প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটকেন্দ্র পাহারা দিলে আপত্তি কেন? : আলাল

মারুফুল আলম : বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে আমরা দেখেছি, ভোটকেন্দ্রে আনসার ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা আছে আর বাইরে চতুষ্পদ প্রাণীরা পাহারা দিচ্ছে। সে জায়গায় চতুষ্পদ প্রাণীর বদলে রাজনৈতিক দল বা ভোটাররা পাহারা দিলে ক্ষতিটা কী? আপত্তিই বা কেন? শনিবার চ্যানেল আই তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, নিকট অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করলে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ হয়। পুলিশের অতি উৎসাহী কর্মকর্তারা নৌকার ব্যালেটে সিল দিচ্ছিলেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যেটি আমরা বয়কট করেছিলাম, রাত দুটার সময় মহানগর মহিলা কলেজকেন্দ্রে আমরা দেখেছি ব্যালেটে সিল মেরে মেরে রাতের বেলা বাক্সে ঢুকানো হচ্ছে। ডে-নাইট ক্রিকেটের মতো এরকম ডে-নাইট ইলেকশন বাংলাদেশের মানুষ আগে কখনো দেখেনি। রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুরেও একই ঘটনাই ঘটেছে।

তিনি বলেন, সবদলের এজেন্ট থাকলে চোরের চুরি করার সুযোগ কম থাকে, পাহারা দেয়া লাগে না এটা ঠিক। কিন্তু আমরা নিকট অতীতেই দেখেছি, আমাদের এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে গাজীপুর থেকে আর বিকেল বেলা টাঙ্গাইলে নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সে কেন্দ্রে ফিরে আসবে কিভাবে ? এরকম অন্তত ৫টি কেন্দ্রের ১৭টি ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এরকম যদি হয় তাহলে সাধারণত পাহারার প্রশ্ন আসতেই পারে।

তিনি আরো বলেন, যে যখন ক্ষমতায় থাকে, দাপট দেখিয়ে এমন এক পরিবেশ তৈরি করে, তাদের কোনো কথা বা কাজের মধ্যে সাদৃশ্যতা থাকে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলছেন, ‘শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এমন কথা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি না।’ নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোথাও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না।’ ওবায়দুল কাদের সাহেব চট্টগ্রামে তার নেতা-কর্মীদের বললেন, ‘ক্ষমতায় আসতে না পারলে এই দশ পাঁচ বছরে যা কামিয়েছেন সবকিছু নিয়েই ভাগতে হবে। সুতরাং ঐক্যবদ্ধ থাকেন।’ কয়েকদিন আগে ওবায়দুল কাদের ভাই আবার বললেন যে, নির্বাচনে হারলেও আমরা পালাবো না। আজকে ওবায়দুল কাদের ভাই আরেকটি মজার কথা বলেছেন যে, হাউজ অব কমন্স এবং কংগ্রেস বাইরে কে কোথায় কি বললো এসব আমাদের দেখার বিষয় না। তাহলে প্রশ্ন, আইআরআইএ জরিপটা নিয়ে কেনো এত মাতম করা হলো?

মোয়াজ্জেম হোসেন যে আসনে প্রার্থী সেখানে আরো বিকল্প প্রার্থী কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল যেভাবে ঠিক করেছে সে বিষয়ে আমার কোনো বিতর্ক নেই। দলের মূল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবো। আমার নেত্রীকে যেহেতু নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়েছে এবং প্রিয়নেতা তারেক রহমানও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না, সে জায়গায় আমি আমার ব্যক্তিগত আবেগ থেকে মনে করছি- যে সংসদে ওনারা দুজন নেই, সে সংসদে আমিও না থাকা ভালো। এ ব্যাপারে কোনো মান-অভিমান আছে কি না জানতে চাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রাজনীতিতে এটি একটি হাসির কারণ। নিজেকে হাসির পাত্র করতে চাই না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ