প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুবি শহীদ মিনারে সন্ধ্যা নামলে শুরু হয় অন্ধকারের রাজত্ব

কুবি প্রতিনিধি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকার কারণে সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারের রাজত্ব শুরু হয়। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে শহীদ মিনার এলাকায় চলাফেরা করতে পারে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার এলাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকার কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ৬০ টির মতো ল্যাম্পপোস্ট রয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের রাস্তায় কোনো প্রকার বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকার করণে এ রাস্তাটি সন্ধ্যার পরপরই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে। ফলে একটু সন্ধ্যা নামলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এ রাস্তাটিতে ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীদের পদাচারনায় ক্যাম্পাসের প্রায় সকল জায়গা মুখরিত থাকলেও বৈদ্যুতিক সংযোগ ও নিরাপত্তা না থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা সন্ধ্যা নামলেই নিরব হয়ে যায়। এতে করে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারমুখী হয় না। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

লোক প্রশাসন ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহ করিম সাজিদের সাথে কথা বলার সময় উঠে আছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অন্ধকারাচ্ছন্ন কথা। তিনি বলেন,’রাতে ক্যাম্পাসের অনেক জায়গা অন্ধকার থাকে। শহীদ মিনারের দিকে তো যেতেই ভয় হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে অন্ধকার দূর করার জন্য উদ্যোগ নিবে বলে আমি আশা করি।’

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন,’আমরা চাই ক্যাম্পাসের সব জায়গায় যেন সবসময় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে। সেই সাথে শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আক্তার হোসাইন বলেন,’আমাদের ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার এলাকা রাতে অন্ধকার থাকার কারনে অনেক অসামাজিক কার্যক্রম হয়। সেই সাথে পাহাড়ী ক্যাম্পাস হওয়ার কারনে অনেক বিষাক্ত সাপ থাকে, যার ফলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে না।’

শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোঃ সাদেক হোসাইন মজুমদার বলেন,’নিরাপত্তা বিভাগে বর্তমানে লোকবলের সংকট রয়েছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা কর্মী বৃদ্ধি করে ও শহীদ মিনার এলাকার জন্য বরাদ্দ দেয় তবে শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অন্ধকার নিরসনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা জনাতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোঃ জাকির হোসেন বলেন,’নতুন বাজেটে খুব তাড়াতাড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু হবে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বৈদ্যুতিক লাইন টানা হবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা শীঘ্রই বৈদ্যুতিক সযোগের আওয়ায় আনা হবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ