Skip to main content

ব্যস্ত সময় পার করছেন হাজি বাহার, ১০ তারিখের পর মাঠে থাকবেন হাজি ইয়াছিন

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১ টি আসনের মধ্যে কুমিল্লা - ৬ সদর আসনে তীব্র লড়াই হবে । এখানে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হাজি আ.ক.ম বাহা উদ্দিন বাহার ও বিএনপির প্রার্থী হাজী ইয়াছিন। এই দুই হাজির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে মনে করছেন নির্বাচক বিশ্লেষকরা। কারণ হিসেবে তারা দেখছেন সদর আসনে মহানগরের নতুন ৯টি ওর্য়াড সংযুক্ত হওয়া। যেখানে দুই প্রার্থীর জন্য ভোটারদের মন জয় করা কঠিন হবে। এছাড়াও আওয়ামীলীগের আসন ধরে রাখা এবং বিএনপির আসন পুনরুদ্ধার বিষয়টিকেও বেশ গুরত্ব সহকারে দেখছেন দুই প্রার্থী। যার কারনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হাজী আ.ক.ম বাহা উদ্দিন বাহার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটারদেও সাথে উঠোন বৈঠক ও কুশল বিনিময়ের মধ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে বিএনপির প্রার্থী হাজী ইয়াছিন নির্বাচন কমিশনের বেধে দেয়া তারিখ অনুযায়ী অর্থ্যাৎ ১০ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারনায় মাঠে থাকবেন বলে জানা যায়। এদিকে আসনের সীমানা বেড়ে যাওয়া এবং আসনটিতে আওয়ামীলীগের বিজয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা নিয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আ.ক.ম বাহা উদ্দিন বাহার বলেন, কুমিল্লা সদর আসনে আওয়ামীলীগের গত দুই মেয়াদে যত উন্নয়ন হয়েছে স্বাধীনতার পরে অন্য কোন সরকারের আমলে এত উন্নয়ন হয় নি। এছাড়াও কুমিল্লা সদরে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ও জামায়াত শিবির মুক্ত করেছি। সব মিলিয়ে বলতে পারি এখানের ভোটাররা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নৌকা প্রতীকের বিকল্প দেখছেনা। প্রচার-প্রচারনার বিষয়ে হাজি বাহার বলেন, আমি এ আসনের প্রতিনিধিত্ব করি। তাই এ আসনের সাধারণ জনগনের খোঁজ খবর নেয়া আমার দায়িত্ব। তাই আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারনার বাইরে এ মানুষগুলোর সাথে কুশল বিনিময় কর আমার দায়িত্ব কর্তব্যর মধ্যে পরে। এদিকে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হাজি বাহারের তার মেয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার সাধারণ সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনা কুশল বিনিময় ও উঠোন বৈঠকে তরুন ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার সাধারণ সম্পাদক তাহসিন বাহার সূচনা বলেন, বর্তমান সমস্যা সমাধান কিংবা নতুন কোন নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি একজন প্রার্থীর জন্য তরুণ ভোটারদের ভবিষ্যৎ ভাবনাকে প্রাধান্য দেয়া। কারন আজকের তরুন ভোটাররাই আগামী দিনে তথ্য প্রযুক্তি ও ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ বির্নিমানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। সে কারনেই আমি বাবার হয়ে তরুন ভোটারদের চাহিদাগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছি। তাদের সাথে মতবিনিময় করছি। আর এভাবেই সব প্রজন্মের ভোটারদের সাথে মিলেমিশে কাজ করে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি একটি সুন্দর মডেল আসন উপহার দেয়াই আমাদের স্বপ্ন। সে স্বপ্নের পথে হাটছি আমরা। এদিকে বিএনপির প্রার্থী হাজি ইয়াছিন আসন পুনরুদ্ধারে নতুন কৌশলে মাঠে নামবেন। প্রয়াত সাংসদ লে.কর্ণেল আকবর হোসেনের পর বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত আসনটিতে আওয়ামীলীগের একছত্র আধিপাত্য বিস্তার লাভ করে। এছাড়াও আসনটিতে আওয়ামীলীগের তৃনমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলটি প্রধান বিরোধী দল বিএনপির প্রার্থীর আসন পূনরুদ্ধারের পথে বেশ প্রতিবন্ধক তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে বলে বলে মনে করছেন নির্বাচক বিশ্লেষকরা। এছাড়া কুমিল্লা সিটি মেয়র মো:মনিরুল হক সাক্কুর সাথে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজি ইয়াছিনের দলীয় অর্ন্তদন্ধ বিএনপির প্রার্থীর জন্য আসন পূনরুদ্ধার অনেক কষ্টের হবে। তবে যত যাই হউক আসন পূনরুদ্ধারে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন হাজী ইয়াছিন। আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করার পাশাপাশি ভোটারদের মন জয় করে নির্বাচনে বিজয়ী হতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন হাজী ইয়াছিন। বিএনপির প্রার্থী জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। তাই আমি মনে করছি যারা দলকে ভালোবাসে,ব্যক্তি স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে প্রাধান্য দিবে না তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের হয়ে কাজ করবে। আর দলের হয়ে কাজ করা প্রতিটি নেতাকর্মীর নৈতিক দায়িত্ব। আর আমি মনে করি যদি নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ সুষ্ঠ নিরপক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করতে পারে সেক্ষেত্রে বিএনপি কুমিল্রঅ সদর থেকে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করবে।