প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১০ বছরে রাজস্ব আদায় সাড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

রমজান আলী : নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ২০০৮ সালের ৬ই জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মত শপথ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। সেই থেকে গত ১০ বছরে দেশ বদলেছে, গতিশীল হয়েছে অর্থনীতির চাকা। নজরকাড়া অগ্রগতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।

২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের সময়কালে বাংলাদেশে এনবিআর রাজস্ব আদায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ সময়ে রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধি এবং কর রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত স্বাধীনতা উত্তরকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। এ সময়ে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর আদায়ের হারও ছিল বেশি, যা দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সারা দেশে রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা ও অধিকতর রাজস্ব আহরণের যুগপৎ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের মোট কর রাজস্বের প্রায় ৮৬ শতাংশ আহরণ এবং জাতীয় বাজেটের প্রায় ৬০ শতাংশ যোগান দিচ্ছে এ বিভাগ।

২০০৮-২০০৯ সময়ে রাজস্ব ৫২,৫২৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২,০৬,৪০৭.২৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১,৭১,৬৫৬.৪৪ কোটি টাকা। গত দশ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯৮ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং গড় প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর ও জিডিপির অনুপাত ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশে এ উন্নীতকরন। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১,৮৫,০০০.০০ কোটি টাকা ও আহরণ হয়েছিল ১,৭১,৬৫৬.৪৪ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আহরণ হয় দুই লাখ ছয় হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৩ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। গত দশ বছরে এনবিআরের আহরিত রাজস্বের পরিমাণ প্রায় চারগুণ বেড়েছে। গত দশ বছরের মধ্যে রাজস্ব আদয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৬ বার। এক্ষেত্রে বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি ছিল ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা আগের সরকারের সময়কার অর্জিত প্রবৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ।

এছাড়া বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার এবং নিম্ন-আয়ের দেশগুলিকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি আমাদের বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৪তম এবং ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম। বর্তমানে জিডিপির আকার ২৭ হাজার ৪১১ কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯
টাকা। ধারাবাহিকভাবে ৭.৮৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ।

২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩২০০ মেগাওয়াট তা এখন প্রায় চার গুণ বেড়ে বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে বাঙালির স্বপ্নের পদ্মা সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্টোরেলসহ অনেক মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হচ্ছে। তৈরি পোশাক রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং মাছ উৎপাদনে চতুর্থ অবস্থানে বাংলাদেশ। চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করা হচ্ছে চাল,গম পাট, ইত্যাদি। ২০০৯ শিক্ষার হার ছিলো ৪৭ শতাংশ আর এখন শিক্ষার হার ৭৭ শতাংশ।

২০০৯ সালে মুল্যস্ফীতি ছিল ডাবল ডিজিটে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৫.০৩ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ১০.৫২ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪.২৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ২ হাজার ৮১২ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জাতীয় রপ্তানি নীতি ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ শক্তভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৩.৫ বিলিয়ন ডলার যা বর্তমানে ৩৩ বিলিয়ন ডলারেরও উপর । প্রায় দশ বছরে দেশ-বিদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গত বছর রেকর্ড ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে।
প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্স-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৯তম ও ২০৫০ সাল নাগাদ ২৩তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হবে জনগণের মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার। এর মানে হলো, বাংলাদেশের একজন মানুষ বছরে গড়ে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা আয় করেন। দারিদ্র্যতার হার ২০০৫-০৬ সালে ছিল ৪১.৫ শতাংশ। এখন তা হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। অতি দারিদ্র্যতার হার ২৪.২৩% থেকে হ্রাস পেয়ে নেমেছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে।

সম্পাদনা: সোহেল রহমান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ