Skip to main content

দেশ ছেড়ে পালানোর অভ্যাস আছে বিএনপির : ড. হাছান মাহমুদ

মো.ইউসুফ আলী বাচ্চু : বিএনপি নেতাদের দেশ ছেড়ে পালানোর অভ্যাস আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য - আওয়ামী লীগ ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য রাজনীতি করে। ক্ষমতায় থাকি বা না থাকি অতীতেও জনগণের সঙ্গে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে রিজভী আহমেদ বলেছেন আওয়ামী লীগ নেতাদের নাকি পালাতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের পালানোর ইতিহাস নাই। দেশ ছেড়ে পালানোর অভ্যাস আছে বিএনপির। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনীতি করবে না মুচলেকা দিয়েই দেশ ছেড়ে পালিয়ে ছিল। এখন পর্যন্ত মামলার আসামি হওয়ার পরে মামলা মোকাবেলাও করেনি। তাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানই পলাতক। বিএনপির আরও বহু নেতা ২০০৬-২০০৮ সাল থেকেই পলাতক। এবার ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর জনগণ তাদের আর পালাতে দিবে না। সুতরাং রিজভী আহমেদসহ বিএনপি নেতাদের অনুরোধ করবো আপনারা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করবেন না। 'ইচ্ছাকৃতভাবে বিএনপি নেতাদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হচ্ছে' বিএনপি নেতা রুহল কবির রিজভীর সাম্প্রতিক এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও ঋণখেলাপিদের। প্রত্যেকটি মনোনয়ন পত্র রিটার্নিং অফিসার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যেগুলো বৈধ সেগুলোকে বৈধ ঘোষণা করেছে। আর যেগুলো বাতিল যোগ্য সেগুলোকে বাতিল করেছে। বাতিল কি কারণে করা হচ্ছে সেটিও সুনির্দিষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি চায় তাদের দণ্ডিত আসামীদের মনোনয়ন বৈধ হোক। বিভিন্ন কারণে অন্যান্য দলেরও মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে। এটি শুধু বিএনপির বেলায় হয়েছে তা নয়। বিএনপি এখন দুর্নীতিবাজদের মনোনয়ন দিয়ে স্লোগান দিচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। বিএনপির রাজনীতি মিথ্যাচারের উপর প্রতিষ্টিত উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের রাজনীতি অপপ্রচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা প্রতিনিয়ত সংবাদ সম্মেলন করে অপপ্রচার করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে আসছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা অপপ্রচার আরও বাড়িয়েছে। এসব অপপ্রচার বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডি, ভুয়া নিউজ পোর্টাল ও বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমের হুবুহু নিউজ পোর্টাল খুলে তারা সেই অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পীদের নামে তারা নিউজ পোর্টাল খুলেও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চরম অপচেষ্টা তারা চালিয়ে আসছে। এসব অপপ্রচার চালানোর ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইউআরএল(ওয়েব ঠিকানা) ব্যবহার করে। একটি বন্ধ করলে আরেকটি দিয়ে শুরু করে। লন্ডনে, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব কর্মকান্ড বেশি করে চালানো হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মকে ব্যবহার করেও অতীতের মতো অপপ্রচার চালানো শুরু করেছে। বিএনপির অপপ্রচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার প্রমাণ আপনারা দেখেছেন, কয়েকদিন আগে কামাল হোসেন, আলামিন এবং এনামুল নামে তিনজনকে ধরা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই ছাত্র শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও তারা যুক্ত। ধরা খাওয়ার পর তারা স্বীকার করেছে। রিজভী আহমেদসহ বিএনপি নেতাদের অনুরোধ জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নিজেরা যে অপকর্মগুলো করছেন সেগুলো বন্ধ করুন। অন্যদের ওপর নিজেদের অপকর্ম চাপানোর চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অপপ্রচার করে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে বদলে গেছে আমরা সেটাই প্রচার করি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য কামাল হোসেন প্রমূখ।

অন্যান্য সংবাদ