প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলামের দুর্নাম করছে তাবলীগ-জামাত : ড. ইব্রাহীম

মারুফুল আলম : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইব্রাহীম বলেছেন, তাবলীগ-জামাতে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব রয়েছে। এরা বিভ্রান্তির মধ্যে আছে এবং আসলে এরা ইসলামের দুর্নামই করছে। বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ ধরণের আচরণের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। যাদের কার্যকলাপ দেখে সাধারণ মুসলমানের মনে ইসলামের ব্যাপারে আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, সেখানে তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব মানুষকে হতবাক করেছে। যারা এই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন এরা আসলে ইসলামকে সঠিকভাবে বোঝে না।

গত শনিবার ঢাকায় তাবলিগ-জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১ জন নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। যার মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা গুরুতর। কিছুদিন যাবৎ তাবলিগ-জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ সাদ কান্দালভি’র কিছু বক্তব্য ও তার মতবাদকে ঘিরে মতপার্থক্য চলে আসছিলো।

ড. ইব্রাহীম বলেন, তাবলীগ-জামাতের দ্বন্দ্বের খবরটি গতবছর থেকেই সামনে চলে এসেছে। গতবার বিশ্ব-এজতেমাকে কেন্দ্র করে দিল্লী মারকাযের প্রধান মাওলানা সাদকে বিমানবন্দর থেকে আসতে দেয়া হয়নি, ফলে তাকে ফেরৎ যেতে হয়েছিলো। তখন থেকে মারমুখী অবস্থান শুরু এবং এখনো তা রয়ে গেছে। গতবছরই আমরা আশংকা করছিলাম, ভাঙনের শুরুটাই মনে হয় দৃশ্যমান হলো। ক্রমান্বয়ে তারা আজকে পরস্পর দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে গেলো। তাদের ঐক্যের ভাঙনটা মনে হয়না যে পুনপ্রতিষ্ঠা হবে।

সরকার চাচ্ছেন এ সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু কিভাবে সম্ভব বলে মনে করেন? জবাবে ড. ইব্রাহীম বলেন, এখানে কেউ এসে সমাধান করতে পারবে না, যদি তারা নিজেরা সমাধান না চায়। তাৎক্ষণিকভাবে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সামাল দিতে পারেন এবং আমরা শুনেছি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেটা দিয়েছেন। কিন্তু স্থায়ী সমাধান আসলে পুলিশি এ্যাকশন বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্ভব হবে না। যাদের মধ্যে বিরোধ তারা যদি নিজেরা সমঝোতায় না আসে, সমাধানের কোনোরকম সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতেও দেখছি না।

এই গোষ্ঠীগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়। সরকার তাদের কার্যক্রমে সহযোগিতা করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। দূর-দুরান্ত থেকে আগত মুসল্লীদের যেন দুর্ভোগ কম হয় বা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মকান্ড শেষ হয় সেজন্য সরকার যাবতীয় লজিস্টিকস দিয়ে থাকেন।

ইসলামের কথা বলে যারা মানুষকে ডাকেন, তারা নিজেরাই খুন-খারাবিতে জড়িয়ে গেলে সাধারণ মুসল্লীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরী হয়। ফলে মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে বলেও মনে করেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ