প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্লাস্টিক দ্রব্যে বাগানের শহর আজ ভাগাড়ে রূপান্তরিত

সৌরভ নূর : গবেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ প্লাস্টিক দ্রব্য সাগরে ভেসে যাচ্ছে তার নব্বই ভাগই বয়ে নিয়ে আসে দশটি নদী। আর এই দশটির মধ্যে আটটি হলো এশিয়ায়, আর দুটি আফ্রিকায়।

আফ্রিকার নদী দুটি হলো নীল নদ আর নাইজার নদী। আর এই নাইজার নদীর মুখেই গড়ে উঠেছে নাইজেরিয়ার পোর্ট হারকোর্ট শহর, যেটি এক সময় সুপরিচিত ছিলো বাগানের শহর হিসেবে। অথচ এখন ভিন্ন দৃশ্য, তীব্র দুর্গন্ধ আর বর্জ্য আর ময়লার স্তূপ। আর সে কারণেই পোর্ট হারকোর্ট শহর আবার কখনো বাগানের শহরের রূপ ফিরে পাবে কি-না তা আর নিশ্চিত নয়।

সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুর আর শূকরের মতো প্রাণী। কাছেই আবার মানুষের বসতিও রয়েছে। হাজার হাজার প্লাস্টিক সামগ্রী ভেসে বেড়াচ্ছে এদিক-সেদিক। অনেককেই বরং দেখা যায় নৌকা নিয়ে মাছের বদলে সংগ্রহ করছেন প্লাস্টিক দ্রব্য। অথচ এখানেই একসময় জেলেদের আনাগোনা ছিলো মাছের জন্য। অনেক জেলে মাছ ধরতে না পেরে এখন কাঁদছে। কেউ কেউ এখনো নদীতে আসে এবং সারারাত ধরে জাল পাতে কিন্তু শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতেই তাদের ফিরে যেতে হয়। প্লাস্টিক বর্জ্য এ নদী থেকে মাছ তাড়িয়ে দিয়েছে মনে করেন অনেক জেলে।

নদীতে এখনো যেসব জেলে প্রতিনিয়ত মাছ খুঁজে বেড়ান তাদের একজন অগাস্টিন ব্লেসিং বলেন, ‘এখন আমি আসলে প্লাস্টিক ধরছি যেগুলো ওয়াটার প্রুফ। আর নদীর পানি ময়লা আবর্জনায় ভর্তি। একবার আসলে যা মাছ পাওয়া যায় তাতে তিন ডলারের সমান অর্থও আয় হয় না।’

কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত ‘সমুদ্র অর্থনীতি’ বিষয়ক সম্মেলনে আলোচনায় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের জন তানজের বলেন, ‘গত দুই দশক বা ২৫ বছরের মতো সময় আমরা সম্পূর্ণ প্লাস্টিক নির্ভর ছিলাম। এর কারণ হলো এটি দামে বেশ সস্তা। কিন্তু এখন আমরা উপলব্ধি করতে পারছি যে এটি আসলে সস্তা না কারণ এর জন্য আমাদের অনেক বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। নদী নালা পরিবেশকে এর জন্য কঠিন মূল্য দিতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে আমাদের স্বাস্থ্যসহ সব কিছুর ওপর।’– বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ