প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্ব এইডস দিবস : নিজেকে জানুন

প্রতীতি শিরিন : পহেলা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস। এই বছর ‘এইচআইভি পরীক্ষা করুন, নিজেকে জানুন’- প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হলো। এইডস-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৮৮ সাল থেকে দিবসটি পালন করে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডাব্লিউএইচও। এ বছর বিশ্ব এইডস দিবসে ডাব্লিউএইচও’র দু’টি লক্ষ্য- এক. নিজের এইচআইভি ভাইরাস পরীক্ষা ও এই রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান। দুই. অন্যান্য রোগ- যেমন : যক্ষা, হেপাটাইটিস ও অন্য অ-সংক্রামক রোগ নির্মূলে যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিলো, এইভআইভি’র ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে নীতি নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান।

এইডস প্রাথমিকভাবে যাকে এইচআইভি বা হিউম্যান ইমিউন ডিফিসিয়েন্সি ভাইরাস বলা হয়। মানবদেহে এইচআইভি প্রবেশের পর, অন্তত ছয় মাস বা এক বছর, কোন কোন ক্ষেত্রে পাঁচ-দশ বছর পরও এইডসের লক্ষণ দেখা যায়। বায়ু, পানি, খাদ্য বা সাধারণ ছোঁয়া বা স্পর্শে এইচআইভি ছড়ায় না। এইচআইভি মানবদেহের কয়েকটি নির্দিষ্ট তরল পদার্থ যেমন-রক্ত, বীর্য, বুকের দুধের মাধ্যমে ছড়ায়। সুনির্দিষ্টভাবে যেসব উপায়ে এইচআইভি ছড়াতে পারে, সেগুলো হলো-এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত অন্য কোন ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করলে, আক্রান্ত ব্যক্তির অঙ্গ অন্য কারো শরীরে প্রতিস্থাপন করলে, আক্রান্তের ব্যবহৃত সূচ বা সিরিঞ্জ অন্য কারো শরীরে ঢুকানো হলে, অনিরাপদ শারীরিক মিলনের ফলে এবং এইডস আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে। গর্ভাবস্থায় ও আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ পান করলেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবে শিশু। বিশ্বব্যাপী এই রোগটি মারাত্বক আকার ধারণ করেছে অনিরাপদ যৌন মিলনের ফলে। বিশেষ করে যৌন কর্মী, সমকামী এবং কারাগারে বন্দীদের মাধ্যমে রোগটি দ্রুত ছড়ায়। এছাড়া মাদকাসক্ত যারা সূচ বা ইনজেকশন ব্যবহার করে মাদক নেয় তাদের মাধ্যমেও রোগটি বেশি ছড়ায়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এইডসে আক্রান্ত। এদের মধ্যে মাত্র ২ কোটি ২০ লাখ চিকিৎসার আওতায় রয়েছে। আর মারা গেছে অন্তত ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে শুধু ২০১৭ সালেই মারা গেছেন অন্তত ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে আবার ৫৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক আর ৫২ শতাংশ শিশু। বিশ্বে আফ্রিকান দেশগুলোতেই এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা সবচে’ বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে এ অঞ্চলে এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৫৭ লাখ। এছাড়া নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও এখানে বেশি। আক্রান্তদের ৭৫ শতাংশ জানে যে, তারা এইডসে আক্রান্ত। যদিও এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি। তারপরও রোগ ধরা পড়ার পর, নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের মাধ্যমে একজন লোক বহুদিন বেঁচে থাকতে পারে।

গত ৩০ বছরে এইচআইভি রোগের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য এলেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করে, কিছু সামাজিক কুসংস্কারের কারণে এর বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। ফলে এখনও এটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। একজন মানুষের এইচআইভি রয়েছে কিনা, তা যত দেরিতে জানা যাবে, তত রোগ ছড়াবে। তাই নীরবতা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে হবে। এইডস প্রতিরোধে জনসচেতনামূলক কর্মসূচিসহ সরকারি-বেসরকারি উভয়ভাবেই ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এইচআইভির প্রকোপ কমাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ