প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনে ভোটারদের গরু সেবায় বিজেপি’কে টক্কর দিচ্ছে কংগ্রেস

রাশিদ রিয়াজ : ভারতের মধ্যপ্রদেশের পর রাজস্থানেও গো-রাজনীতিতে বিজেপিকে টক্কর দিচ্ছে কংগ্রেস। রাজস্থানের জন্য কংগ্রেসের ইস্তেহারে বলা হয়েছে, গোশালার জন্য অনুদান বাড়ানো হবে। সব গোশালায় ছাউনি তৈরি করে দেওয়া হবে। গরুর চিকিৎসা, খাবার ও জলের ব্যবস্থা করা হবে। নিরাশ্রয় গরুতো বটেই বাছুরদেরও থাকার ব্যবস্থা করা হবে। কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি গোশালার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করার দাবি করছে ঠিকই, কিন্তু তারা আদতে অনুদান কমিয়ে দিয়েছে। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে গরুদের ঠিকভাবে দেখভাল হবে এবং বলাই বাহুল্য তার জন্য ঢালাও অর্থ বরাদ্দ হবে।

এর আগে কংগ্রেস রাজনীতিতে কোনও দিনই গরু সে ভাবে প্রাসঙ্গিক ছিল না। সেই সুযোগ পুরোদমে তুলেছে বিজেপি। অথচ, রাজস্থানই একমাত্র রাজ্য যেখানে গো-মাতার দেখভালের জন্য আলাদা একটা মন্ত্রক পর্যন্ত আছে। জয়পুরের পাশে সরকারি গোশালা দেশের প্রথম গো-সাফারি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যেখানে গিয়ে ওই গোশালায় গাছ-ঘরে থেকে গরুদের খাওয়ানো, দুধ দোওয়া, সেবা করার সুযোগ পাবেন যে কেউ। সরকারি হিসাব হল, রাজ্যে মোট ২৬৭৩টি নথিভুক্ত গোশালায় ৯ লাখের বেশি গরু রয়েছে। তাতেও গরুর তুলনায় গোশালার পরিমাণ কম বলে প্রচুর বেওয়ারিশ গরু রাস্তায় ঘোরে। গোরক্ষকদের তা-বের পর গরু অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়া প্রায় বন্ধ। সে জন্যই গোশালার চাহিদা আরও বেড়েছে। আর গো-সেবার বিষয়টি এতদিন বিজেপি-র একচেটিয়া ছিল। এ বার কংগ্রেস নরম হিন্দুত্বের পথ নেওয়ায় তাঁদের নজর পড়েছে গো-মাতার ওপরেও। রাজস্থানের সর্বত্র অনেক ধাবা, হোটেলে চোখে পড়বে একটা কাঁচের বাক্স। তাতে গরুর সুসজ্জিত মূর্তি। সেটা হল দানপাত্র। লোকে তাতে ঢালাও দানও করে থাকেন। এই আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন রাজনীতিতে পড়তে বাধ্য।

ফলে গো-রাজনীতিতে রাহুল গান্ধীও পিছিয়ে থাকতে রাজি নন। আসলে কংগ্রেস এ বার মধ্যপ্রদেশে ও রাজস্থানে হিন্দুত্বের নামে বিজেপি’কে জমি ছাড়তে রাজি হচ্ছে না। তাই রাহুল গান্ধী তাঁর প্রচার শুরু করেছেন আজমের দরগার পাশাপাশি পুষ্করে ব্রহ্মার মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করে। সেখানে জাত- গোত্র পর্যন্ত বলে দিয়েছেন তিনি। ফলে বিজেপি নেতারা আর অন্তত তাঁর গোত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারছেন না। রাহুল কৈলাস-মানসরোবরও ঘুরে এসেছেন। এদিক দিয়ে তিনি মোদী-শাহকে টেক্কা দিয়েছেন। নরম হিন্দুত্বের পথে চলতে গিয়ে কংগ্রেস তো ইস্তাহারে মুসলিমদের নাম পর্যন্ত নেয়নি। সংখ্যালঘু শব্দটি ব্যবহার করেছে। আর এখানে সংখ্যালঘুদের মধ্যে জৈনরাও পড়েন। তাঁদেরও সন্তষ্ট করতে চাচ্ছে কংগ্রেস। বিজেপি গতবার মুসলিমদের জন্য ১৪টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ বার একটাও নয়। এটা তাঁদের কাছে প্রত্যাশিত কারণ, তাঁরা হিন্দ্ত্বুকে হাতিয়ার করছে। শেষ সময়ে সচিনকে কোণঠাসা করতে ইউনুস খানকে প্রার্থী করা হয়েছে, না হলে একজন মুসলিমকেও তাঁরা প্রার্থী করত না। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসও চেষ্টা করছে, তাঁদের ওপর মুসলিম-তোষণকারীর তকমাটা ঝেড়ে ফেলতে। কারণ, এই মরুরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি সুকৌশলে এই ধারণাটা লোকের মনে ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছে। লোকের মনে সেটা ঢুকেও পড়েছে।

ধর্মেশ গোস্বামী গাড়ি চালান, নাম জিজ্ঞাসা করতে প্রথমেই বেশ গর্বের সঙ্গে বললেন, ব্রাহ্মণ, তারপরই যোগ করলেন, আমাদের ব্রাহ্মণ ভাই-বেরাদরির আলাদা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ আছে। সেখানে প্রায় সকলের এই মত যে বিজেপি’কেই ভোট দিতে হবে। কেন? কারণ, বিজেপি-ই একমাত্র পারে হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষা করতে। কংগ্রেস এলেই তো ওদের রমরমা হয়ে যাবে। এটা বাংলার আমরা-ওরা নয়, এই ওরা যে কারা, সেটা আন্দাজ করাটা কঠিন নয়। লোকের মনের এই ধারণাটা কাটাতেই কংগ্রেসের নরম হিন্দুত্বের লাইন। এখানে প্রচারে এসেও মন্দির দর্শন করেই জনসভায় যাচ্ছেন রাহুল। লোকের মনোভাব তো একদিনে বদল হয় না, তবে বিজেপি প্রচারটাকে অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে। অমিত শাহ যেমন প্রতিটি সভায় বলছে, যারা ভারত মাতা কি জয় বলে না, তাঁরা কী দেশের সেবা করবে? নরম হিন্দুত্বের লাইন তো এমনি এমনি নেননি শিবভক্ত রাহুল গান্ধী! এই সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ