Skip to main content

রাজনীতিকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ মানে ভোটারদের অপমান

মাধাবন : ভারতের জাতীয় রাজনীতি ভ্রষ্ট নেতাদের হাত ধরে ক্রমেই যখন অধঃগতির দিকে যাচ্ছে, তখনই সাধারণ মানুষেরাই অসাধারণ সব কাজ করে দেশের মাথা বারবার উঁচু করে দিচ্ছেন। আগে বলা হতো, ‘যেমন রাজা, তেমন প্রজা’। এখন বোধহয় উল্টোটা বলার মত পরিবেশের জন্যই লড়াই চালাতে হবে। ম্যারি কমের কথাই ধরা যাক। কেবলই তিনি বিশ্ব বক্সিং প্রতিযোগিতায় ভারতের জন্য ষষ্ঠবারের মত সোনার মেডেল জিতে এলেন। ভারতের নারি ক্রিকেটাররা দেখিয়ে দিচ্ছেন, তারা যেমন জিততে সক্ষম, তেমনি সক্ষম বাণিজ্যিকভাবে তাদের খেলাটাকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে। মঙ্গল গ্রহে রকেট পাঠিয়ে এখন আমরা চাঁদে আরেকটি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এখন ভারতের আনাচে কানাচে। এসব কীর্তির পাশে মিলিয়ে দেখুন তো নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক নেতাদের গালিগালাজকে। কৃষকদের অবিরাম দুর্দশা আমাদের বারবার এই সঙ্কেত দিচ্ছে যে, কিছু একটা দারুণভাবে পঁচে গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে একটা ছোট ধন্যবাদ দিতেই হয়। কারণ, তিনি তার উত্তরসূরী নরেন্দ্র মোদিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে; বিজেপি সমর্থকদের মনোবল বাড়াতে মোদি যেসব বক্তব্য দেন, তা প্রধানমন্ত্রীর আসনটির মর্যাদার সঙ্গে যায় না। কিন্তু এটাও সত্যি মনমোহন সিং-এর নিজের দলের নেতারা এখন দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে যেসব গালিময় বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন তাও প্রশংসা করার মত কিছু নয়। ভিলাসরাও মুত্তেমওয়ার যেমন সম্প্রতি বলেছেন, ‘কেউ জানে না মোদির বাবার নাম কী!’ মোদিকে চা-ওয়ালাও বলা হয়েছে ছোট দেখানোর জন্য। তাও আবার বলেছেন মনিশংকর আইয়ারের মত কংগ্রেস নেতা। এসব ঘৃণা ছড়ানো শব্দ নিয়ে মাতামাতির বদলে অনায়াসেই কিন্তু আলোচনা করা যেতো, সরকারি ক্রয়ের দর, কৃষকদের ঋণ, যুব কর্মসংস্থান কিম্বা জ্বলন্ত কাশ্মীর নিয়ে। এসব নিম্নমানের বক্তৃতা সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদের বুদ্ধিমত্তার জন্য চরম অপমান। বিজ্ঞানী, শিল্পী, প্রকৌশলী এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারতীয়রা যে অসামান্য কৃতিত্ব দেখাচ্ছেন তা ম্লান করে দেয়। কোন কোন বিশ্লেষক মনে করেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ শেষমেষ ভুক্তভোগীর জন্যই লাভজনক হয়। যেভাবে কংগ্রেসের অপমান মোদিকে দিয়েছিলো সাধারণের সমবেদনা। হয়তো রাহুল গান্ধীও কিছু বাড়তি ভোট পাবেন বিজেপির বিষোদগারের কারণে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতির মান উপরে ওঠানো একটা নৈতিক প্রশ্ন। চাকরি, স্বাস্থ্য, দারিদ্র এবং শিক্ষার মত জরুরি ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভোটারের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনের জন্য অনেক বেশি ফলদায়ক। এতে ব্যক্তিগত গালিগালাজ আর অপমানকে দুরে রেখে রাজনীতিতে আদর্শ ফিরিয়ে আনবে। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

অন্যান্য সংবাদ