প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিজয় এনেছি কিন্তু দেশকে শত্রুমুক্ত করতে পারিনি : হাশেম খান

তানজিনা তানিন : বাঙালির বহু প্রত্যাশিত বিজয়ের মাস ডিসেম্বর এসেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মনে হাজারো স্মৃতি জাগরুক হয় এই মাসের আগমনে। এমনি কিছু অনুভূতি ও স্মৃতি প্রকাশ করেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী হাশেম খান। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ- পরবর্তী সময়ের নানা ঘটনার বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, শৈশব থেকেই নানা স্মৃতি ধারণ করে বেড়াচ্ছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাদা চামড়া, কালো নিগ্রো সৈন্যদের ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আঁতকে উঠেছিলাম। মাত্র সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাংলা ভাষার দাবিতে ছাত্রদের মিছিল, স্লোগান, পুলিশের গুলিতে ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ কিশোর হৃদয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিলো। দেশের রাজনীতি ও নানা ধরনের বই আমাকে ছোট থেকেই করেছে প্রতিবাদি ও সংগ্রামী হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে। যুক্তফ্রন্ট, ৬-দফা, ১১-দফা, সত্তরের নির্বাচনসহ সকল ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছি।

১৯৭১ সালে বাঙালির সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন হাশেম খান। তিনি জানান, দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষ হয়ে উঠে মুক্তিযোদ্ধা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগ-প্রাপ্তি সবই ছিলো। আমার বড় ভাই ডা. মো. সোলেমান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। আমি গুলিবিদ্ধ হই। হানাদার বাহিনীর অত্যাচারে আমার মা, বোন, ভাগনি চাঁদপুর ছেড়ে আহত অবস্থায় পালয়ে ছিলো অনেক দিন। গ্রামের লোকজনও ভেবে ছিলো আমরা সবাই যুদ্ধে মারা গেছি। আমার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ না থাকার কারণে তারা ভেবেছিলেন আমিও হয়তো বড় ভাইয়ের মতো আর ফিরবো না। এতো ত্যাগ-তিতিক্ষার পর পাওয়া আমাদের এই সোনার বাংলা। চোখের সামনে দেখেছি পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা, অত্যাচার। হাজার হাজার লাশ, জ্বালাও-পোড়াও, হত্যাযজ্ঞ।

তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতা বা বিজয় অর্জন করেছি কিন্তু দেশকে সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত করতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রাজাকাররা দেশের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করেছে, যা এখনও অব্যাহত। ১৫ আগস্ট জাতির জনকের হত্যাকা- বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কজনক এক অধ্যায়। স্বাধীনতার ৪৭ বছরের প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা অর্জন ও জাতির জনকের নির্মম হত্যা আমাকে ভাবিয়েছে, কখনো হতাশ করেছে। তবে পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিশ্ব ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। শেখ হাসিনার হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ বলে মনে করেন হাশেম খান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ