প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রার্থীদের ভাগ্যনির্ধারণ আজ

ডেস্ক রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আজ। মামলা, ঋণ ও বিল খেলাপির কারণে অনেকেই প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। কারা থাকবেন নির্বাচনী লড়াইয়ে? সেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ। নির্বাচন কমিশনও প্রার্থী যাচাইয়ের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ঋণখেলাপি শনাক্ত করতে প্রার্থীদের তালিকা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। প্রার্থিতা বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে ব্যাংক ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। তাদের তথ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রার্থিতা বাছাই করবে কমিশন। তবে বাছাইয়ে কারও প্রার্থিতা বাতিল হলে পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে তাদের। এদিকে রিটার্নিং অফিসারদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিকে চোখ রাখছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ২৯৫ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও তাদের অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে মামলা, অনেকেই দণ্ড মাথায় নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এসব কারণে অনেকেই হয়তো বাদ পড়তে পারেন। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের নামে যত মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে, তার আড়াই গুণ বেশি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে বিএনপির নামে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ২৬৪ আসনে জমা দিয়েছেন ২৮১টি মনোনয়নপত্র। বিএনপির প্রার্থীরা ২৯৫ আসনে জমা দিয়েছেন ৬৯৬টি মনোনয়নপত্র। এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে সারা দেশে ৩০০ আসনে মোট ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, ৩৬টি আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী এখনই নেই, এসব আসন জোটের অন্য দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার ১৭টি আসনে দলের প্রত্যয়ন নিয়ে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করে রেখেছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বরের পর জানা যাবে জোটের কোন দল কতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বুধবার মনোনয়নপত্র জমা শেষ হয়েছে। প্রার্থিতা বাছাই হবে আজ ২ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ। এরপর প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামবেন। ভোটগ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ ২৮১টি, বিএনপি ৬৯৬টি, জাতীয় পার্টির ২৩৩টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ১৩৫৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে মোট ২৫৬৭টি। এর বাইরে স্বতন্ত্র ৪৯৮টি মনোনয়নপত্র মিলিয়ে মোট সংখ্যা ৩০৬৫। ২৬৪টি আসনে আওয়ামী লীগের নামে ২৮১টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। বিএনপির নামে ৬৯৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ২৯৫টি আসনে। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন— এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-২০ দলীয় জোটের ব্যানারের প্রার্থীরা। আর নির্বাচনী মাঠে মূল লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে। নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে এবারে আওয়ামী লীগের চেয়ে মনোনয়ন বেশি জমা পড়েছে বিএনপির। জানা গেছে, মামলার কারণে বিএনপি এবার প্রায় প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যয়ন দিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করিয়ে রেখেছে। দলটির নেতারা বলছেন, কোনো কারণে কারও প্রার্থী হওয়া আটকে গেলে বিকল্প প্রার্থী ভোট করবেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়েও বিএনপির সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

৯ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে : দল ও জোটের একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে বিএনপির চিঠির জবাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দলের ও জোটের একাধিক প্রার্থী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করে মনোনয়ন দিতে ৩৯টি দলকে চিঠি দিয়েছে কমিশন। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রতীক না থাকায় জোটটির নামে প্রতীক দেওয়ার সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে বিএনপি যে দলের বিষয়ে সম্মতি দেবে, সে দল ধানের শীষ প্রতীক পাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। ইসির উপসচিব আবদুল হালিম খান জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ ও ধারাগুলো তুলে ধরে চূড়ান্ত মনোনয়ন, দলীয় ও জোটগত একক প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দের বিস্তারিত আইন-বিধি দলগুলোকে জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ