প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শান্তিচুক্তির ২১ বছর: পূর্ণ বাস্তবায়ন নেই পাহাড়ে ক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট : পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২১ বছর পূর্ণ হল আজ। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য শাস্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এর মধ্যদিয়ে পাহাড়ে দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলা সশস্ত্র ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে। অস্ত্র সংবরণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে সশস্ত্র গেরিলারা। কিন্তু আজও ওই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে পাহাড়িদের মনে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা।

শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ের চলমান সংঘাত কমলেও বেড়েছে আঞ্চলিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত। সম্প্রতি আঞ্চলিক দলের ত্রিমুখী সংঘাত, খুন, ব্রাশফায়ার এবং অপহরণের ঘটনা পাহাড়ি জনপদকে আতঙ্কিত করে তুলছে।

আঞ্চলিক দলের সংঘাতে জনসংহতি সমিতির ৩৮৩ জন, ইউপিডিএফের ২৭০ এবং জেএসএস (লারমা) এবং সাধারণ মানুষসহ সাত শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

এদিকে, চুক্তির ২১ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ঢাকা ও তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে চুক্তির বর্ষপূর্তিতে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। শান্তিচুক্তির পক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সমাবেশ এবং তা বাতিলের দাবিতে সমঅধিকার আন্দোলনসহ বাঙালি সংগঠনগুলো কালো পতাকা উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

রাঙ্গামাটিতে জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে সকালে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি চিংহ্লামং মারি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ কনসার্টের।

শান্তিচুক্তি সম্পর্কে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু) বলেছেন, চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ সংবলিত বিশেষ শাসন ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেনি।

সাধারণ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বন ও পরিবেশ, পর্যটন, মাধ্যমিক শিক্ষা, উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়গুলো এখনও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর করা হয়নি। তিনি বলেন, ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তুদের তাদের নিজেদের জায়গা-জমি ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। এখনও তাদের উপযুক্ত পুনর্বাসন করা হয়নি।

সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, সরকার বরাবরই নানা অজুহাত দেখিয়ে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে নানা গড়িমসি করছে। অথচ দেশের উন্নয়নের স্বার্থে পার্বত্য চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারকে এগিয়ে আসা দরকার।

অপরদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ধারাগুলোও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে ১৯৯৮ সালে জেএসএস থেকে বের হয়ে প্রসীত বিকাশ খীসা, সঞ্চয় চাকমার নেতৃত্বে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) আত্মপ্রকাশ ঘটে।

পাহাড়ি অঞ্চলে আধিপত্য রক্ষায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের সংঘর্ষে শত শত নেতাকর্মী খুন হয়েছে। একইসঙ্গে অপহরণ ও গুম চলতে থাকে। ২০০৮ সালে সাবেক গেরিলা নেতা ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সুধাসিন্ধু খীসার নেতৃত্বে জেএসএস (এমএন লারমা) গঠিত হয়েছে।

এরপর জেএসএস, ইউপিডিএফ এবং জেএসএস (এমএন লারমা) ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয়। রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে জেএসএসের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও খাগড়াছড়িতে জেএসএস অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তৎকালীন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় শান্তি বাহিনীর দুই হাজার সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে তাদের আর্থিক সহযোগিতা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি বিভিন্ন বিভাগে চাকুরি দেয়া হয়।
সূত্র : যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ