প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন কখনো উৎসবমুখর হয় না : ড. মীজান

মারুফুল আলম : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন কখনও উৎসবমুখর হতে পারে না, এটা খেলাও না। পাঁচ বছর দেশ কারা চালাবে, কিভাবে চালাবে বিষয়টা জাতির জন্য সিরিয়াস মেটার। শুক্রবার চ্যানেল আই তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে নির্বাচন উৎসবমুখর হয় না। নির্বাচন কেমনে উৎসবমুখর হয়! এসব কথা আসলে এনজিওগুলো ছড়াচ্ছে, আমাদের দেশের নির্বাচন নাকি উৎসবমুখর। নির্বাচন কমিশন থেকে বলে দেওয়া উচিত- এই শব্দটা যেন কেউ ব্যবহার না করে। একদিকে বলা হচ্ছে হৈ-হুল্লোড় করা যাবে না, উচ্চস্বরে মাইক বাজানো যাবে না, আতশ-বাজি পোড়ানো যাবে না, রং ছিটানো যাবে না, এসব যদি উৎসবের অংশ না হয়, তাহলে নির্বাচনকে কেমনে উৎসব বলতে দিবেন? এটা ঠিক হবে না।

তিনি আরো বলেন, জামায়াতের কাছাকাছি একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এর উপর দাঁড়িয়ে আছে বিএনপি। পৃথিবীতে যত সামরিক শাসক মার্কোস থেকে শুরু করে ক্ষমতা দখল করে দল গঠন করার চেষ্টা করেছে, একটি দলও টিকে নেই। কিন্তু বিএনপি নামক দলটি এখনও টিকে আছে। কারণ হচ্ছে, তাদের একটি আইডোলজিক্যাল কমিটমেন্ট আছে। এই কমিটমেন্টটি পাকিস্তানি ভাবধারার মতো। বাঙালীত্বের বিরুদ্ধে, অগ্রসর চিন্তার বিরুদ্ধে একটি প্ল্যাটফর্ম ধারণ করে আছে বিএনপি। বিএনপির সাথে যারা ঐক্য করেছে তারা সবাই ঐক্যফ্রন্টকে টিকিয়ে রাখার জন্য আগামি পাঁচ সাত দিন পর থেকেই বলা শুরু করবে- ইসলাম গেলো, ভারত সবকিছু নিয়ে গেলো ইত্যাদি। ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য টিকিয়ে রাখতে এই আইডিওলোজি তারা ধারণ করবে। এমনকি যারা ঐক্যফ্রন্টে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আছেন, তারাও এই তিন চারটা কথাই বলবেন। তা না হলে ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে যাবে। সুশাসন, দুর্নীতি এসব প্রসঙ্গে তারা কিছুই বলতে পারবে না। তাদের আমলে মানুষতো সুশাসন আর দুর্নীতি দেখেছে।

ড. মীজান বলেন, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উপরের লেভেলে আমরা যারা আছি, আমরা মানুষকে যেভাবে বুঝাই তারাও সেভাবে বুঝে। অনেক সময় তারা নিজেরাও জানে না যে, কাকে ভোট দিয়েছে। সর্দার সাহেব, মৌলভী সাহেব যাদের কাছে মাইক আছে, মাইকগুলো আবার হুজুরদের নিয়ন্ত্রণে, মাইক দিয়ে ঘোষণা করবে, সাইদীকে আবারো চাঁদে দেখা গেছে। এরাইতো অধিকাংশ জনগণ। এজন্য বলছি যে, তাদের কাছে ম্যাসেজগুলো ক্লিয়ার করে দিতে হবে যে, আমরা এই কাজগুলো করবো, এভাবে করবো, এভাবে করলে এই বেনিফিট হবে, যাতে তারা বুঝেশুনে ভোটটা দিতে পারে। সেটার আয়োজন করতে হবে। এটা না করে যদি আমরা উৎসব করি, খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করি, হৈ-হুল্লোড় করি তাহলে নির্বাচনের তাৎপর্য থাকে না।

ড. মীজান আরো বলেন, নমিনেশনকে কেন্দ্র করে অতীতে যা দেখেছি, দু’চার দিন উত্তেজনা থাকে, এগুলো একটা পর্যায়ে কমে যায়। আর বিরোধী দল বা বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট থেকে যেসব কথা বলা হচ্ছে এগুলো নির্বাচন কমিশনের টেক কেয়ার করতে হবে যেগুলো টেক কেয়ার করার মতো। ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এখন সর্বময় কতৃত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে এবং বাকী নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশন যেটা বলবে সেটাই সাপোর্ট করবে। সেটা নির্বাচন কমিশন নিজে যদি এসার্ট না করতে পারে, তাহলে সেটাতো তাদের ব্যর্থতা। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ যে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে, সেটা নির্বাহী বিভাগের ডিউটি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত