প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর
আমতলীতে যুবককে কুপিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

মো. জয়নুল আবেদীন, আমতলী (বরগুনা): আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর ও আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে আহত করার মামলার সাক্ষি আবুল বাসার হাওলাারকে (৩০) কুপিয়ে হাত, পায়ের রগ ও গোড়ালি কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলার তারিকাটা গ্রামে।

জানাগেছে, উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা বাজারে আওয়ামীলীগ অফিস ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী ভাংচুর করে ইউপি সদস্য আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের আহবায়ক মো. জসিম উদ্দিন মৃধা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। ওই সময় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সেরাজ হাওলাদার অফিস ভাংচুরে বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা সেরাজ হাওলাদারকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনায় সেরাজ হাওলাদার বাদী হয়ে মো. জসিম উদ্দিন মৃধাকে প্রধান আসামি করে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আবুল বাসার হাওলাদার ৩ নম্বর সাক্ষী। বাসার হাওলাদার এ মামলায় আদালতে মো. জসিম উদ্দিন মৃধা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় জসিম উদ্দিন মৃধা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। শুক্রবার গুরুতর আহত বাসার হাওলাদার বাড়ি থেকে তারিকাটা বাজারে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ব্যাংকার সুলতান হাওলাদার বাড়ির সামনে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসী মো. জসিম উদ্দিন মৃধা, বশার হাওলাদার, মাহমুদুল মৃধা ও খলিল হাওলদারসহ ১৫/২০ জন আবুল বাসারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ডান হাত, বাম পায়ের রগ ও পায়ের গোড়ালি কেটে দেয়। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে বাসারকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সংঙ্কটজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওইতিন রাতেই শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মনির ফকিরসহ আরো কয়েকজন জানান, ডাক চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি বাসার হাওলাদার রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে আছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

আহত বাসার হাওলদাার বলেন, আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর ও আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে আহত করার মামলায় জসিম উদ্দিন মৃধা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেয়ায় জসিম মৃধার নেতৃত্বে আমাকে কুপিয়ে আহত করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উভয় হাত, পা, কনুই ও পায়ের গোড়ালিসহ তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ২০টির অধিক জখম রয়েছে।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. জসিম উদ্দিন মৃধা কুপিয়ে আহত করার কথা স্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, তার লোকজনের সাথে দ্বন্ধের কারণে বাসারকে কোপানো হয়েছে। তবে এ ঘটনার সময় আমি সাথে ছিলাম না।

আমতলী থানার ওসি মোঃ আলাউদ্দিন মিলন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ