প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দরিদ্র মানুষ চায় বাজার স্থিতিশীলতার অঙ্গীকার

ডেস্ক রিপোর্ট : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার কেমন হবে—এ নিয়ে সরব দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। ইশতেহার নিয়ে আলোচনা চলছে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যেও। দেশের চলমান উন্নয়ন বাস্তবতায় হুড়মুড় করে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের দাম। দরিদ্র মানুষের আয়ের তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যদ্রব্যের দামের সামঞ্জস্য না থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। তাই আসন্ন নির্বাচনে এসব পণ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি চায় তারা। গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠ’র কাছে এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ।

রাজধানীর ছোলমাইদ এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক জুলফিকার মিয়া বলেন, ‘আমার বাড়ি রংপুর জেলায়। এলাকায় কাজের সুযোগ না থাকায় রিকশা চালিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকি ঢাকায়। কিন্তু এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের দাম অনেক বেশি থাকায় ব্যয় নির্বাহ করতে কষ্ট হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা রাজনীতি বুঝি না। যে রাজনৈতিক দল আমাদের সামান্য খেয়ে-পরে বাঁচার অধিকার দেবে আমি সে দলকেই ভোট দেব। আর ভালোভাবে চলতে হলে পণ্যের দাম নাগালের মধ্যে থাকতে হবে।’

জুলফিকারের সঙ্গে একমত পোষণ করে অনেকেই। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কোনো দলই সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে না। তাই শহরের গুটিকয়েক মানুষ উন্নয়নের সুফল ভোগ করলেও বঞ্চিত গরিবরা। এ ছাড়া গত দশ বছরে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। সে হিসাবে বাড়েনি উপার্জন।

রাজধানীর নতুন বাজারের খন্দকারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে রং চা বিক্রি করতাম তিন টাকায়। আর দুধ চা ছিল চার টাকা। এখন এই দুই রকম চা বিক্রি করি পাঁচ টাকায়। কিন্তু ত্রিশ টাকা কেজির চাল বেড়ে পঞ্চাশ টাকা হয়েছে। আমরা চাই সরকার এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুক।’ তাঁর মতে, কোনো সরকারই গরিবদের নিয়ে ভাবে না। পাঁচ বছর আগে বিশ টাকায় ছোট মাছ কেনা যেত। এখন এক পোয়া ছোট মাছের দাম কমপক্ষে ৫০ টাকা। শীতকালীন সবজিসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের দামেও বেড়েছে দ্বিগুণ।

দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে চিন্তিত থাকলেও তাদের পরিবারের তরুণ সদস্যরা চিন্তিত সুশাসন নিয়ে। নতুন বাজার এলাকায় বাবার মুদির দোকানে প্রতিদিন বিকেলে বসেন মো. হাসান নামে এক তরুণ।

নির্বাচনী ইশতেহারে প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ুয়া এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা চাই আমি। এ ছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে সব ধরনের হানাহানি প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রতিশ্রুতি চাই।’

দেশের ভারসাম্য উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আরো স্বচ্ছতা চায় অনেকে। তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ ভারসাম্য উন্নয়নে অবদান রাখে।

ছোলমাইদের বসুমতি এলাকার ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম বলেন, ‘স্বচ্ছতার অভাবে সরকারি চাকরিতে এখনো সমান সুযোগ নেই। যাদের টাকা নেই তাদের চাকরি পাওয়া অনেক কষ্ট। তাই নির্বাচনী ইশতেহারে আমি চাই সব দল স্বচ্ছতার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিশ্রুতি প্রদান করুক।’

সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ