প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উদ্বেগ-অনিশ্চয়তায় বিএনপি ও তার সঙ্গীরা

যায়যায়দিন :  ৬০টি আসন ছাড়ার কথা বলে ৩০০ আসনে দলীয় প্রাথীর্ মনোনয়ন দেয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে জোটের শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে বিএনপির। আর জোটের নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিভেদও দলের চ‚ড়ান্ত প্রাথীর্ বাছাই এবং জোটের সঙ্গে আসন বণ্টনের সমস্যা বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে।

অপরিকল্পিতভাবে প্রাথীের্দর মধ্যে মনোনয়পত্র বিতরণের কারণে লবিং বেড়ে গেছে। অনেক উচ্চ পযার্য় থেকে নিম্নমানের প্রাথর্র্ীর জন্য জোর তদবিরে বিব্রত দলের হাইকমান্ড। অন্যদিকে ৬০টি আসন জোটের শরিকদের ছাড়ার কথা বলে তিনশ আসনে মনোনয়ন দেয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে জোটের শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে। আর জোটের নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিভেদও স্পষ্ট হচ্ছে। এতে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টে। নিবার্চনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকে বিএনপি জোটের শরিকদের ব্যাপক ছাড়ের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। আর মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে দলের পক্ষ থেকে শরিকদের ৬০টি আসন ছাড়ের ঘোষণাও দেয়া হয়।

৬০ আসনে দুই পাশের শরিকরা সন্তুষ্ট না হলেও একরকম মেনে নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন দেখে জোটে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শরিকদের বক্তব্য হচ্ছে, ৬০ আসন ছাড় দিলে বিএনপির ২৪০টি আসনে মনোনয়নপত্র দেয়া উচিত ছিল। তা না করে প্রাথমিকভাবে তিনশ আসনেই প্রাথীর্ রেখেছে বিএনপি। ফলে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট সূত্রমতে, বিএনপির মনোনয়নপত্র বিতরণের ধরন দেখে তাৎক্ষণিক নিজেদের অবস্থান পরিবতর্ন করে জোটের শরিক প্রায় সব দল। জামায়াতের সঙ্গে ২৫টি আসনের সমঝোতা হলেও বিএনপির কৌশল তাদের ভালো লাগেনি। এজন্য ৬৭টি আসনে তারা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রাথীর্ রেখেছে। এতদিন এলডিপি ৫টি আসন পাচ্ছে এমন আলোচনা থাকলেও পরে এলডিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের বিএনপির পক্ষ থেকে ১০টি আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। এলডিপি ছাড়াও ২০ দলীয় জোটের অনেক শরিকদলও নিজেরা দলীয়ভাবে বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো নিজেদের মতো বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এখন প্রাথির্তা প্রত্যাহারের আগে দরকষাকষি করে নিজেদের হিস্যা বুঝে নেয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা। ঐক্যফ্রন্টের শীষর্ এক নেতা জানান, বিএনপি যোগ্যতার ভিত্তিতে আসন ছাড় দেয়ার কথা বার বার বলে এসেছে। কিন্তু এখন তাদের মনোভাব সন্দেহজনক। প্রাথীর্ প্রত্যাহারের আগে এনিয়ে বিএনপির সঙ্গে শেষ বোঝাপড়া হবে। সেখান থেকে সমঝোতা না হলে অনেক দল নিজ দলের হয়ে নিবার্চনে অংশ নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। জোটের সঙ্গে আসন বণ্টনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মিজার্ ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই আসন বণ্টন হবে। আসন বণ্টন নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো সমস্যা হবে না বলেও মনে করেন তিনি। এদিকে জোটের সমস্যার চেয়ে দলীয় সমস্যা বেশি ভাবাচ্ছে বিএনপিকে। ৮শ প্রাথীর্ থেকে ২৪০ নেতাকে চ‚ড়ান্ত করা বিএনপির জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ মনোনয়নপত্র বিতরণে এতটা বিশৃঙ্খলা ছিল যে, আসলে কতজনকে মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে তার প্রকৃত পরিসংখ্যানই নেই বিএনপির কাছে। এছাড়া কতটি আসনে ২ জন, ৩ জন, ৪ জন বা এর অধিক চিঠি দেয়া হয়েছে সে তথ্য জানাতে পারেনি বিএনপির গুলশান অফিস বা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় দপ্তর। সূত্রমতে, চ‚ড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম রাখতে ইতোমধ্যে প্রাথীর্রা জোর লবিং শুরু করেছেন। প্রত্যেক প্রাথীের্ক কেন্দ্র করে নিজস্ব বলয় তৈরি হয়েছে। তারা কমীর্ বাহিনী গোছানোর পাশাপাশি বেশির ভাগই নিবার্চনে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজের যোগ্যতা এবং এলাকা নিজের অবস্থান বোঝানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনদের কাছেও সুপারিশ করছেন।

এ অবস্থায় ৬শ’র বেশি প্রাথীের্ক সামাল দিয়ে ২৪০ প্রাথীর্র মনোনয়ন চ‚ড়ান্ত করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ৯ ডিসেম্বরের আগে বিষয়টি নিষ্পত্তি সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। এই নিবার্চনে দলের কত প্রাথীর্ মনোনয়নপত্র জমা দিলেন পরিসংখ্যান জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটার হিসাব এখনো হয়নি। হিসাবের পরে বলা যাবে। কয়েকদিন ধরে পরিশ্রম করে তারা ক্লান্ত। তাই হিসাবটা করতে সময় লাগবে। তবে একই আসনে একাধিক প্রাথীর্ বহু জায়গায় দেয়া হয়েছে । বিএনপি সূত্রমতে, একই আসনে বিএনপির প্রায় ৩ থেকে ৪ জন বা তার অধিক মনোনয়ন চিঠি নিয়েছেন, আবার সেখানে জোটের প্রাথীর্ দেয়া হয়েছে। এর ফলে সেখানেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। একাধিক প্রাথীের্ক চিঠি দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে একাধিক গ্রæপও তৈরি হয়েছে। এ কারণে কে আসল এবং কে বিকল্প প্রাথীর্ তা এখনো স্পষ্ট না হওয়ায় সকলেই মনে করছেন, চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন তিনিই পেতে পারেন। আর এমন আশা থেকেই তারেক রহমানসহ ঢাকায় সিনিয়র নেতাদের কাছে ফের তদবির-লবিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জোটের সঙ্গে আসন বণ্টন এবং দলীয় প্রাথীর্ চ‚ড়ান্তকরণে কি সমস্যা হতে পারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনেক চিন্তাভাবনা করে প্রাথীের্দর মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে একজনকে দল শেষ পযর্ন্ত প্রাথীর্ রাখবে, এটা সবাই জানেন।

আশা করেন, সবাই দলের জন্য এ বিষয়ে সেক্রিফাইস করবে। আর শুরুতে একটু সমস্যা মনে হলেও প্রাথীর্ চূড়ান্ত করার পর সব ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, মনোনয়ন দেয়ার সময় প্রাথীের্দর বলা হয়েছে, চিঠি পাওয়ার অথর্ তিনি ধানের শীষ পাবেন এমনটা নয়। ৯ ডিসেম্বর যাদের নামে চিঠি যাবে, তারাই ধানের শীষ পাবেন। জানতে চাইলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, বিকল্প প্রাথীর্ রাখায় কিছু সমস্যা তৈরি হলেও সাবির্কভাবে এ কৌশল ছাড়া বিএনপির উপায় ছিল না। নিবার্চন কমিশন এবং সরকারের ব্যাপারে বিএনপি জোটের অনাস্থার কারণেই বিএনপিকে এ কৌশল নিতে হয়েছে। যায়যায়দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত