প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় প্রস্তুতি নিচ্ছে না কেউ, বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা
ভোটের মাঠে পিছিয়ে পড়ছে বিএনপি

আসাদুজ্জামান সম্রাট : নির্বাচনী আসনগুলোতে বিএনপির প্রার্থী কে-তা চূড়ান্ত না হওয়ায় নির্বাচনী প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়েছে দলটি। অপরদিকে কয়েকটি আসন ছাড়া সবগুলো আসনেই দলীয় চূড়ান্ত প্রার্থী থাকায় নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে ভোটের মাঠেই নিজেরাই একটি অসম পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বিএনপি। এ নিয়ে প্রতিদ্বিন্দ্বি প্রার্থীদের মাঝেও রয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপি সবচে’ দীর্ঘ সময় সরকারের বাইরে রয়েছে বিএনপি। প্রায় ১২ বছর ধরে বিরোধী দলে অবস্থান করায় নানা মামলায় দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন আটকে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকাতেই একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। কৌশলগত কারণে এ মনোনয়ন যৌক্তিক মনে হলেও এ নিয়ে দলের মধ্যে শুরু হয়ে সংশয় সন্দেহ। চূড়ান্তভাবে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা নিয়ে সৃষ্ট সংশয় ও সন্দেহ থেকেই কেউ মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের সংগঠিত করা কিংবা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে যাননি। বেশিরভাগ প্রার্থীই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন প্রতিনিধি পাঠিয়ে।

বরিশাল-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ৩ জনকে। এদের মধ্যে সংস্কারপন্থী নেতা সৈয়দ শহীদুল হক জামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু দলীয় মনোনয়ন দাখিলের জন্য যাননি। উভয়েই প্রতিনিধি পাঠিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনোনয়নপত্রই দাখিল করেননি। শহীদুল হক জামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু এখনও নির্বাচনী এলাকায় যাননি। শহীদুল হক জামাল জানান, চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়েই মাঠে যেতে চাই।

বরিশাল-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দু’জন। একজন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান। অন্যজন সংস্কারপন্থী নেতা জহির উদ্দিন স্বপন। তারাও নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করেননি। একই অবস্থা অন্য নির্বাচনী এলাকাতেও। বরিশাল-৬ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আবুল হোসেন খান ও অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ খান। ভোলা-৪ আসনের মনোনয়ন পেয়েছেন নাজিম উদ্দিন আলম ও যুবনেতা নূরুল ইসলাম নয়ন। দু’জনেই মনোনয়নপত্র দাখিল করে এলাকায় গেলেও নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক কিছুই করেননি। অথচ ওই এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। কর্মীসভা করছেন। কর্মীদের সংগঠিত করছেন। কেন্দ্র ওয়ারী কমিটিও করেছেন।

নূরুল ইসলাম নয়ন জানান, নির্বাচনী এলাকার দু’টি থানা মনপুরা ও চরফ্যাশনে গিয়ে গণসংযোগ করেছি। কর্মীসভা কিংবা কেন্দ্রওয়ারী প্রস্তুতিমূলক কিছু করা হয়নি। কারণ কে মনোনয়ন পাবেন তা এখনও চূড়ান্ত নয়। আমি মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবো। না পেলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে কাজ করবো।

তিনি বলেন, যেসব নির্বাচনী এলাকায় আগের নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হবে সেসব জায়গায় খুব একটা সমস্যা হবে না। যেখানে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে সেখানে সমস্যা হতে পারে। এতো অল্প সময়ের মধ্যে আগের নেতৃত্বকে ম্যানেজ করে মাঠ তৈরি করা কঠিন হবে। তিনি মনে করেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে এটা খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ