রভ হয়ে যেতে পারে এ দ্বীপাধারের আলো।


অপর মুসলিমের ওপর আঘাত হানার বিষয়ে শরীয়তে অনেক হুশিয়ারি এসেছে। যা সকলের জন্য অবশ্য পালনীয়। বিশেষত যারা দ্বীন প্রচার কাজে নিয়োজিত তাদের জন্য বলাই বাহুল্য। আল কোরআনে তো আল্লাহ একজন মানুষ হত্যা করাকে গোটা মানব-জাতিকে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করল।’ সূরা মায়েদা : ৩২। অন্যদিকে একজন মানুষের জীবন রক্ষাকেও গোটা মানবজাতির জীবন রক্ষা বলে সাব্যস্ত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে।’ সূরা মায়েদা : ৩২।

এ আয়াত এ কথাই প্রমাণ করে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিনা বিচারে কোনো ইমানদারকে হত্যা করলে তার শাস্তি হবে চিরকালীন জাহান্নাম এবং সে আল্লাহর গজব ও অভিশাপের শিকার হবে আর তার জন্য রয়েছে কঠোর আজাব। এ ছাড়া রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো মুসলমানকে অন্যায়ভাবে হত্যা করাকে কুফরি বলে আখ্যায়িত করেছেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকি এবং তাকে হত্যা করা কুফরি।’ বুখারি, মুসলিম।

এ হাদিসদ্বয় দ্বারা বোঝা যায়, কোনো ব্যক্তি তার মধ্যে ইমান থাকা অবস্থায় অন্য মোমিন মুসলমান ভাইকে হত্যা করতে পারে না। কারণ মুসলমান তো কেবল সে-ই হতে পারে, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমানরা নিরাপদ থাকে। যেমন এক হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘খাঁটি মুসলমান হচ্ছে সে, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ আরেক হাদিসে এসেছে, ‘প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অন্য মুসলমানের জীবন, সম্পদ ও সম্মানে অন্যায় আঘাত করা হারাম।’ মুসলিম।

এ ছাড়া অন্য এক হাদিসে মোমিনের পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘মোমিন হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যাকে মানুষ নিজেদের জীবন ও সম্পদের ক্ষেত্রে নিরাপদ মনে করে।’ তিরমিজি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ