প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধানের শীষ তুমি কার

ডেস্ক রিপোর্ট : কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী, আবদুল গফুর ভুঁইয়া ও মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। এর মধ্যে মনিরুল হক চৌধুরী ও মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এখনো কারাগারে। ওই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে নাঙ্গলকোটের নেতা-কর্মীরাও তিন ধারায় বিভক্ত। একই অবস্থা কুমিল্লা-৬ আসনেও। সেখানে বিএনপির পক্ষে আমিনুর রশীদ ইয়াসিন ছাড়াও কারাবন্দী মনিরুল হক চৌধুরী ও মোস্তাক মিয়া মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। কিন্তু ধানের শীষ প্রতীক কার— তা কেউই বলতে পারছেন না। শুধু এ দুটি আসনেই নয়, হাতে গোনা কয়েকটি বাদে ৩০০ আসনেই বিএনপির একাধিক প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও তিন বা চারজনও প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীক কে পাচ্ছেন— তা এখনো স্পষ্ট নয়। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তবে বিএনপির কেন্দ্র থেকে বলা হচ্ছে, কৌশলগত কারণেই বিএনপি একাধিক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই চূড়ান্ত হওয়ার পর বিএনপি ধানের শীষের প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। কেউ বাদ পড়ছেন কিনা তা দেখেই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হবে। তবে এ নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে মান-অভিমানের শেষ নেই। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা প্রতীকের অপেক্ষায় রয়েছেন।

জানা যায়, নিজ নিজ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রবিবার নির্বাচন কমিশনের বাছাই পর্যন্ত বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা যার যার এলাকায় থাকবেন। এরপর শুরু হবে ঢাকামুখী দৌড়ঝাঁপ। ধানের শীষ প্রতীক পেতে ফোনে এরই মধ্যে ঢাকা ও লন্ডনে নানাভাবে যোগাযোগ করছেন প্রার্থীরা। মনোনয়নের চিঠি পেলেও তাদের মধ্যে এখন প্রতীকের টেনশন কাজ করছে। এ নিয়ে একাধিক প্রার্থীও রয়েছেন চরম অস্বস্তিতে। আবার যারা এককভাবে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন তারাও টেনশনে রয়েছেন। কোনো কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয় কিনা, তা নিয়েও সংশয় কাজ করছে তাদের মধ্যে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা কৌশলগত কারণেই একাধিক প্রার্থী দিয়েছি। প্রায় সব আসনেই বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। সরকারের রোষানলে পড়ে কোনো প্রার্থী নির্বাচন করতে না পারলে সেখানে বিকল্প প্রার্থীই ভোট করবেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ধানের শীষের একক প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।’

চট্টগ্রাম-৫ আসনে ২০-দলীয় জোটের শরিক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম চলছিল। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। প্রায় প্রতিদিনই ভাটারা ও আশপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে দামি দামি জিনিসপত্র হারিয়ে যেত। কিন্তু এ রহস্য উন্মোচন করতেই অপেক্ষা করতে হয়েছে অন্তত এক মাস।

রড চুরি থেকে ভয়ঙ্কর চোর হয়ে ওঠা : চায়ের দোকান ছেড়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে যোগ দেওয়ার কিছুদিন পরই শিপন রডের টুকরা চুরি করা শুরু করে। এক পর্যায়ে সে রডের বান্ডিলও চুরি করে বিক্রি করা শুরু করে। কয়েক বছর পর গড়ে তোলে তিন সদস্যের সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের সদস্যরা এলাকায় ঘুরাঘুরি করে বিভিন্ন বাসা-বাড়ির সামনে রেকি করত। কয়েক দফা রেকির পর চুরির অভিযানে যেত শিপন।

যেভাবে উন্মোচন হলো চুরির রহস্য : ৬ মে ভাটারার একটি বাড়িতে ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটে। বাসার জানালার গ্রিল কেটে ভিতরের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালঙ্কারসহ সাড়ে ৯ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। একই এলাকায় ২০ মে আরেকটি চুরি হয়। এ সময় ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ও বাসার বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়। ২৪ মে আরেক দফা চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই এলাকার একটি বাসার ৮ লাখ ২১ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল খোয়া যায়। জানা যায়, বাসা তিনটি ছিল সচিব ও পুলিশ কর্মকর্তাদের। যে কারণে এই তিনটি মামলা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ। পুলিশের তদন্তে চুরির ধরন ও কৌশল একই বলে ধরা পড়ে। প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর শিপনকে শনাক্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান।

শিপনের চুরির কৌশল : চুরির আগে প্রতি সন্ধ্যা রাতে বিভিন্ন বাসা-বাড়ির সামনে শিপন ও তার দুজন লোক রেকি দিত। যে বাসার বাতি বন্ধ থাকত সেই বাসায় আরও দু-দফা রেকি দিত। তিন দফা রেকি শেষে তারা অনুমান করত যে, হয়তো ওই বাসার লোকজন ঢাকা কিংবা দেশের বাইরে রয়েছে। এরপর একজন সঙ্গী নিয়ে প্রাইভেটকার নিয়ে চুরি করতে সেই বাসায় হানা দিত শিপন। তার টার্গেট থাকত দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার বাসাগুলো। সে প্লাস ও রেঞ্জ নিয়ে জানালা কেটে বাসার ভিতরে ঢুকে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে মূল্যবান মালামাল হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ত।

যত সব সম্পদের মালিক : শুধু ভাটারা এলাকাতেই ৫ বছর ধরে চুরি করে আসছিল শিপন। আর প্রতিটি বাসা থেকে চুরি করে বাসায় ফেরার আগে হাতিয়ে নেওয়া স্বর্ণালঙ্কারগুলো বাড্ডা ও তাঁতীবাজারে দুটি স্বর্ণের দোকানে বিক্রি করে দিত। চুরির টাকায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও রূপগঞ্জে দুটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি, আর বাড্ডায় দুই কাঠা জমিও কিনেছে শিপন। এ ছাড়াও তার রয়েছে ৩৫ লাখ টাকার প্রাইভেটকার এবং ৫ লাখ টাকার মোটরসাইকেল।

যেভাবে ধরা পড়ল শিপন : চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে ভয়ঙ্কর এই চোরকে ধরতে অন্তত ১৭ বার অভিযান চালায় পুলিশ। প্রতিটি স্থানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত হওয়ার ৫ মিনিট আগে পালিয়ে যায় সে। তিন দফা অভিযানের পর পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে যায় শিপন। সেখানে শিলিগুড়ি পুলিশের কাছেও ধরা পড়ে। কয়েক দিন পর দেশে ফিরে এলে আবারও তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে সে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স করে নিজেকে বড় ব্যবসায়ী দাবি করে উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। এতেও রক্ষা হয়নি তার।

সর্বশেষ ২১ নভেম্বর সকাল পৌনে ৯টার দিকে রিপনকে নিয়ে ভাটারা ঘাটপাড় এলাকায় অবস্থান করাকালে পুলিশ তাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এদিকে পেশাদার আরও দুই চোর মো. বাবু ও তার বন্ধু রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তারাও বাসা-বাড়িতে বাতি বন্ধ দেখলেই অপারেশন শুরু করত। ৫ মিনিটের মধ্যেই গ্রিল কাটত। এরপর ছোট্ট কাটা জানালা দিয়ে ভিতরে ঢুকে ২০ মিনিটের মধ্যে ঘর তন্ন তন্ন করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে বেরিয়ে পড়ত। ১০ বছর ধরে প্রায় নিয়মিত গ্রিল কেটে গুলশান, বনানী, বাড্ডা, নতুন বাজার, মহাখালী, রামপুরা এলাকায় চুরি করে আসছিল। দুই বন্ধু মিলে রাজধানীতে চুরি করেছে অন্তত সাড়ে ৪০০। মালিক হয়েছে লাখ লাখ টাকার। নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীতে তৈরি করেছে বাড়িও।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ