প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে উইন্ডিজ – মিরপুরে রানের পাহাড়ে বাংলাদেশ

এল আর বাদল : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যখন ৫০০’র ঘরে পৌঁছাল তখন টাইগার দলপতি সাকিব আল হাসান ইনিংস ঘোষণার ইচ্ছাপূরণ না করেই শেষ বিকালে ঝাঁঝাঁলো স্পিন ফাঁদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দু’দুটি উইকেট খেয়ে মনের ইচ্ছাটা পূরণ করলেন। এদিন স্বাগতিকদের ইনিংস শেষ হয় ৫০৮ রানে। ৫০০ রানের পরে ৮ রান যোগ করতে গিয়েই হারাতে হয় ১৩৬ রানের ইনিংস খেলা মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদকে। তখনই শেষ হয়ে যায় সাকিবের ইনিংস ঘোষণার ইচ্ছা।

শেষ বিকালে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ভাগাভাগি করে সাকিব ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৫ উইকেট তুলে নিলেন ঝটপট। সবগুলোই বোল্ড। টেস্টে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে মাত্র দুইবার। যেখানে শুরুর পাঁচ ব্যাটসম্যান ক্রিজ ছেড়েছেন বোল্ড হয়ে। তবে একটি নতুন ঘটনাও দেখেছে সাদা পোশাকের ইতিহাস।

এদিন বিকালে বল হাতে নেয়া বাংলাদেশের পাঁচ বোলারই স্পিনার। টেস্টে ইনিংসের শুরুতেও হাত ঘোরানো পাঁচ বোলারই স্পিনার, এমন বিরল দৃশ্যের দেখা মিলল সাকিবের দলের মাধ্যমেই। বাংলাদেশের করা ৫০৮ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৭৫ রান। প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়রা পিছিয়ে ৪৩৩ রানে, হাতে ৫ উইকেট। হেটমায়ার ৩২ ও ডওরিচ ১৭ রানে অপরাজিত থেকে গড়েছেন ৪৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। এক কথায় মিরপুর টেস্টের চালকের আসনে বাংলাদেশ।

শুক্রবার প্রথম দিন পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান করে এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ। শনিবার দ্বিতীয় দিনেও সে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখে স্বাগতিকরা। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান সাজঘরে ফিরলেও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাাহর চমৎকার শতকে রানের পাহাড় গড়ে লাল-সবুজের দেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার পাঁচশ ছাড়ায় বাংলাদেশের ইনিংস। টেস্ট ক্রিকেটে ১৯ বছরের পথচলায় এটি টাইগারদের সর্বোচ্চ সংগ্রহে থাকছে সপ্তম স্থানে।

এদিন সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৩০১ রানে কেমার রোচের বলে শাই হোপের হাতে ক্যাচ হন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ১৩৯ বলে ৮০ রান করেন তিনি। এই রান করার পথে তিনি ছয়টি চার মারেন। টেস্টে এটি তার ২৪তম অর্ধশত। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে রিয়াদের সঙ্গে ১১১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন সাকিব। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে জুটি বাঁধেন লিটন দাস। দারুণ খেলতে থাকেন দুজন। রিয়াদ একটু ধীরে এগোলেও ওয়ানডে স্টাইলে খেলতে থাকেন লিটন। ৫০ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। প্রথম সেশনে ৫৩ রানে অপরাজিত থেকে লাঞ্চ বিরতিতে যান লিটন।

লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন দাস। ব্যক্তিগত ৫৪ রানে ফিরে যান সাজঘরে। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি। সপ্তম উইকেট জুটিতে রিয়াদের সঙ্গে ৯২ রানের জুটি গড়েন মিরাজ। দলীয় ৪১৬ রানে জোমেল ওয়ারিকানের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর তাইজুলও মাঠ ছাড়েন। দলীয় ৫০৮ রানের মাথায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিকার ২৪২ বলের ১৩৬ রান করা মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ