প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উৎসব মুখর পরিবেশে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২১ বছর পূর্তি উদযাপন

জয়দেব রানা, আলীকদম : পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় রবিবার (২ ডিসেম্বর ২০১৮) সকালে শান্তি র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সারাদিন ব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।

লামা ও আলীকদম উপজেলার সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, হেডম্যান-কার্বারী, শিক্ষক, সাংবাদিক, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় লোকজন অংশগ্রহণে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয় । র‌্যালীর নেতৃত্ব দেন আলীকদম জোন কমান্ডার ২৩ বীর এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল সাইফ শামীম পিএসসি।

সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে র‌্যালীটি শুরু হয়ে উপজেলা শহর প্রদক্ষিণ শেষে আলীকদম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গনে অবস্থিত স্মৃতিসৌধের সামনে আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়।

আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল সাইফ শামীম পিএসসি । বিশেষ অতিথির হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজিমুল হায়দার, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-এ-জান্নাত রুমি, লামা সার্কেলের এএসপি আবু ছালাম চৌধুরী, লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাঈল, আলীকদম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাইনথপ ম্রো, লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা, আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিক উল্লাহ্, ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন ও লামা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান।

সহকারি শিক্ষক মিসেস পাইনুসাং মার্মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজিমুল হায়দার, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-এ-জান্নাত রুমি, লামা সার্কেলের এএসপি আবু ছালাম চৌধুরী, লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাঈল, আলীকদম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাইনথপ ম্রো, লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা, আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিক উল্লাহ্, ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লামা পৌরসভার মেয়র মো: জহিরুল ইসলাম, লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ, ১৭ আনসার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, লামা প্রেসক্লাবের সাাাধা সম্পাদক কামরুলইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১০-১৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক ছিল, বর্তমানের হিসাব অনুযায়ী এ অঞ্চলে ১৫শ’ কিলোমিটরের বেশি সড়ক হয়েছে। আরো সড়কপথ তৈরি হবে। প্রচুর ব্রিজ, কালভার্টসহ পর্যটন বিকাশ ঘটেছে।
বক্তারা আরো বলেন, বেসরকারি ও সরকারি প্রশাসন সেনা বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। পার্বত্য এলাকায় সেনা বাহিনী শিক্ষা, রাস্তা-ঘাট, সামাজিক উন্নয়নসহ সকলক্ষেত্রে কাজ করছে। সেনাবাহিনী এসব কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। কিছু কুচক্রি মহল শান্তিতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। সকলের সম্মিলত প্রচেষ্টায় সেটাও নির্মুল করা সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমাণ্ডার লে. কর্ণেল সাইফ শামীম, পিএসসি বলেন, শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পার্বত্যাঞ্চলের শান্তি-সম্প্রীতি ও উন্নয়ন হলেও এখনো দুর্গম পাহাড়ের কিছু মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়নি। এ অবস্থার উত্তোরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। শান্তিচুক্তির পর সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ হয়ে এতদাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ অবকাঠামোর প্রভুত উন্নতি সাধিত হয়েছে।

আলোচনা সভা শেষে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়া জোন সদরে প্রীতিভোজ, বিকাল তিনটায় প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ও সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হবে ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ