প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যফ্রন্টের দাবি সম্পর্কে কিছুই জানেন না প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা

আনিসুর রহমান তপন : নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অপসারণের জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি সম্পর্কে কিছুই জানেন না প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এমন কি নির্বাচন কমিশন থেকেও ঐক্যফ্রন্টের দাবি অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কিছু জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এমন তথ্য।

জানা গেছে, গত ২৩ নভেম্বর প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের ৯২ কর্মকর্তার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্ব থেকে অপসারণ চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর মধ্যে প্রশাসনের ২২ কর্মকর্তা রয়েছেন। তালিকায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে জনপ্রশাসন সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবসহ মাঠ প্রশাসনের ২ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদের ১৭ কর্মকর্তা রয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের চিঠিতে জনপ্রশাসনের দলবাজ কর্মকর্তা প্রত্যাহারসহ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ না দেয়া, গণমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিজ্ঞাপন ও সরকারের উন্নয়নের প্রচার বন্ধ করার দাবি রয়েছে।

প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের আবেদন সম্পর্কে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ এই প্রতিবেদকে জানান, কি অভিযোগ দিয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানি না। আমরা আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। তবে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে তা যদি সুনির্দিষ্ট হতো তবে তা জানা যেতো। আমাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে বলে আমি জানি না, নির্বাচন কমিশনও জানে না, পত্র-পত্রিকাতেও তেমন কিছু পাইনি। তবে আমি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমি আমার সীমাবদ্ধতা জানি। আমার ৩০ বছরের চাকরি জীবনে কেউ আমাকে দায়িত্বের বাইরে বা এখতিয়ারের বাইরে কাজ করেছি তেমন কোনো অভিযোগ করেনি বা জানাতে পারেনি।

একই প্রসঙ্গে ভোলার ডিসি মো. মাসুদ আলম সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানি না। যেহেতু ইসিতে অভিযোগ দিয়েছে, তাই তারাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

চট্টগ্রামের ডিসি মো. ইলিয়াস হোসাইন জানান, প্রশাসনের একজন চাকুরে হিসেবে এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই। ঢালাও অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্ট করে বলা উচিৎ জানিয়ে তিনি বলেন, আমি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। প্রশাসনে আমার দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে। তাই নির্বাচন উপলক্ষে পক্ষপাতিত্ব হবে এমন কোনো আশঙ্কা কারোরই থাকা উচিৎ নয়।

কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর বলেন, সরকার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাই আমার দায়িত্ব, সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। আমি সে চেষ্টাই করছি। আর ঐক্যফ্রন্ট আমার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ দিয়েছেন তা তারাই জানে। এখানে আমার কিছু বলার নেই। এটা ইসির বিষয়, তারাই ভাল বুঝবেন।

ফেনীর ডিসি ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ যারা দিয়েছেন এটা তাদের বিষয়। আমাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়নি। তাই তারা কেন নালিশ করেছেন, সেটা তারাই জানেন। সরকার আমাকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছে, সরকারই জানে ভবিষ্যতে আমার বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নিবে। আমি সরকারি দায়িত্ব পালন করছি। তাই যতক্ষণ এই পদে আছি, সঠিকভাবে, আইনমত তা পালন করে যাব। সম্পাদনা: সুমন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ