প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুখোমুখি আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেন
‘আমার ১০ ভাগ ছবিও দেশবাসী দেখেনি’

বাংলা ট্রিবিউন : পাঁচ দশক ধরে ছবি তুলেছেন আনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশে সিনেমা নিয়ে যদি ‘সেরা ২০টি’র তালিকা করা হয়, তবে তার বেশিরভাগেরই সিনেমাটোগ্রাফার তিনি। যে ক’জন আলোচিত্রী দেশ-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছেন, তিনি তাদের অন্যতম একজন। সব খ্যাতির পেছনে লুকায়িত থাকে বিড়ম্বনা। তিনিও ব্যতিক্রম নন। খ্যাতি যেমন কুড়িয়েছেন, তেমনি বিবিধ কারণে তার হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ-অভিমানও কম নয়। ক্যামেরার সঙ্গে কবে থেকে, কীভাবে তার আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠল এবং ছবি তোলাকে কেনইবা জীবনের একমাত্র অবলম্বন করে নিলেন, সেসব না বলা কথা শুনিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ আলাপচারিতায় মনেই হয়নি তিনি প্রৌঢ়ত্বে প্রবেশ করেছেন। সশব্দে কথা বলা, হাসিঠাট্টা, দেশি আর ফরাসি মিশেলের বাচনভঙ্গি—সবকিছুতেই ছিল তারুণ্যের ছাপ। ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর নেওয়া আনোয়ার হোসেনের এই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো  পাঠকদের জন্য।

ছবি এঁকে পুরস্কার
সবাই জানেন তিনি ছবির মানুষ। ছবিই তার ধ্যান-জ্ঞান। কিন্তু কজনইবা জানেন, আজকের বিখ্যাত ফটোগ্রাফার আনোয়ার হোসেন স্কুলে থাকতে ছবি এঁকে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। তারপর হঠাৎ করেই ছবি আঁকায় ইতি ঘটিয়ে কেন ছবি তোলায় মনোযোগী হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখনকার আর্ট কলেজের নিচতলায় ক্লাস হতো। আগা নওয়াব দেওড়ি থেকে সেখানে আর্ট শিখতে যেতাম। আমিনুল স্যার আমাদের আঁকা শেখাতেন। ছোট কাটরা, বড় কাটরা এমনকি কামরাঙ্গীরচরে গিয়েও ছবি আঁকতাম। তখন কামরাঙ্গীরচর সত্যিকার গ্রাম ছিল। আমার ছবিতে বেদনা প্রকাশ পেতো। হয়তো পরিবারের আর্থিক অনটনই এর কারণ ছিল। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলাম। পরের বছর পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে সেকেন্ড প্রাইজ অর্জন করি। এরমধ্যে একদিন মা বললেন, ‘ছবি আঁকলে সারা জীবন না খেয়ে থাকতে হবে।’ মায়ের এই কথাকে আমি ভীষণ গুরুত্ব দিলাম। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আর আঁকবো না, বরং ছবি তুলবো। ১৯৬৫ সালে আরমানিটোলা স্কুল থেকে এসএসসিতে বোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করি। নটরডেম কলেজে ভর্তি হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম, ভবিষ্যতে আর্কিটেক্ট হবো।
প্রথম ক্যামেরা-প্রথম ছবি-প্রথম পুরস্কার
১৯৬৭ সালে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বৃত্তির টাকা দিয়ে প্রথম ক্যামেরা কিনেছিলাম। ওটা ছিল বক্স ক্যামেরা- Agfa Clack-Z। বন্ধু আনোয়ারুল খালেদ চৌধুরীর কাছ থেকে ৩০ টাকায় কিনেছিলাম।
এখনও আমার মনে আছে দেড় টাকায় একটি সাদাকালো ফিল্ম কিনেছিলাম। এক ফিল্মে ছবি ওঠে মাত্র ৮টি। বাসায় ৪টি স্ন্যাপ নিই। তারপর গেলাম কামরাঙ্গীরচরের দিকে। হাঁস, গরুর গাড়ি, সোনানি খড়ের গাদার ছবি তুলে যখন শেষ স্ন্যাপটি বাকি, তখন চোখে পড়ল ধোপার কাপড় ধোয়ার দৃশ্য। দড়িতে শুকাতে দেওয়া কাপড় উড়ছে। দূরে চিল উড়ছে। আর ধোপা কাপড়ে পানি ঢালছে। আমি পানিতে নেমে সূর্য পেছনে রেখে বাটন টিপলাম। কেন জানি মনে হলো ছবিটা ভালো হয়েছে।
ইন্দিরা রোডে গোলাম কাসেম ড্যাডির ‘ক্যামেরা রিক্রিয়েশন ক্লাবে’ ছবিটা জমা দেই। তারা তখন বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল। আমার এই ছবিটা ওই উৎসবে দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করে এবং ছবি তুলে এই প্রথম পুরস্কার পেলাম।
আনোয়ার হোসেনএখানে ড্যাডি ছাড়াও এম এ বেগ, বিজন সরকার, গোলাম মোস্তফার সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলাম। তারা আমাকে ছবি তোলার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিল। এভাবেই আমার ‘ছবি আঁকা’র বিষয়টি ‘ছবি তোলা’য় রূপান্তরিত হয়েছিল।
আমার আরেক বন্ধু ছিল সুজিত কুমার সাহা। আমি, খালেদ আর সুজিত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলাম। তিনজনেই ছবি তুলতাম। সবাই আমাদের ডাকতো ত্রিরত্ন বলে। সুজিত অবস্থাপন্ন পরিবারের সন্তান। থাকতো ওয়ারীতে। ও একদিন ঘোষণা দিলো ছবি তুলে আর সময় নষ্ট করবে না! অ্যারো মডেল তৈরি করবে এবং আকাশে ওড়াবে। যেই কথা সেই কাজ। সুজিত তার ক্যামেরা বেচবে। ওর কাছ থেকে ১৪০ টাকায় Kodak Retina 2-C ক্যামেরাটি কিনলাম। সেটি ছিল আমার দ্বিতীয় ক্যামেরা।
মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোয়
আমি তখন বুয়েটে স্থাপত্যের ছাত্র। হলে থাকি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন ছিল উত্তাল। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ছয় দফা আন্দোলন এসব কেবল রাজনীতিকদেরই বিষয় ছিল না। সাধারণ মানুষও অধিকার আর দাবিদাওয়ার প্রশ্নে জেগে উঠতে শুরু করে। তারপর ঊনসত্তরের গণআন্দোলন এবং একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ। আমি সরাসরি রাজনীতিতে না জড়ালেও এসব কিছুই আমাকে ছবি তুলতে প্রভাবিত করেছে।
একাত্তরের ২১ মার্চ গ্রামের বাড়ি দোহারে গেলাম। ২৬ মার্চ সকালে সেখানে বসেই ঢাকার ক্র্যাকডাউনের খবর পাই। চিন্তায় পড়ে গেলাম। ঢাকায় আমার পরিবার কেমন আছে। হলের কক্ষে আমার প্রচুর নেগেটিভ ছিল, সেগুলো উদ্ধার করতে হবে। ২৯ মার্চ ঢাকায় চলে আসি। আসার সময় গ্রামমুখী মানুষের স্রোত দেখতে পাই। জিঞ্জিরায় এসে দেখি ঢাকার আকাশ সবুজ পতাকায় ছেয়ে গেছে। ভয়ে মানুষ পাকিস্তানি পতাকা উড়িয়েছে।
ভয়ে ভয়ে হলে গেলাম। দেয়ালে গুলির চিহ্ন। মিলিটারিরা হলের কক্ষগুলো তছনছ করেছে। আমার ৩০৩ কক্ষটিও বাদ যায়নি। এসবের ছবি তুললাম। সৌভাগ্য যে কক্ষে রাখা আমার নেগেটিভগুলো অক্ষত ছিল।
৩০ মার্চ ছোট ভাই ইকবালকে নিয়ে সাইকেলে করে প্রথমে নয়াবাজারে গিয়ে ছবি তুলি। পরে ওখান থেকে শাঁখারী বাজারে যাওয়ার পথে আজাদ হলের সামনে আর্মির দেখা পাই। আরেকটু সামনে যেতেই দেখি অনেক লাশ পড়ে আছে এবং কাকে খাচ্ছে। দ্রুত ছবি তুলে আমি ক্যামেরাটা লুকানোর চেষ্টা করি। হঠাৎ দুজন যুবক এসে আমাকে ধরে ফেলে। তারা ছিল বিহারি। আমার ছোট ভাই ইকবাল সাইকেল নিয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিল।
আমি ভালো উর্দু জানতাম। ওদের নানানভাবে বোঝানোর চেষ্টা করি। আইডি দেখাই। কিন্তু ওদের একজন আমার ক্যামেরা, ঘড়ি, টাকাপয়সা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার পক্ষে। অন্যজন আমাকে মিলিটারিদের হাতে তুলে দিতে চায়। বিপদ আঁচ করতে থাকি। ওরা আমাকে পাশের একটি গলির ভেতরে নিয়ে যায়। যে যুবকটি ছেড়ে দেয়ার পক্ষে সে প্রথমে ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নিলো, এরপর ঘড়িটি খুলতে গেলে আমি এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে সর্বশক্তি দিয়ে দৌড় দেই। ওরাও পেছনে পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে একপর্যায়ে হাল ছেড়ে দেয়। সোজা বাসায় চলে আসি। ইকবালও পরে বাসায় ফিরে আসে। এ ঘটনা শোনার পর বাবা পুনরায় আমাকে গ্রামের বাড়ি দোহারে পাঠিয়ে দিলেন।
গ্রামে যাওয়ার আগে পালিয়ে একদিন আমি শাঁখারী বাজারে সাধন রায়ের কাছে গেলাম কিছু ফিল্ম চাইতে। তিনি তখনই বিখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার। তার কাছে ফিল্ম ছিল না। তিনি আমাকে একটা নতুন ক্যামেরা দিলেন-Yasika 635। এরপর মাঝে মাঝে ঢাকায় এলেও যুদ্ধের পুরো সময়টা গ্রামেই ছিলাম। ওখানে মিলিটারিরা আগুন দিয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। গণহত্যা করেছে। আমি সেসবের ছবি তুলেছি। যুদ্ধে যেতে চাইতাম, কিন্তু আমার বন্ধুরা আমাকে রিস্ক মনে করতো। ওরা আমাকে না নিয়ে ফাঁকি দিয়ে যুদ্ধে চলে যায়। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকেও যুদ্ধে যাওয়ার কথা বলেছিলাম। সেও নিতে চায়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধ আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় এই অর্থে যে, এ সময় আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ছবিগুলো তুলেছি। মুক্তিযুদ্ধের সেসব ছবির নেগেটিভ আজও আমার সংগ্রহে রয়েছে।
অপ্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমাটোগ্রাফার
স্বাধীনতার পর পুনরায় আনোয়ার হোসেন বুয়েটে পড়াশোনায় মনোযোগ দেন। ১৯৭৪ সালে বুয়েটে থিসিস জমা দেয়ার পর ফিল্মে উচ্চশিক্ষা নিতে চলে যান পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ডিস্টিংকশনস-সহ ডিগ্রি নিয়ে ১৯৭৭ সালে দেশে ফিরে আসেন। এ সময় শেখ নিয়ামত আলীর ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’, বাদল রহমানের ‘এমিলের গোয়েন্দা কাহিনী’র সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে আনোয়ার হোসেনের নাম ছড়িয়ে পড়ে। ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’র নায়িকা ডলির প্রেমে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তারা বিয়েও করেন।
আনোয়ার হোসেনআশির দশকজুড়ে দেশের সিনেমাটোগ্রাফিতে আনোয়ার হোসেন ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এর স্বীকৃতিও পেয়েছেন। শ্রেষ্ঠ সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। এমন সময় স্ত্রী ডলির অকাল মৃত্যু আনোয়ার হোসেনের জীবন তছনছ করে দেয়। সংসারে উদাসী হয়ে পড়েন। এই শিল্পীর কাজের স্বীকৃতির ৬০টি মেডেল ও সার্টিফিকেটগুলো তখন হারিয়ে যায়।
এরপর তিনি বিয়ে করেন ফরাসি তরুণী মারিয়ামকে। সেই সূত্রে ১৯৯৭ সালে আনোয়ার চলে যান ফ্রান্সে। দুই পুত্র আকাশ, মেঘদূত আর মারিয়ামকে নিয়ে সেখানেই গড়ে তোলেন সুখের সংসার। ছবি তুলতে ছুটে বেড়ান দেশ থেকে দেশান্তরে। ফ্রান্স ছাড়াও পশ্চিমের বিভিন্ন দেশ থেকে ছবির জন্য পদক, খ্যাতি, সুনাম কুড়ালেও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা আর দায়বদ্ধতার টানে স্ত্রী-পুত্রদের ছেড়ে বছর দুয়েক আগে আবারও দেশে ফিরে আসেন আনোয়ার হোসেন। তার ভাষায়—
আমার স্ত্রী ও পুত্ররা কিছুতেই আসতে দিতে চায়নি। কিন্তু ওখানে আমার ভালো লাগছিল না। ‘আমি হাঁপিয়ে উঠছিলাম। সে কারণেই চলে আসা। যেহেতু ছবি-ই আমার একমাত্র অবলম্বন, বাকি দিনগুলো দেশে থেকেই ছবি তুলতে চাই’- বললেন তিনি।
অভিমানী মন
দেশে ফেরার পর আনোয়ার হোসেন এখানকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিও নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দেখতে পেলেন সবকিছুই কেমন যেন পাল্টে গেছে। দেশের মাটিতে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিই কী এর কারণ! তিনি বুঝতে পারলেন ফটোগ্রাফির জগতটা আগের মতো নেই। শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসার বদলে এখানেও পলিটিক্স ঢুকে পড়েছে। কেউ কারও ভালো দেখতে চায় না, ঈর্ষা কাজ করে।
ঠুনকো এক কারণে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মনোমালিন্য হলে চাকরিটা ছেড়ে দেন তিনি। এবার সত্যি সত্যিই তার জন্মের শহর ঢাকা- প্রিয় রাজধানী ঢাকার প্রতি ভীষণ রাগ, ক্ষোভ আর অভিমান হয় তার। চারপাশের সবাইকে কেমন যেন অচেনা লাগে। অভিমান নিয়েই ঢাকা ছাড়লেন। এবার গন্তব্য পদ্মাপাড়ের ছোট্ট শহর শরীয়তপুর। নিতান্তই কোলাহলহীন জৌলুসহীন এ শহরে গত বছরখানেক ধরে আছেন তিনি।
ওখানকার ছবির বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে আনোয়ারের জবাব-
শরীয়তপুরের জনপদগুলো অনেক সমৃদ্ধ। ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। আমি সেগুলো নিয়ে অনুসন্ধান ও গবেষণা করছি। প্রচুর কাব্যিক ছবি তুলছি। কিন্তু আজকের বিশ্ব তো এসব চায় না। ওয়ার্ল্ড চায় ড্রামাটিক পিকচার।
পদ্মার দুই পাড়ে ‘পদ্মা ব্রিজ’ নির্মাণের যে মহা তাণ্ডব চলছে সেসবের ছবি তুলছি। এই ব্রিজ নির্মাণকে কেন্দ্র করে কীভাবে গ্রাম দ্রুত সিভিলাইজেশনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, অর্থাৎ পদ্মা ব্রিজের পূর্বাপর ইতিহাসটা ক্যামেরায় ধরে রাখছি। বলতে পারেন এটাই এখন আমার সাবজেক্ট।
আনোয়ার হোসেনদারিদ্র্যের সেই দিনগুলো
আনোয়ার হোসেনের বাবা মোহাম্মদ হোসেন ফকির ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সারির সিনেমা পরিবেশক ‘স্টার ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটর’-এর স্বত্বাধিকারী। তিনি বিয়ে করেছিলেন দুটি। দ্বিতীয় স্ত্রীকে যেদিন ঘরে আনলেন, আনোয়ারের মা আসাদুন্নেসা বললেন, ‘আনু, তুই এ ব্যাপারে কিছু বলবি না। কারণ, তোর বাবাকে আমি ভালোবাসি।’ ‘যেহেতু বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীকে মা মেনে নিয়েছেন, তাই আমিও আর বাবাকে এ নিয়ে ঘাঁটাইনি। তবে দ্বিতীয় মায়ের সঙ্গে দশ বছর কথা বলিনি’- বললেন আনু।
আনোয়ার হোসেনের ডাক নাম আনু। ছয় ভাই তিন বোন তারা। এমনিতেই টানাটানির সংসার। এরমধ্যে তার পিতা ব্যবসা ছেড়ে অবসর নিলেন। তখন পুরো পরিবারটির সামনে অন্ধকার নেমে আসে। আনুর জবানিতে শোনা যাক সেই কথা, ‘আমরা খুবই গরিব ছিলাম। মাত্র এক টাকার বাজার করতাম। তা-ই দিয়ে সংসার চলতো। সদরঘাটে নদীর তীরে ছিল লাকড়ি বিক্রেতাদের আড়ত। ওখানে গিয়ে টোকাইদের মতো লাকড়ির টুকরো কুড়িয়ে বস্তায় ভরে নিয়ে আসতাম। তা দিয়েই মা রান্না করতেন। বাবা সময় মতো স্কুলের বেতনও দিতে পারতেন না। তবে আমি ক্লাসে প্রথম হতাম। স্কুলের পড়াশোনা করেছি বৃত্তির টাকায়।
স্বপ্নের আর্কাইভ
এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন বলেন, ছবি তোলাকে কখনওই ব্যবসা হিসেবে নেইনি। জীবনে অর্থবিত্তের পেছনেও ছোটেনি। এখন এই শেষ বয়সে এসে স্বপ্ন দেখছেন একটি আর্কাইভ গড়ে তোলার। বললেন, ‘আমার সংগ্রহে থাকা ছবির ১০ ভাগও দেশবাসী দেখেনি।’ জানান, ফ্রান্সে ১০টি ট্রাংকভর্তি নেগেটিভ, স্লাইড, ডকুমেন্টস রয়েছে। সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে চান। কিন্তু একটি আর্কাইভ গড়ে তুলতে ন্যূনতম যে অর্থের প্রয়োজন, তাও নেই তার হাতে। কোত্থেকে আসবে তাও জানেন না। এজন্য প্রয়োজন সহযোগিতা।
তিনি বলেন, ‘সহযোগিতা পেলে আর্কাইভটি গড়ে তুলবো, নয়তো আবারও ফ্রান্সেই ফিরে যেতে হবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ