প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি কার্যালয়ের পর আ.লীগ
কোটা আন্দোলনকারীরা তারুণ্যের ইশতেহার দিলেন ওবায়দুল কাদেরের হাতে

আহমেদ জাফর : কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তারুণ্যের ইশতেহার দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কাছে।

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারুণ্যের ইশতেহার দেন। এসময় ওবায়দুল কাদের সাধারণ ছাত্র পরিষদের নেতাদের বলেন, আপনাদের দাবির বিষয়গুলো আমরা ভেবে চিন্তে দেখব।

সাধারণ ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল সাধারণ ছাত্র পরিষদের নেতাদের নামে যেসব হয়রানি ও মিথ্যা মামলা আছে সেগুলো প্রত্যাহারে অনুরোধ করেন। নুরুল হক বলেন, এই মামলাগুলোর কারণে আমাদের পড়াশোনাসহ বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে, এমামলার কারণে চিন্তায় থাকতে হয়। প্রতি মাসে একবার করে হাজিরা দিতে গেলে আমাদের পড়াশোনার ও ব্যাপক ক্ষতি হয়।

তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, কারো নামে মিথ্যা মামলা থাকলে আমি সেটা দেখব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেব কোন হয়রানি ও মিথ্যা মামলা থাকলে প্রত্যাহার করার জন্য। তবে ভিসির বাড়ি যারা ভাঙচুর করেছে তাদের উপযুক্ত বিচার আওতায় প্রশাসন আনবে।

এরপরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে নুরুল হক বলেন ,আমরা একটি সুস্থ সমাজ সুন্দর জাতি গঠনে শিক্ষাঙ্গন উন্নয়নের জন্য এই ইশতেহার প্রণয়ন করেছি খুব দ্রুত সমযয়ে। আমরা প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে এই ইশতেহারের চিঠি দিয়েছি। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আমাদের নামে যে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে সেসব মামলার জন্য এখনো আমাদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা চাই হয়রানি মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হোক। এই মামলার কারণে আমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

যুগ্ম আহব্বায়ক নুরুল হকের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যে প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকাল চারটায় আসেন এই চিঠি নিয়ে।

এর আগে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহব্বায়ক ফারুক হাসনের নেতৃত্বে ১৮ সদস্য প্রতিনিধি দল ইশতেহারে তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। পরে প্রতিনিধি দলটি জাতীয় এক্যফ্রন্টের প্রধান ড.কামাল হোসেনের সাথেও সাক্ষাৎ করেন।

তারুণ্যের ইশতেহারভাবনা ২০১৮ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের চিঠিতে যা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদের, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি কাঙ্খিত লাল-সবুজে স্বাধীনতা বাংলাদেশ। বাংলাদেশ নির্মাণে এই যুব সমাজ দেশের ঐতিহাসিক সব অর্জনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ‘৫২এর ভাষা আন্দোলন, ‘৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ‘৬৬ এর দফা ,’৬৯ গণঅভ্যুত্থান, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলন।

এবং অতি সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের ভ‍্যাট বিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনসহ সকল যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে যুব সমাজের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য ।

প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের আগেই নির্বাচন অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার প্রকাশ করে থাকে। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ইশতেহারে তরুণদের জন্য নানা প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ইশতেহারে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের মূল দাবিগুলো উপেক্ষিত থাকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪৪ লাখ । এর মধ্যে তরুণ ভোটার ৪ কোটি ২০ লাখ যুব নীতি অনুযায়ী যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছর। যা মোট ভোটারের ৪০ শতাংশের বেশি। এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব হচ্ছে তরুণ ভোটার। সকল রাজনৈতিক দলের কাছে ৪ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের দাবির আলোকে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তারুণ্যের দাবিগুলোকে একত্রিত করে তারুণ্যের ইশতেহার ভাবনা প্রণয়ন করেছে। ক্ষুধা দারিদ্র্য ও বেকারমুক্ত, সুখী সমৃদ্ধ, শোষণ-বৈষম্যহীন উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের দাবিসমূহ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সদয় বিবেচনার জন্য তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া চিঠিতে আরও তুলে ধরা হয়েছে- বেকারত্ব নিরসনে কর্মসংস্থান, চাকরির নিয়োগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও গবেষণা ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক, যুব অ্যাসেম্বলি, বিবিধ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত