প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্ব ইজতেমার মাঠে হামলাকারীদের ফাঁসির দাবিতে পল্টনে মিছিল

সাইদুর রহমান: ‘পাঁচ দিনের জোড়’কে (বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি সম্মেলন) কেন্দ্র করে শনিবার তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাবলীগের শুরা ও উলামায়ে কেরামের সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদ সমাবেশে বিশ্ব ইজতেমার মাঠে হামলাকারীদের বিচার ও ফাঁসির দাবিতে সাদ বিরোধীদের স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে পল্টন, বায়তুল মোকাররমসহ আশপাশের এলাকা।

রোববার দুপুর ২ টায় তাবলীগের শুরা ও উলামায়ে কেরামের সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভাকে কেন্দ্র করে জড়ো হওয়া হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।

এর আগে ১ ডিসেম্বর বিশ্ব ইজতেমার মাঠে অবস্থানকারী তাবলীগের সাথী ও উলামায়ে কেরামকে হঠিয়ে মাঠ দখলে নিতে বিতর্কিত মৌলভী সাদ অনুসারীরা হামলা চালায়। এতে কয়েকজন নিহতসহ আহত হয় ৩ শতাধিক উলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।

পল্টন সূত্রে জানা যায়, প্রতিবাদ সভাতে উলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ‘উলামাদের ওপর হামলা কেন, খুনী ওয়াসিফ জবাব চাই, তাবলীগে হামলা কেন, খুনীদের ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি বলে স্লোগান দেন।

এর আগে রোববার দুপুর ২ টায় পল্টনের সাব্বির টাওয়ারের একটি হলে সংবাদ সম্মেলন করেন তাবলীগের শুরা সদস্য ও উলামায়ে কেরাম।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কাকরাইল মসজিদের ইমাম ও শুরা সদস্য হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমদ, জামিয়া বারিধারা মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা আবদুল কুদ্দুস, জামিয়া রাহমানিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা মামুনুল হক প্রমুখ উলামায়ে কেরাম।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ইজতেমায় পরিকল্পিতভাবে হামলাকারীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনের পর ‍উলামায়ে কেরাম ও উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মিছিলসহ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অবস্থান নেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মোহাম্মপুরের জামিয়া রহমানিয়া এরাবিয়ার মুহাদ্দিস ও তাবলিগের সাথী মাওলানা মামুনুল হক।

তিনি বলেন, ইজতেমা মাঠে এ হামলা পরিকল্পিত হামলা। এর উস্কানিদাতা হলেন ইঞ্জি. ওয়াসিফুল ইসলাম, খান শাহাবুদ্দীন ও মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। এদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘ওয়াসিফদের প্রশ্রয় দিয়ে প্রশাসন নিরীহ ছাত্রদের খুনীদের হাতে তুলে দিয়েছে। এর দায়-দায়িত্ব প্রশাসনকে বহন করতে হবে। ফরিদ উদ্দিন মাসউদের নেতৃত্বে ইজতেমা বানচালের চেষ্টা যদি অব্যাহত থাকে তবে আমরা প্রশাসনকে মানতে পারব না। ফরীদ উদ্দীন মাসউদের মাদরাসা ইকরা থেকে এর আগের রাতে এ হামলা ও মাঠ দখলের পরিকল্পনা করা হয়’।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত এ হামলায় কয়েকশ’ মুসল্লি ও মাদরাসার ছাত্র আহত হয়। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা বড়ই লজ্জিত এ ন্যাক্কারজনক হামলা দেখে।

বাধ্য করা হলে তারা টঙ্গী অভিমুখে যাত্রা করবেন বলেও জানান মামুনুল।

ভিক্টরিয়া পার্ক মসজিদের ইমাম ও খতিব এবং তাবলিগের সাথী মাওলানা আমানুল হক বলেন, সোমবার সারাদেশে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি আমরা দিয়েছি। মুরব্বিদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী কর্মসূচি দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সোমবার সারাদেশে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি দেয়া হয়।

এছাড়াও দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় না আনলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও জানান উলামায়ে কেরাম।

উল্লেখ্য, মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা ৩০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা করার ঘোষণা দেন। জোবায়েরপন্থী মুসল্লিদের দাবি অনুযায়ী তারা ইজতেমার প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য গত বুধবার রাত থেকে ইজতেমা ময়দানের ভেতরে অবস্থান নেন। শনিবার সাদপন্থী মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে প্রবেশ করতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু ও কয়েক শ’ মানুষ আহত হন।

মাওলানা সাদের বিভিন্ন বক্তব্যকে কুরআন ও সুন্নাহের বিরোধী দাবি করে বাংলাদেশের তাবলিগের শুরা সদস্য জুবায়ের আহমেদ ও তার অনুসারীরা তার বিরোধিতা করে আসছেন।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ