প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামের একদল তরুণের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা : সরকারি ছুটির দিন বিকেলে কিংবা সন্ধ্যায় সবাই কাজ শেষ করে গ্রামের কোন এক মেঠোপথে কিংবা কারো বাসার ছাদে জায়গায় করে গানের অনুষঙ্গ নিয়ে দশ-বারো জন একসাথে হাজির হই। কখনো সম্মিলিত সুরে গান গাই। কখনো একজনে গান গায় আমরা সবাই শুনি। একতারা, হারমোনিয়াম,বাঁশি-ঢোল তবলার সাথে জারি গান-সারি গানসহ দেশীয় আধুনিক গানগুলো গাওয়া হয়। ছোট পরিসরেই বিনোদিত হতে আমাদের গ্রামসহ প্রতিবেশী গ্রামের মানুষজন আসেন আমাদের গানের আসরে। এমন দেশীয় গানের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য মাদক থেকে কিশোর তরুণদের দূরে রাখা। কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিমড়া গ্রামের যুবক ওমর ফারুক।

শিমড়া শিল্পগোষ্ঠী নামে ফারুক ও তার সঙ্গীরা দেশীয় গানের আয়োজন করে চলছে। ফারুক জানান,তার সাথে ছোট ভাই জুনাইদ গানের অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে। রুহুল আমিন,ফরহাদ ও দ্বীন ইসলাম পালাক্রমে গান পরিবেশন করেন। ঢোল-তবলার মনির হোসেন বেশ ভালোই হাত চালান। গানের আসরে উপস্থিত থেকে উৎসাহ দেন ইফতেখায়ের, মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, এজাজ আহমেদ,এমরান হোসেন রানা,শরিফ,পাবেল,সোহেল,বাহাদুর,বাবলুসহ গ্রামের অন্যান্য যুবকরা।

গানের অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জোনাইদের প্রাণবন্ত উপস্থাপন গানের আয়োজনটাকে সমৃদ্ধ করে বলে জানান গানের আসরে আসা দর্শকরা। এই আয়োজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সরাসরি প্রচার হয়। ফেইসবুকে প্রবাসীরাও যোগ দেয়। সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার এ দু’দিন গ্রামের যুবকদের আয়োজনের সাথে দেশে- প্রবাসের মানুষগুলোর মধ্যে একটা মেলবন্ধন চলে। তবে বছর শেষে ডিসেম্বর মাসে দেশীয় খেলাধুলার আয়োজন করি। তিন চারদিন ধরে চলে দেশীয় বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতা।

প্রতিবেশী আট-দশ গ্রামের শিশু কিশোর যুবক-যুবতীরা স্বত:স্ফূর্তভাবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে। আর এই গান খেলাধুলার আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য মাদক থেকে কিশোর তরুণদের দূরে রাখার পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি লালন করা। এমন আয়োজন ছাড়াও বিজয় দিবস-স্বাধীনতা দিবসে কিংবা মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের দেশাত্মবোধক গানের আয়োজন করে।

হাতে ধরে রাখা হারমোনিয়ামটা পাশে রেখে নেপথ্যও গল্পটা বললো ওমর ফারুক। গত কয়েক বছর ধরে চারদিকে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে ফারুক জানান, পরিবারের একজন সদস্য মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে কিভাবে একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় তা স্ব্চক্ষে প্রত্যক্ষ করছি। নিজের গ্রামেতো আছেই পাশের প্রতিবেশী গ্রামেও একই অবস্থা। খুব কাছ থেকেই দেখেছি কিভাবে ধীরে ধীরে দেশীয় সংস্কৃতি ভুলে যাচ্ছে আমাদের বর্তমান প্রজন্ম।

এমন পরিস্থিতিতে কিছু করতে না পারার আক্ষেপ কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল আমাকে আমার বন্ধুদেরকেও। মাদকের বিরুদ্ধে কিছু একটা করার স্বপ্ন নিয়ে দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষায় গানকে পূঁজি করে শুরু করলাম। এখন মনে হচ্ছে আমরা পারবো। আমাদেরকে পারতেই হবে। খুব কঠিন হলেও মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছি তাতে জয়ী হতেই হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত