প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : সমাধান সম্ভব?

সুমাইয়া সারওয়াত : রোহিঙ্গা সমস্যা দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। ২০১৭ সালের আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও দমন অভিযানের জের ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। কম প্রাকৃতিক সম্পদ ও উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পরও, বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গাকে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত না পাঠিয়ে মানবতা ও মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে অন্য দেশগুলো রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি হয় এড়িয়ে যাচ্ছে না হয় চুপ করে আছে।

তবে সুখের কথা এই যে, এই জঘন্য কাজ ও মানবাধিকার লংঘনের জন্য বিশ্বজুড়েই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর, এই অমানবিক জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আরো জোরালো হয়েছে।

ফলে মিয়ানমারের ওপর প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপও বেড়েছে। সেই সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। যদিও এসব আলোচনার ফলে দ্বিপক্ষীয় কিছু চুক্তিই হয়েছে, কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন বিষয়ে নেয়া পদক্ষেপগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বাংলাদেশ-মিয়ানমার চুক্তি অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে গত ১৫ নভেম্বর প্রথম দফায় ২,২০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর একটি দল রাখাইনে ফেরত যাওয়ার কথা।

কিন্তু দুখের বিষয় হলো, এই দীর্ঘ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া আসলে ২০১৯ সালের দিকেই গড়াচ্ছে। চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন পর্যালোচনা করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমত: রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশের মাটিতে নিরাপদ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি বৌদ্ধ ভিক্ষুকরা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। যার ফলে সেখানে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত, স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত: নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও রাখাইনে ফেরত যেতে ইচ্ছুক নয়। নিজ দেশে না ফেরার জন্য তারাও বিক্ষোভ করছে। তাদের অভিযোগ, সেখানে ফেরত গেলে একই ধরনের সহিংসতার সম্মুখীন হবে তারা। কারণ হিসেবে তারা বলছে, রোহিঙ্গাদের জাতীয় যাচাইকরণ কার্ড নেয়ার শর্তে তাদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। এই কার্ড তাদেরকে স্থানীয় গোষ্ঠী হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার পরিবর্তে বিদেশী হিসাবে পরিচয় দেবে। তার ওপর মিয়ানমার সবসময়ই রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। যদিও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

অবশেষে বলা যায়, শুরু থেকেই গোটা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াতেই কিছু ত্রুটি দেখা গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা আনুমানিক ১০ লাখ। কিন্তু রোহিঙ্গারা এদেশে আশ্রয় নেয়ার পর থেকে, যেসব শিশু জন্ম নিয়েছে, তাদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় নির্দিষ্ট করা হয়নি। এইসব ছোট ছোট বিষয়গুলির আগে সমাধান হওয়া দরকার। এছাড়া প্রত্যাবাসন বিষয়ক আলোচনায় রোহিঙ্গাদের অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে হবে, যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তারা তাদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ পায়। বলা যায়, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ সমস্যার সামগ্রিক সমাধান ও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা এখনও অনেক দূরের স্বপ্ন। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ