প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রশিক্ষণ পেলেন, ভাতা পেলেন না!, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর অবরুদ্ধ

জয়নুল আবেদীন, আমতলী : প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের আমতলী উপজেলা শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ পেলেন, ভাতা পেলেন না। প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আখতারুজ্জামানকে অবরুদ্ধ করেছে শিক্ষকরা। ঘটনা ঘটেছে রবিবার দুপুরে আমতলী উপজেলা পরিষদের সমাজসেবা অফিসের সামনে।

প্রকল্প অফিস সূত্রে জানাগেছে, প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের আওতায় আমতলী উপজেলায় ৩’শ কেন্দ্রে বয়স্কদের স্বাক্ষরতা দানের জন্য ছয় শত শিক্ষক ও ১৫ জন সুপার ভাইজার নিয়োগ দেয়। এ প্রকল্পের মেয়াদকাল প্রশিক্ষণ শুরু থেকে ছয়মাস। বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা নাইস এ প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন। ওই শিক্ষকরা প্রতি মাসে ২হাজার ৪’শ টাকা বেতন ও সুপার ভাইজার ২ হাজার ৫’শ টাকা বেতন পাবেন। কার্যক্রম শুরুর লক্ষে গত ৩ নভেম্বর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করে। পর্যায়ক্রমে ৬’শ জন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়।

পাঁচ দিনের এ প্রশিক্ষণে প্রতিদিনে জনপ্রতি ৩’শ টাকা করে এক হাজার ৫’শ টাকা ভাতা পাবেন প্রশিক্ষনার্থীরা। প্রশিক্ষণ শেষে ওই শিক্ষকদের টাকা প্রদানের রেজিষ্টারে স্বাক্ষর নেন বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা নাইস কর্তৃপক্ষ। গত এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশিক্ষনার্থীদের ভাতার টাকা পরিশোধ করেনি। আজকাল পরিশোধ করবে বলে ঘুরাতে থাকে। রবিবার প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আখতারুজ্জামান ও উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার ওহিদুল ইসলাম টাকা পরিশোধের কথা বলে শিক্ষকদের আমতলীতে আসতে বলেন।

সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও প্রোগ্রাম অফিসারের কোন খোঁজ নেই। তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানান শিক্ষকরা। ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক শিক্ষকরা কো-অর্ডিনেটর আখতারুজামানকে আমতলী উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের সামনে অবরুদ্ধ করে রাখে। এদিকে অভিযোগ রয়েছে বে-সরকারী সংস্থা নাইস শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়ে এলাকা জরিপের কাজ সম্পন্ন করেছেন। ওই জরিপে টাকা দেয়ার কথা থাকলেও টাকা না দিয়ে উল্টো সিএমসি কমিটি করে জনপ্রতি এক’শ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

শিক্ষক মিরাজ, সুমন ইসলাম, ফারজানা আক্তার ও খালেদা আক্তার জানান, বে-সরকারী সংস্থা নাইস কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষণ দিলেও গত একমাসে ভাতার টাকা পরিশোধ করেনি। আজকাল পরিশোধ করবে বলে ঘুরাতে থাকে। আসাদুজ্জামান খাঁন, আরিফুর রহমান বাচ্চু শরীফ জানান, প্রশিক্ষণ শেষে ভাতা প্রদানের রেজিষ্টারে স্বাক্ষর নিলেও টাকা পরিশোধ করেনি। টাকা পরিশোধ না করে কালক্ষেপন করতে থাকে। আমরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছি।

সালেহা বেগম ও মাইনুদ্দিন জানান, জরিপে টাকা দেয়ার কথা থাকলেও টাকা না দিয়ে উল্টো একশত টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নিয়োগকারী সংস্থা নাইস কর্তৃপক্ষ।

বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা নাইস’র আমতলী উপজেলা প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আখতারুজ্জামান ভাতা দিতে বিলম্বের কথা স্বীকার করে বলেন, এ টাকা পরিশোধ করবে সহকারী পরিচালক পারভেজ আকতার খান ও উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার ওহিদুল ইসলাম। কেন তারা ভাতার টাকা পরিশোধ করেনি তা আমি জানিনা। এটা আমার দায়িত্ব নয়। তবে তিনি শিক্ষকদের কাছ থেকে একশত টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

আমতলী উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ ওহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৭৩৪৭৬৭৯৮৮) যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আমতলী উপজেলা উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের সভাপতি ইউএনও মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, এটা আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ