প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চারজনে একজন বাতিল

আমাদের সময় : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যাচাই-বাছাইয়ে ৩ হাজার ৬৫ প্রার্থীর মধ্যে ৭৮৬ মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সংখ্যানুপাতে ২৫.৬৫ শতাংশ এবং গড়ে চার প্রার্থীর মধ্যে একজনের মনোনয়পত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের নজির নেই।গতকাল রবিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে প্রার্থিতা বাতিলের রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিএনপি এবং তার শরিক দলের। অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে, এর মধ্যে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বেশি। ৬ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থীই থাকল না। খালেদা জিয়ার তিন আসনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়। উপজেলা চেয়ারম্যানদের মধ্যে যারা পদত্যাগ করে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি উল্লেখ করে অধিকাংশের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।সারাদেশে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোয় দ-, ঋণ ও বিলখেলাপিসহ বিভিন্ন কারণে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গতকাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রার্থীরা তাদের প্রস্তাব ও সমর্থককে নিয়ে ডিসি কার্যালয়ে হাজির হন। সেখানে বাছাই প্রক্রিয়া শেষে প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঢাকা বিভাগের ৭০ আসনের ৭৩১ প্রার্থীর মধ্যে ১৯২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের (কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল) ৫৮ আসনের ৬৭৭ মনোনয়নপত্রের ১৭৩টি বাতিল করা হয়। রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ৩৫৫টি, বাতিল হয় ৯৬টি; বরিশাল বিভাগে ২১ আসনের ১৮৩ প্রার্থীর মধ্যে ৩৮টি এবং রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের ৩৫৩ প্রার্থীর ৯১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। খুলনা বিভাগের৩৬ আসনের ৩৫১ প্রার্থীর মধ্যে ৯০ জন; সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের ১৮৪ প্রার্থীর ৪৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪ আসনের ২৩১ প্রার্থীর মধ্যে ৬২ জনের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ৩৫ আসনেকোনো মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি।নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সারাদেশে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিলের ওপর শুনানি হবে ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর।জানা গেছে, বিএনপিসহ অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকেই এখন বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করবেন। সেখানে মনোনয়নপত্র বৈধ না হলে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে অনেকে জানিয়েছেন।আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঢাকা-১, বগুড়া-৭, মানিকগঞ্জ-২, রংপুর-৫, জামালপুর-৪ ও শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এসব আসনে বিএনপি মনোনীত অন্তত ১০ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অনেক হেভিওয়েট এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্যের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিএনপি নেতা মোরশেদ খান, মীর নাছির উদ্দিন, আমানউল্লাহ আমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, আসলাম চৌধুরী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, গোলাম মাওলা রনি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের রেজা কিবরিয়া, জাতীয় পার্টি মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, হিরো আলমসহ অনেক নেতার মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়েছে। এর আগে কখনো এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থী এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতার মনোনয়নপত্র বাতিলের নজির নেই।গুলশান কার্যালয়ে সন্ধ্যায় ২০ দলের বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, খালেদা জিয়াসহ ২০ দলের ৮০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে এটিই লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড। আইন সবার জন্য এক। কোনো একটি দলের প্রধান হলেই তার জন্য তো আইন অন্য রকম হবে না। এতে প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে।দলীয় প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য ক্ষমতাসীনদের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের ‘নীল নকশার অংশ’ হিসেবেই বিএনপি চেয়ারপারসনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অলি আহমদ বলেন, বাছাইয়ে জোটের ৮০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে সরকারি দলের জয়লাভকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার কে বলেন, মনোনয়নপত্র বৈধ-অবৈধ যাছাই একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তু কতটা নিরপেক্ষভাবে এ আইনের প্রয়োগ হয়েছে তা দেখার বিষয়। তুচ্ছ কারণে অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যাদের সঙ্গে সরকারের ব্যবসা আছে, তাদের কারও মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়নি। তাই এ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রিটার্নিং অফিসাররা মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন। আপিলের সুযোগ তো আছে। আপিল করা যাবে।এত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ ভিন্নতা আসবে। জোটভিত্তিক দলগুলোর আসন বণ্টনেও পরিবর্তন হবে। কয়েকটি আসনে জোটের প্রার্থীদের প্রার্থিতা অবৈধ হওয়া নতুন আসন নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হবে।তবে বিরোধপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর মনোনয়নপত্র বাতিলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় রাজনৈতিক বিরোধ আরও বাড়তে পারে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো শক্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত