প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্ব এইডস দিবস
‘ইসলামের মতো কল্যাণধর্মী জীবনবিধান মরণব্যাধি এইডস থেকে রক্ষা করবে’

আলহাজ্ব আব্দুম মুনিব: পহেলা ডিসেম্বর পৃথিবী জুড়ে পালিত হয় বিশ্ব এইডস দিবস। মরণঘাতী এইডস থেকে মানুষকে সচেতন করতেই পালন করা হয় দিবসটি। এইডস মানবদেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। এখনও এই মরণব্যাধির কোনো ওষুধ বের হয়নি।

এইডসের প্রধান কারণ হলো অনিরাপদ যৌনতা। তাই মানুষকে এই নির্ঘাত মৃত্যু থেকে বাঁচাতেই ব্যভিচার ও সমকামিতার মতো অনিরাপদ যৌনতার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসলাম। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তীও হয়ো না।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৩২) যারা নিজ চরিত্র হেফাজত করবে, তাদের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা করেছে ইসলাম। রাসুলে কারিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (জিহ্বা) এবং দুই উরুর মধ্যবর্তী স্থান (যৌনাঙ্গ) এই দুটি জিনিসের হেফাজতের দায়িত্ব নেবে, আমি তার জান্নাতের দায়িত্ব নেব।’ (বুখারি: ৮/১০০)

অনিরাপদ যৌনতা কমলে কমবে এইডস আর এইডস কমলেই কমবে অনাকাংক্ষিত মৃত্যু। ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী যদি অবৈধ যৌনতার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয় তাহলে যৌনতার পরিমাণ অনেক নিচে নেমে আসবে। আর যদি একেবারেই কমে আসে, তাহলে তো আর মৃত্যুদন্ড ও দেওয়ার প্রয়োজনও হবে না। এভাবেই একটি প্রাণের বিনিময়ে গোটা জাতি বেঁচে যাবে যৌনতা থেকে। বাঁচবে এইডস থেকে।

এইডস প্রথম ধরা পড়ে সমকামীদের মধ্যে। যা ১৯৮১ সালের ৫ জুন সর্ব প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হয়। ইসলামের “সমকাম” ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য অন্যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যাদের তোমরা লুতের সম্প্রদায়ের কাজে (সমকামে) লিপ্ত দেখবে, তাদের উভয়কেই হত্যা করো।’

সমকামিতা ও অবাধ যৌনতাই এইডসের মতো প্রাণঘাতী রোগের কারণ। ইসলামের মতো কল্যাণধর্মী জীবনবিধান কী করে সমকামিতার পক্ষে থাকবে! তাই তো তাবরানি ও বায়হাকি শরিফের হাদিসে এসেছে, ‘চার ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর গজব ও আক্রোশে পতিত হয়। মহিলার বেশধারী পুরুষ, পুরুষ বেশধারী মহিলা, পশু মৈথুনকারী এবং সমকামী।’

এইডসের মতো ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী রোগ থেকে বাঁচতে ইসলামি অনুশাসন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারে সবাই ইসলামী অনুশাসন মেনে চললে পার্থিব অনেক ধরনের সমস্যা ও সংকট থেকে আমরা বেঁচে থাকতে পারবো।
আল্লাহ মানুষকে রোগ-ব্যাধি দিয়ে থাকেন। কিন্তু কোনো কোনো রোগ মানুষের পাপ তথা সীমালংঘনের কারণেও হয়ে থাকে। যা মানুষের জন্য অভিশাপ। এইডস-এর মতো মরণব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে এবং জাতিকে মুক্ত রাখতে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার বিকল্প নেই। এইডস সম্পর্কিত তথ্য সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দেয়া প্রত্যেক মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।
সচেতনতা সৃষ্টি করা-

এইডস কি? কেন এবং কিভাবে এ রোগের সৃষ্টি হয়? কিভাবে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে? এর পরিণাম কি? এ বিষয়গুলো মানুষকে অবহিত করে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলেই এইডস-এর মতো মরণ ব্যাধি থেকে সমগ্র জাতি মুক্তি লাভ করতে পারবে।
ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা-

যারা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে তুলনামূলকভাবে তাদের এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। গবেষনায় দেখা গেছে ৫০% এইডস রোগীর বয়স ১৫-২৪ বৎসরের মধ্যে। সুতরাং প্রত্যেক বাবা-মার উচিত তাঁর সন্তান কোথায় যায়, কি করছে। ১৫ বছরের পূর্বে সন্তানরা সাধারণত বাবা-মায়ের সঙ্গেই বেশি থাকে। তাই তাদেরকে ধর্মীয় জীবন-যাপনের প্রতি জোর দেয়া বাবা-মায়ের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন- হে মুমিনগণ!, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। (সুরা তাহরিম : আয়াত ৬) যেহেতু পরিসংখ্যানে দেখা যায়, উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়ে, তরুণ-তরুণীরা এইডস ব্যাধিতে বেশি আক্রান্ত। তাই প্রত্যেক বাবা মায়ের উচিত তাদের সন্তানকে এইডস বিষয়ে সচেতন করে তোলা। তাদের খোঁজ-খবর নেয়া এবং তারা যেন কোনো অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে নজর রাখা।

যিনা-ব্যভিচার না করা-
যিনা-ব্যভিচার ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা যিনার কাছেও যেও না। কেননা এটি অত্যন্ত অশ্লীল ও মন্দ পথ।’ (সুরা ইসরা : আয়াত ৩২) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (জিহ্বা) আর দুই ঊরুর মধ্যবর্তী স্থানের (যৌনাঙ্গের) দায়িত্ব নেবে, আমি তার জান্নাতের দায়িত্ব নেব।’ অবাধ যৌনাচার এইডস রোগ হওয়ার একটি মাধ্যম। তাই আল্লাহর নির্দেশ মেনে অবাধ যৌনাচার থেকে মুক্ত থাকাই কুরআন ও হাদিসের অকাট্য নির্দেশ।

পর্দা মেনে চলা-
ইসলামে নারী-পুরুষ সবার জন্য পর্দাকে ফরজ করা হয়েছে। বেপর্দার কারণে অপর নারীর সৌন্দর্য যেন কাউকে যিনার দিকে প্ররোচিত না করে, সে জন্য ইসলাম বেপর্দায় কঠিনভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ আবার পরের আয়াতে বলেন, ‘আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে আর তারা যেন তাদের মাথার ওড়না দ্বারা স্বীয় বক্ষ আবৃত করে রাখে। (সুরা নুর : আয়াত ৩০-৩১)

সমকামিতা বন্ধ করা-
ইসলামে সমকামিতা নিষিদ্ধ। কুরআনে এসেছে, ‘তোমরা কি তোমাদের যৌন তৃপ্তির জন্য স্ত্রীদেরকে বাদ দিয়ে পুরুষের কাছে আসবে? কুরআনের অন্যত্র এসেছে, ‘তোমরা কামবশত পুরুষদের কাছে গমন করো স্ত্রীদের ছেড়ে, বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’ আল্লাহর এ বিধান লঙ্ঘনের দায়ে পূর্ববর্তী (কাওমে লুত) জাতিকে, তাদের জনপদকে উল্টিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন। আজ পর্যন্ত সেই মৃত সাগরে কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। এছাড়াও সমাজ থেকে নারী-পুরুষের অবাধ যৌনাচার, পতিতালয়, বহুগামিতা ও পরকীয়াসহ সব নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থেকে শৃংখলাবদ্ধ জীবন-যাপন করার তাগিদ দিয়েছে ইসলাম। লেখক- কামিল (আল হাদিস) মাস্টার্স (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

লেখক: সাংবাদিক

[email protected]

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত