Skip to main content

দেশে শারীরিক প্রতিবন্ধীর সংখ্যাই বেশি

আমাদের সময় : সব শ্রেণির প্রতিবন্ধীকে চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত করতে সরকারের উদ্যোগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সারাদেশে চলছে শনাক্তকরণ জরিপ, যা চলবে ২০২১ সাল পর্যন্ত। জরিপের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ১৬ লাখ ১০ হাজার ৬৯৬ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধিত হয়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধীরা। এর পর রয়েছেন দৃষ্টি, বহুমাত্রিক, বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধীরা।তবে বিশেষজ্ঞরা এ জরিপ প্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, এ জরিপ থেকে দেশে কোন শ্রেণির প্রতিবন্ধীর সংখ্যা কত, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ রকম ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় দেশের সিংহভাগ প্রতিবন্ধীই তালিকার বাইরে থেকে যাবে। এর সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন জরিপসংশ্লিষ্টরাও। এমন বাস্তবতার মধ্যেই আজ ৩ ডিসেম্বর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস। বাংলাদেশে এবার দিবসটির স্লোগান ‘সাম্য ও অভিন্নযাত্রায় প্রতিবন্ধী মানুষের ক্ষমতায়ন’। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসকে কেন্দ্র করে আজ থেকে পাঁচ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এসকে হামিম হাসান। এ ছাড়া সারাদেশে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হবে দিনটি।সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, তাদের অধীনে ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে শুরু হয় প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ কর্মসূচি। এর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে পুরুষ প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৯ লাখ ৮১ হাজার ৭৪১ জন এবং নারী প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৬ লাখ ২৬ হাজার ৫৩৯ জন। এ ছাড়া লিঙ্গ প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪১৬ জন। সূত্র আরও জানায়, জরিপ কার্যক্রমে মোট ৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৭ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী নিবন্ধিত হয়েছেন, যা জরিপের অন্যান্য সব শ্রেণির প্রতিবন্ধীর সংখ্যা থেকে অনেক বেশি। দেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর সংখ্যা এখন ২ লাখ ২১ হাজার ৫৩৭ জন এবং বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ জন। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৯০ জন এবং বাকপ্রতিবন্ধী রয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৩ জন। এ ছাড়া সেরিব্রালপালছি শ্রেণির প্রতিবন্ধী রয়েছেন ৭৩ হাজার ৫১৩ জন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৫৪ হাজার ৬০৭ জন। অটিজমে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৩৮৩ জন, শ্রবণ প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৩৪১ জন। শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬৯৯ জন, ডাউন সিনড্রমজনিত প্রতিবন্ধী রয়েছেন ৩ হাজার ৩৭৭ জন। এ ছাড়া ১৩ হাজার ৪২১ জন অন্যান্য প্রতিবন্ধিতায় ভুগছেন। জরিপ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল বলেন, দেশে শারীরিক প্রতিবন্ধীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ, তারা চলাচলে অক্ষম হলেও বলতে, শুনতে ও দেখতে সক্ষম। ফলে তারা এসে নিবন্ধন করিয়ে গেছেন। অন্য প্রতিবন্ধীরা তো তা পারেন না। তা ছাড়া অনেকে জানেনই না নিবন্ধনের ব্যাপারে।আবদুুস সাত্তার নিজেও একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তবে তিনিও এখনো নিজের নাম নিবন্ধন করেননি জানিয়ে বলেন, এ জরিপের কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের জরিপের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি ও নীতি রয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর তা অনুসরণ করছে না। যেমন যারা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, তাদের চিকিৎসকরা শনাক্তই করতে পারছেন না। টাঙ্গাইল ডিজেবল পিপলস অর্গানাইজেশন টু ডেভেলপ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক জানান, প্রান্তিক পর্যায়ে এ জরিপ ব্যর্থ। উপজেলা পর্যায়ে যে চিকিৎসকরা প্রতিবন্ধীদের শনাক্ত করছেন, তারা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত নন। তারা প্রতিবন্ধীদের শ্রেণিভুক্ত করতে অক্ষম।জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সাবেক সভাপতি খন্দকার জহুরুল আলমও এসব বিষয়ে একমত। তিনি বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণে দেখেছি, প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণের বিষয়টি আমাদের চিকিৎসকরা বোঝেন না।এদিকে প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণে লোকবল ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে বলে স্বীকার করেন জরিপ কর্মসূচির পরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতারও ঘাটতি রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে প্রতিনিয়ত কর্মী ও চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আমাদের যে বাজেট, তা পর্যাপ্ত ছিল না। এখন বরাদ্দ বাড়ানোয় সবকিছু অনেক উন্নত। তবে এ নিবন্ধনের বিষয়ে যথেষ্ট প্রচারেরও অভাব রয়েছে। বিষয়টি ভালোভাবে প্রচার দরকার।

অন্যান্য সংবাদ