প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলিশের বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ : মতলবটা কী?

দীপক চৌধুরী : পুলিশকে কীভাবে দায়ী করা যায়, দোষ দেওয়া যায়, তাদের মনোবল কীভাবে দুর্বল করা যায় এই একটি পরিকল্পনা সামনে নিয়েই যেন ঐক্যফ্রন্ট এগোচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ধরন, বিএনপির অভিযোগের মাত্রা বা দায়িত্বহীন উক্তি কী প্রমাণ করে বিএনপি সুন্দর নির্বাচন চায়? না, দলটি দেশ বদলাতে চায়। জঙ্গি-জামায়াতকে দিয়ে পুনরায় বদলা নিতে চায়। এটাই পরীক্ষিত সত্য, বিএনপি নির্বাচনী জোট গড়তে গিয়ে আবারো স্বাধীনতাবিরোধীদের ও কট্টর ইসলামপন্থীদের মিত্র করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৩২টি মামলায় ৫৯ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে। কুখ্যাত নরঘাতক নিজামী, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ গ্লানিমুক্ত হয়েছে। আর জাতি দেখলো কোনো কিছুই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে পারেনি আপন প্রতিজ্ঞা থেকে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি উল্টোটা। ঐক্যফ্রন্ট অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

যদি প্রশ্ন করা হয় সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব কী শুধু পুলিশেরই! আর কারো নয়। তাহলে কী অর্থ এটা দাঁড়ায় না যে, আগামীর সরকার কী হবে তা নির্ভর করছে পুলিশের ওপর! বিএনপি দলটির কাছ থেকে এমন নিম্নমানের অভিযোগ আসার মাধ্যমে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন সহিংস হয়ে উঠবে! এতো সস্তা কথা রাজনীতির গুণগত মানকে বৃদ্ধি তো করেই না বরং নিচের দিকে ধাবিত করে। নির্বাচনের জল কতদূর গড়াবে এরইমধ্যে এই সন্দেহও ভারী হচ্ছে। কারণ, ২০০১ সালের নির্বাচনকে ভিত্তি ধরে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। দলটি শেষ পর্যন্ত জামায়াতকে ২৫টি ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছে। এরসঙ্গে জামায়াত আরো ২২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। জাতিকে হতাশ করেছে এমন বিভিন্ন পদক্ষেপ। ছয় মাস আগেও রাজনীতির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে মনে করা হতো বিএনপি জোট নির্বাচনে যাবে না। পরিবেশ পাল্টে গেলো গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ কয়েকজনের পরিকল্পিত পদক্ষেপে। ফলে বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত এবং ড. কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টে জোট গঠন করার পর রাজনীতিতে নতুন মোড় এলো। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টসহ ২৭০ জন নেতার সংলাপ রাজনীতিকে এনে দিয়েছিল এক আলোকিত চমক। কিন্তু এখন তো দিনে দিনে সেই চমক ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

এরইমধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯২ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তাদের এই দাবি পূরণ সম্ভব কী না নির্বাচন কমিশনারই ভালো বলতে পারবেন। তবে লক্ষণ ভালো ঠেকছে না।

বিএনপির প্যাডে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে দেওয়া একটি তালিকায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ জনপ্রশাসনের কয়েকজন সচিব, জ্যেষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কয়েকজন জেলা প্রশাসকের নামসহ ২২ জন রয়েছেন। আরেক তালিকায় পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোখলেসুর রহমান, র‌্যাবের বেনজীর আহমেদ, ডিএমপির পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশের ডিআইজি মনিরুল ইসলামসহ অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারের মতো পদধারী ৭০ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। ‘যারা সমতল মাঠকে অসমতল করার কাজে ব্যস্ত’ এমন অভিযোগ তুলে তাদের নাম, পদবি, কর্মস্থলসহ সকল তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই ৯২ জন যদি আওয়ামী লীগপন্থী হন তবে ৯২ জনের বাইরে যারা আছেন তারা কী বিএনপি-জামায়াতপন্থী? সত্যিই কী ঐক্যফ্রন্ট গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়। গণতন্ত্র মানে কি জঙ্গি সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক দলগুলোকে নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া? গণতন্ত্র মানে রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রিত্ব দেয়া? যুদ্ধাপরাধী- রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা আমরা দেখেছি বিএনপি-জামায়াতের সরকার আমলে। এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কী? ৩২০ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কিন্তু ৩২০ ছাত্রদল শিবির ক্যাডার চাকরি করছেন এখনো। বিএনপি নেতাদের কি সেই খেয়াল আছে? এখন যদি তাদের বাদ দেওয়ার দবি তোলা হয়? স্মৃতি শক্তি কি হারিয়ে গেছে? তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে আইবিএ-এর মাধ্যমে তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে অর্ধেক এর বেশি লোককে বাদ দিয়েছিল ভুলে গেলেন বিএনপি নেতারা? ২০১৪ সালে নির্বাচনকে ঘিরে কঠিন অবস্থা শুরু হয়েছিল। খুন-হত্যা- পেট্রলবোমা-অবরোধ সন্ত্রাসের তা-বে মাঠে ছিল পুলিশই। তারা কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে, আহত-পঙ্গু হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে যারা এখনই আসামি বানাতে চায়, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যারা এখনই ঢালাওভাবে তালিকা করে মাঠে নামছে তাদের মতলবটা কী? পরিবেশ অশান্ত করে তোলার অন্য হিসেব না তো!

লেখক : উপ-সম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি, কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ