প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি’

মহিব আল হাসান : থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বাংলাদেশের বরেণ্য অভিনেতা ও নির্মাতা আমজাদ হোসেন। গত ২৭ নভেম্বর রাত আড়াইটার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ব্যাংকক নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বিষয়টি জানিয়েছেন নির্মাতা সোহেল আরমান।

সোহেল আরমান জানান, ‘‘সকল প্রশংসা পরম করুণাময় আল্লাহতালার। আল্লাহর অশেষ রহমতে বাবা এখন কিছুটা ভালোর দিকে যাচ্ছেন। ব্যাংককের ডাক্তার পোংসাথর্ন ( নিউরো মেডিসিন ইনটেনসিভ কেয়ার) আমাদের দু ভাইয়ের সাথে কথা বলেছেন। তিনি কিছুটা আশ্বাস দিয়েছেন। তাদের দেয়া ট্রিটমেন্ট আর মেডিসিন খুব ভালো কাজ করছে বাবার উপর। বাবার কিডনি ক্রিটিনাইন লেভেল কমেছে, ইনফেকশন গুলো আর বাড়েনি। বর্তমানে বাবার ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিক হচ্ছে, হার্ট বিটের রেসপন্স ও ভালো।’’

তিনি আরও জানান, বাবার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে ভালোর দিকে যাচ্ছে। যেখানে তার প্লাটিলেটস ২০ হাজারে নেমে গিয়েছিল তা এখন ৫৫ হাজার এর একটু উপরে। এখন বাকি ব্রেণ ড্যামেজ। এই বিষয়টি ডাক্তাররা জানাতে সাত দিন সময় নিয়ে জানাতে চেয়েছেন।

ডাক্তাররা আরও তাকে জানিয়েছেন, যে অবস্থায় তিনি আছেন সে অবস্থায় আমরা তার সুস্থতা কামনা করছেন। সুস্থ হলেও তিনি স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তির সম্যসা হতে পারে। সবশেষ ডাক্তারদের কথা ছিল ‘লেটস হোপ অ্যান্ড প্রে, উই আর ডুইং আওয়ার লেভেল বেস্ট।’

দেশবরেণ্য অভিনেতা ও নির্মাতা আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন আমজাদ হোসেনের দুই ছেলে সোহেল আরমান ও সাজ্জাদ হোসেন দোদুল। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক।

গত ১৮ নভেম্বর রোববার সকাল ৯টার দিকে আমজাদ হোসেনের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার তাঁকে (আমজাদ হোসেন) বিছানার নিচে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কখন তিনি অচেতন হয়েছেন, তা আঁচ করতে পারেননি সুরাইয়া আক্তার। এরপর সকাল ১০টার দিকে তাঁকে ইমপালস্ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন গত রোববার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় আমজাদ হোসেনের।

আমজাদ হোসেন অভিনেতা, পরিচালক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্র শুরু করেন তিনি। পরে চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনা শুরু করেন।

প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ছবিটি পরিচালনা করেন ১৯৬৭ সালে। পরিচালক হিসেবে ‘নয়নমনি’ (১৯৭৬), গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), ভাত দে (১৯৮৪) তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।

‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন। সৃজনশীল কর্মকা-ের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

এ ছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ