প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশের নির্বাচন ও পশ্চিমবঙ্গ

কাকলী সাহা কলকাতা থেকে :  ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮-তে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এখানে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৩০০জন নির্বাচিত এবং সংরক্ষিত আসনে ৫০জন মহিলা সংসদ সদস্যরূপে মনোনীত হবেন। নির্বাচিত দলের প্রধানমন্ত্রী হবেন সরকারপ্রধান। এবারের নির্বাচনে মূলত দ্বিদলীয় লড়াই হবে। ১৪ দলের মহাজোট, যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, নেত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। গণফোরামের ড. কামাল ২০ দলের নেতৃত্ব দিলও বয়সের কারণ দেখিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। তার বর্তমানের সঙ্গী বিএনপি, যার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে জেলে থাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। এমনকি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খালেদাপুত্র তারেক রহমানও দুর্নীতির মামলায় ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাজার রায় মাথায় নিয়ে বহুবছর যাবৎ লন্ডনে বসবাস করছেন। ফলে তিনিও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি দাবি তোলা হয়েছিলো, এক. নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকার বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং দুই. ইভিএম বাতিল করে ব্যালটে ভোটগ্রহণ। কিন্তু তাদের দুটি দাবিই খারিজ হয়ে যায়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাদের মধ্যে যে রাজনৈতিক বৈকল্য সৃষ্টি হয়, তা থেকে বেরিয়ে আসতেই এবার তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধ্য হয়েছে। এমনকি বিগত নির্বাচনের আগে ও পরে তাদের সহিংস আন্দোলনে জনগণ থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবার তারা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিরোধী দলের এই দিকটিকে ইস্যু করে শাসক আওয়ামী লীগকে বেশ কিছুটা বাড়তি সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে বিশেষজ্ঞমহল মনে করেন। আর একটা বিষয় বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলে কেউ কেউ মনে করেন। আওয়ামী লীগের প্রায় জন্মলগ্ন থেকে তাদের সঙ্গী কিছু মানুষ নির্বাচনের আগে তাদের সঙ্গত্যাগ করে যে মুহূর্তে বিএনপিজোটে যোগ দিয়েছেন, তখনই রাজাকারদের সঙ্গী বিবেচনায় বিএনপি সাধারণ মানুষ কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বা গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি যথেষ্ট সরগরম। এ-নিয়ে কেবল বাংলাদেশেই নয়, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতেও রয়েছে যথেষ্ট আগ্রহ। কারণ নির্বাচনপরবর্তী পর্যায়ে এ-দেশের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে, তা অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ আওয়ামী লীগের ঘোষিত অবস্থান হলো, কারও প্রভুত্ব নয়, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব। আর বিএনপির ঘোষিত অবস্থান হলো, ভারত ও রাশিয়াঘেঁষা পররাষ্ট্রনীতির বদলে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন। তাই একথা অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, প্রতিবেশী দেশে প্রতিক্রিয়াশীল ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান হলে ভারতের উদ্বিগ্ন হবার কথা। কারণ এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে আরো দুটি বিষয়, ভারতের নিরাপত্তা এবং অর্থনীতি। তাই পশ্চিমবঙ্গের জনজীবনে এর প্রভাব পড়তে বাধ্য। তবে এদেশের সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ন্যুব্জপ্রায়। তাই এই নির্বাচন নিয়ে তাদের তেমন মাথাব্যথা নেই বললেই চলে। তবে কলকাতাবাসী শিক্ষিত মানুষ বা বুদ্ধিজীবীমহল অবশ্যই এদিকে নজর রেখে চলেছেন। মনে করা হচ্ছে, দু’দেশের শিল্প-সংস্কৃতির আঙিনায় এর প্রভাব অপরিসীম। তবে তাদের মতে, ভারতের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারতের সংসদ নির্বাচনের সময়ও আগতপ্রায়। এক্ষেত্রে বিজেপি কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে হিন্দু মৌলবাদকে মদত দেয়ার প্রবণতা যথেষ্ট আশংকা সৃষ্টি করে রেখেছে। সেক্ষেত্রে পরবর্তী বাংলাদেশ সরকার যদি মুসলিম মৌলবাদকে প্রচ্ছন্নভাবেও মদত দেয়, তা হলে তা বাংলাদেশ ও ভারতÑউভয় দেশের জন্যেই হবে বিপজ্জনক।

এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা দুদেশের অর্থনীতিতে অবশ্যই প্রভাব ফেলবে। তবে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আর একটি বিশেষ বিষয় হলো, তিস্তার জলবণ্টন সমস্যা। দু’দেশের সরকারই, একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও এখনো সমাধানসূত্র অধরা থেকে গেছে। এটা হাসিনা সরকারের পক্ষে কিছুটা অস্বস্তির কারণও বটে। তবে এবিষয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী এবং তাদের এবারের নির্বাচনী এজেন্ডাতেও এটি গুরুত্বসহকারে গৃহীত হয়েছে।

তারপরও ডিসেম্বরে নির্বাচনের ফলাফলই বলে দেবে, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভবিষ্যৎ-কা-ারি হিসেবে কাদের বেছে নেবে। কলকাতার বুদ্ধিজীবীমহলেও এ-নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট কৌতূহল ও উদ্দীপনা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত