প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ পাবর্ত্য শান্তি চুক্তির ২১ বছর

কান্তা রায় : পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আজ ২১ বছর পূর্ণ হলো। তবে নানা বিতর্ক রয়ে গেছে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে। চুক্তির অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পাহাড়ে বেড়েছে অবিশ্বাস, টানাপোড়েন আর শঙ্কা। সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে পাহাড়ে এমন দাবিও করছেন পাহাড়ে বসবাসরত এক পক্ষের বাসিন্দারা। সূত্র : ডিবিসি নিউজ

পার্বত্য অঞ্চলে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর শান্তি চুক্তির মাধ্যমে কয়েক দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে। তিনটি পার্বত্য জনপদে শান্তি ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ ২০ বছরের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্যে এই চুক্তি সাক্ষর করেছিলো তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।

সেসময় সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সাক্ষর করেন তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সশস্ত্র সংগঠন শান্তি বাহিনীর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা।

চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্যজেলাগুলোর প্রশাসনিক ৩৩ বিভাগের মধ্যে ১৭টি বিভাগ জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করেছে সরকার। তবে বন ও পরিবেশ, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ প্রশাসনসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। এছাড়া অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এমপি ও সহ-সভাপতি উষাতন তালুকদার বলেন, ‘সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় পুলিশ, বন ও পরিবেশ এবং ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা এই বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আমরা চাই জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদকে ক্ষমতায়ন করে এসব সমস্যার সমাধান করে এখানে স্থানীয় শাসন প্রবর্তন করা।’

চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, ‘শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদ্দিচ্ছা জরুরী। যে সরকারই নির্বাচিত হবে তারা যদি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিতে পারে তাহলেই এই চুক্তিগুলোর অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান করা সম্ভব।’

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও, অবৈধ অস্ত্র, খুন, চাঁদাবাজির ঘটনায় এরইমধ্যে জনসংহতি সমিতির সাথে স্থানীয় নেতাদের সাথে বেড়েছে দূরত্ব।

বান্দরবান পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান জানান, ‘যে উদ্দেশ্যে শান্তিচুক্তি করা হয়েছে তা সফল হয়নি। কারণ পাহাড়ে এখনও অবৈধ অস্ত্র, খুন, চাঁদাবাজির মত ঘটনা ঘটছে।’

চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা পূর্ণাঙ্গ ও আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে বলে দাবি বান্দরাবান জেএসএস সভাপতি উছোমং মারমার। তিনি বলেন, বাঙালি এবং পাহাড়িদের প্রত্যাশা ছিল এই চুক্তির সবগুলো ধারারই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে, কিন্তু সরকার তা না করে মিথ্যাচার করেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়নে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা পাহাড়ের মানুষের।