প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধে প্রথম লড়াইয়ে অংশ নেন কোন নদীর তীরে?

শেখ রোকন : তারামন বিবির প্রথম যুদ্ধস্থল কোদালকাটিকে অনেককে ভুলবশত ব্রহ্মপুত্রের চর হিসেবে বর্ণনা করেন। এখন যদিও এর চারদিকে ঘিরে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ, একাত্তরে একদিকে ছিলো হলহলিয়া নদী। মুক্তিযোদ্ধারা হলহলিয়া নদী পারি দিয়েই কোদালকাটি যেতেন। পাকবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ঠেকাতে স্ট্রেঞ্চ খনন করা হয়েছিলো হলহলিয়া বরাবর। কোদালকাটি ইউনিয়ন হলহলিয়া নদী দিয়ে বিচ্ছিন্ন ছিলো তৎকালীন থানা সদর রৌমারী থেকে। অতীতে বৃহত্তর রৌমারীর (বর্তমান রাজীবপুর উপজেলাসহ) বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ব্রহ্মপুত্রের সমান্তরালে প্রবাহিত হতো হলহলিয়া। পরবর্তী সময়ে নদীটির একাধিক অংশ খেয়ে ফেলে ব্রহ্মপুত্র। যে কারণে হলহলিয়া এখন টুকরো টুকরো এক নদী।

বড় নদী ছোট নদীকে খেয়ে ফেলার উদাহরণ আরও আছে। ঠিক যেমন অনেক ‘বড়’ মুক্তিযোদ্ধার ছায়ায় হারিয়ে যায় ‘ছোট’ মুক্তিযোদ্ধারা। তারামন বিবিও ২৩ বছর হারিয়ে গিয়েছিলেন। তারামনের রৌমারীতেই সনদ ছিলো না বলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ‘মণি পাগলা’ চায়ের দোকানে থালা-বাসন মেজে জীবন নির্বাহ করেছেন।

তারামন বিবি শেষ পর্যন্ত স্বীকৃতি ও সম্মান পেয়েছেন। সব মুক্তিযোদ্ধা প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার পাক। মুক্তিযুদ্ধে নদীর ভূমিকাও যেন আমরা ভুলে না যাই।

বিদায় তারামন, হলহলিয়ার মেয়ে।

লেখক : সাংবাদিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ