প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আগামী নির্বাচনে ভালো ফলাফল আশা করি : পঙ্কজ ভট্টাচার্য

বিভুরঞ্জন সরকার : আগামী নির্বাচনে কারা অংশগ্রহণ করবে আর কারা করবে না, এই দুশ্চিন্তার জায়গা আর নেই। কারণ সব দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচনের এমন আমেজ তৈরি করার জন্য নির্বাচন কমিশন ধন্যবাদ পেতেই পারেন। দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সাথে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টচার্য।

তিনি বলেন, নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করলেও এখনো নির্বাচনের পথে কিছু বাধা রয়ে গেছে। সমান অথবা সমতল নির্বাচনী মাঠ এখনো তৈরি হয়নি। প্রশাসন এবং সরকার কী ভূমিকা পালন করবে অথবা কোনটা করবে আর কোনটা করবে না সেটিও সুনির্দিষ্ট হয়নি। কারণ এবারই প্রথম যে দল গত পাঁচ বছর সরকারে ছিলো তারাই সরাসরি নির্বাচন পরিচালনা না করলেও নির্বাচন কমিশনের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক যে ক্ষমতা, তা পুরোপুরিভাবে প্রয়োগ করার ক্ষমতা আছে। অন্যায় করলে সাজা দেওয়া ও ভালো কাজ করলে প্রশংসা করার সুযোগও নির্বাচন কমিশনের আছে। কিন্তু তারা কতোটুকু করবেন এটি নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ আছে।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, আমি ১৯৫৪ সাল থেকে বহু নির্বাচন দেখেছি। নির্বাচনের আগে বুঝতে পারতাম কি হতে যাচ্ছে। কারা জয়-পরাজয়ের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু এবারই প্রথম নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। যদি কোনো রাজ জ্যোতিষী এসেও বলে যে এবারের নির্বাচনের ফলাফল এটা হবে, তাও মনে হয় ঠিক হবে না। নির্বাচনে জনগণ অবাধে ভোট দেওয়া, তাদের ইচ্ছানুযায়ী সরকার প্রতিষ্ঠিত করা, এই সুবিধাটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে ভোটে জনগণের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাটা বেড়েছে। বিভিন্ন দল যেহেতু অংশগ্রহণ করছে, জনগণের মধ্যেও অংশগ্রহণের ঝোঁক বেড়েছে। যেটি আগে কয়েকটি নির্বাচনে ছিলো না।

ভোটের আগে জোটের উত্থান- এটিও এবার বাংলাদেশে এক অভিনব বিষয় উল্লেখ করে পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, একটি কথা না বললেই নয়, আমাদের প্রধান বিরোধী দল কিন্তু এখনো লিডারল্যাস এবং লাডারল্যাস। এই অবস্থায় বিরোধী দলের আদর্শিক মিত্র না হলেও দূরবর্তী মিত্ররা তার সাথে এলে নির্বাচনে একটি সুবিধাজনক অবস্থা হবে- এই চিন্তা থেকে তারা একটি ঐক্যজোট করেছে। আমি মনে করি এটি তারা খুব একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক জীবনে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। কিন্তু তিনি একজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য একজন মানুষ। ড. কামাল বলেছেন, তিনি নির্বাচন করবেন না এবং ঐক্যফ্রন্ট জয়ী হলেও প্রধানমন্ত্রীও হবেন না। তিনি দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করবেন। তাই আশা করি, সবমিলিয়ে আগামী নির্বাচনে আমরা একটি ভালো ফলাফল পাবো।

ড. কামাল এখনো বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কথা বলেন। দেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা বলেন। বক্তব্য শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে শেষ করেন। সেখানে কোনো প্রতিবাদ হয় না। এর মধ্য দিয়ে আগামীর রাজনীতিতে একটি নতুন উপাদান তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করে পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে অনস্বীকার্য ভূমিকা রয়েছে, আমাদের জাতি গঠনে, নেতৃত্ব দানে সেটি নিয়ে চ্যালেঞ্জের জায়গাটি আর থাকবে না বলেও তিনি মনে করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের দেশের রাজনীতি ১৯৪৭ সালের রাজনীতির পথে হাঁটছে কি-না, এ প্রশ্ন এখন আবার সামনে আসছে। যে চার মৌলনীতির ভিত্তিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ফসল ঘরে তুললাম, সংবিধান তৈরি হলো, সে জায়গায় আমরা থাকতে পারলাম না। এখানে গোঁজামিল দিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে। সুতরাং তার প্রতিফলন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের মাধ্যমে ঘটবে, এটি স্বাভাবিক। আমরা দেখছি বিএনপির রাজনীতি জামায়াত-নির্ভর হয়ে পড়ছে। জামায়াত আমাদের রাজনীতিকে বড় বেশি ক্ষতি করেছে। আজকে দেশে জামায়াতবিহীন রাজনীতি হওয়ার কথা ছিলো। সেখানে জামায়াত প্রধান বিরোধী দলের একটি বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। এটি জাতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ