প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী

সমকাল : কঠোর সতর্কবার্তা ও কলাকৌশলের পরও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোটেই দলীয় ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীদের ঠেকানো সম্ভব হয়নি। এই কথিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই মূলত বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরে চিহ্নিত হবেন উভয় জোটের কাছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তবে পিছিয়ে নেই সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও। প্রায় সব আসনেই একাধিক ব্যক্তিকে বিএনপির দলীয় প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়। এর পরও অনেক আসনেই দলীয় পদধারীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

আর এসব ‘স্বতন্ত্র’ নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের ঘুম হারাম করছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সারাদেশে প্রার্থীর সংখ্যা তিন হাজার ৫৬। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০০। এরা বড় দুই দলের বিভিন্ন পদে থেকেই প্রার্থী হয়েছেন। কাগজে-কলমে বিদ্রোহী হওয়ার সুযোগ না থাকলেও দলগুলোর ‘ভুল’ কৌশলের কারণে তারা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্নেষকরা। ‘বিদ্রোহী’ এসব প্রার্থী শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে টিকে থাকলে দুশ্চিন্তা বাড়বে দলীয় প্রতীকধারীদের।

অবশ্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা দাবি করছেন, দলীয় পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিবৃত্ত করতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে এসব প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য রাজি করানো হবে। যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ২৫ জন উপজেলা চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন এই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আশায়। এদের মধ্যে যারা মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক অবশ্য বলেছেন, জোট বা দলের পক্ষ থেকে একটু কৌশলী হলেই বিদ্রোহীদের আটকানো সম্ভব ছিল। কারণ, আইন অনুযায়ী দলীয়ভাবে কেউ একবার মনোনয়ন দাখিল করলে তার আর স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে না। একইভাবে কেউ স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়ে দলীয় প্রতীক পাওয়ার সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে দলের যারা মনোনয়ন পেতে আগ্রহী, তাদের সবাইকে প্রাথমিক প্রত্যয়নপত্র দেওয়া যেত। পরে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি পাওয়া প্রার্থী ছাড়া অন্যরা এমনিতেই বাদ হয়ে যেত। তারা কেউ আর নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারতেন না। ফলে তারা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হওয়ার সুযোগও হারাতেন। তিনি আরও বলেন, কেউ একজন প্রার্থী হওয়ার পর তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আইনবিরুদ্ধ কাজ। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে বাধ্য করা বা নিবৃত্ত করার চেষ্টা শাস্তিমূলক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। কোনো প্রার্থী সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইসি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, দলীয় পরিচয় আছে এমন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা বিএনপির তুলনায় আওয়ামী লীগে বেশি। তার কারণ, আওয়ামী লীগ চার হাজার ২৩ জনের কাছে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করলেও তারা দলীয় মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে মাত্র ২৩৮টি। এর মধ্যে ১৪টি আসনে দু’জন করে ব্যক্তিকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। বাকিগুলো মহাজোটের শরিকদের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে।

২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই আওয়ামী লীগের মনোনীতদের দলীয় তালিকা প্রকাশিত হয়ে যায়। ফলে বঞ্চিতরা স্বতন্ত্র হিসেবে নিজেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে তাকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হবে।

অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে চার হাজার ৫৮০ জনের কাছে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়। কতজনকে দলীয় প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে, তার সঠিক হিসাব না পাওয়া গেলেও দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, এর সংখ্যা আট শতাধিক। ইসি-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এ কারণে বিএনপির বিদ্রোহীর সংখ্যা কমে গেছে। কারণ, বাছাইয়ের পর এদের মধ্যে যারা প্রতীক বরাদ্দের চিঠি পাবেন, তারা শুধু প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হবেন। বাকিরা কেউ আর ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না। মনোনয়ন এমনতিই বাদ হয়ে যাবে। তবুও বেশ কিছু আসনে বিএনপির দলীয় পরিচয় রয়েছে এমন ব্যক্তিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এত বেশিসংখ্যক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাখ্যা হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলা-সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যে তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। একক প্রার্থী দিলে কোনো কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হলে ওই আসনে দলের আর কোনো প্রার্থী থাকবে না। বিদ্রোহীদের বিষয়ে বিএনপি নেতারা বলছেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে সবাই অঙ্গীকার করেছেন। এর পর আর কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন না বলেই তারা মনে করছেন।

তবে এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীর সবাই যে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে টিকে থাকবেন, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। সঙ্গে আলাপকালে কেউ কেউ বলেছেন, দলীয়ভাবে অনুরোধ আসলে হয়তো তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। যশোর-২ আসনে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ডা. নাসিরউদ্দিন। এ আসনে বর্তমান এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হিসেবে নাও থাকতে পারেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

ফেনী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার। এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। আবুল বাশার শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হিসেবে টিকে থাকলে ঝুঁকিতে পড়ে যাবেন জাপার এই প্রার্থী।

ঢাকা-১ আসনেও মহাজোট থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

পাবনা-১ আসনে এবার ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে গণফোরাম মনোনীত অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও এ আসনে জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র নজিবুর রহমান মোমেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জেলার বাকি চার আসনেও বিএনপি একাধিক প্রার্থী দেওয়ার পরেও জামায়াতের তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জেলা জামায়াতের আমির একেএম জহিরুল ইসলাম খান বলেছেন, পাবনা-১, ৪ ও ৫ আসন ছাড়া জামায়াত কোনো সমঝোতা মানবে না। এই জেলায় জামায়াতের প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয় হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

এ ছাড়া সারাদেশে জামায়াতকে ২৫টি আসনে বিএনপির দলীয় প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। এর পরও তারা ১৮টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- লালমনিরহাট-১ আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন সাজু, গাইবান্ধা-৩ মাওলানা নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৪ ডা. আবদুর রহীম, বগুড়া-৪ তায়েব আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী-১ মুজিবুর রহমান, নাটোর-১ তাসনীম আলম, পাবনা-৪ আবু তালেব মণ্ডল, চুয়াডাঙ্গা-২ মোহাম্মদ রুহুল আমিন, যশোর-১ মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-৬ অধ্যাপক মুক্তার আলী, সাতক্ষীরা-১ অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্লাহ, পটুয়াখালী-২ ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ময়মনসিংহ-৬ জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৯ এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ শাহজাহান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১৬ জহিরুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আব্দুস সালাম। এ আসনে বর্তমান এমপি আনোয়ারুল আবেদিন খানকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ-৪-এ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দলের জেলা শাখার সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম, ময়মনসিংহ-১০-এ দলের জেলা শাখার উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ওবায়দুল্লাহ বুলবুল প্রার্থী হয়েছেন।

সারাদেশে আরও যারা দলীয় পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন- বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশাল-২ আসনে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এ কে ফাইয়াজুল হক রাজু, বরিশাল-৪ আসনে যুবদল নেতা নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর, পটুয়াখালী-১ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালাম মৃধা, পিরোজপুর-১ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সাংসদ একেএম আউয়াল ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা গোলাম হায়দার, পিরোজপুর-৩ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (সদ্য পদত্যাগী) আশরাফুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম নজরুল ইসলাম, ভোলা-২ মো. হুমায়ুন কবির, ঝালকাঠি-১ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান মনির এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুকুল মৃধা।

সিলেট ব্যুরো জানায়, ১৯ আসনের মধ্যে ১৪টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ২৮ জন। তাদের মধ্যে হবিগঞ্জ-১ আসনের জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি এমএ মুনিম চৌধুরী ও সংরক্ষিত আসনের এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীও রয়েছেন। মুনিম চৌধুরী বাবু জাতীয় পার্টির এবং কেয়া চৌধুরী আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মৌলভীবাজার-২ আসনের বর্তমান এমপি আবদুল মতিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে এই আসনে ছাড় দেওয়া হলে আবদুল মতিন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। পরে তাকে দলে ফিরিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ।

সিলেট-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. এনামুল হক সর্দার সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। অন্যজন মুহিবুর রহমান বিশ্বনাথ উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন। সিলেট-৫ আসনে সবচেয়ে বেশি ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ফয়জুল মুনীর চৌধুরী ঢাকা দক্ষিণ সিটির কাউন্সিলর ও বাহার উদ্দিন আল রাজি কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য। এ আসনে নিউইয়র্ক প্রবাসী বিএনপি নেতা ও জকিগঞ্জ উপজেলার সাবেক আহ্বায়ক শরিফ আহমদ লস্কর ও জাতীয় পার্টির প্রবাসী নেতা এম এ মতিন চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল মজিদ, ইনান ইসমাম চৌধুরী ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জাতীয় পার্টির নেতা। এ আসনে জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ মনোনয়ন পেয়েছেন মহাজোটের। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খসরু বিএনপি নেতা। এ ছাড়া মৌলভীবাজার-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের আমিনুল ইসলাম।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীর ছয়টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে ভোটের ফলে প্রভাব রাখতে পারেন রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সাংসদ আওয়ামী লীগ নেতা মেরাজ উদ্দীন মোল্লা এবং রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক সাংসদ আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলাম মো. ফারুক। এ ছাড়া রাজশাহী-১ আসনে জামায়াতের নায়েবে আমির মজিবুর রহমান এবং রাজশাহী-৩ আসনে জামায়াত নেতা মাজেদুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি ও দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ননী গোপাল মণ্ডল, মেহেরপুর-১ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী, সাবেক এমপি প্রফেসর আবদুল মান্নান, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান।

মেহেরপুর-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, সাবেক পৌর মেয়র আহাম্মদ আলী ও বর্তমান মহিলা সাংসদ সেলিনা আকতার বানু।

ঝিনাইদহ-২ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর রবিউল ইসলাম লাভলু। ঝিনাইদহ-৪ আসনে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আবদুল মান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

সাতক্ষীরা-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক সাংসদ বি এম নজরুল ইসলাম, তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সরদার মুজিবুর রহমান ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি বিশ্বজিত সাধু। সাতক্ষীরা-২ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম।

কুষ্টিয়া-১ আসনে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন আহমেদ এবং সহসভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী। কুষ্টিয়া-২ আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-৪ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান এমপি আবদুর রউফ।

বগুড়া ব্যুরো জানায়, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাশেম ফকির। বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কামাল উদ্দিন কবিরাজ ও নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী এবং আওয়ামী পেশাজীবী সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এহসানুল হক। ইউনুছ আলী জানিয়েছেন, দল তাকে বহিস্কার করলেও নির্বাচনে তিনি থাকবেন। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মোস্তফা আলম নান্নু ও গাবতলী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফেরদৌস আরা খান। জাপার বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট আলতাফ আলী বগুড়া-৪ আসনে নুরুল আমিন ও বগুড়া-৫ আসনে তাজ মোহাম্মদ শেখ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, কক্সবাজার-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে বদিউল আলম (পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য), তানিয়া আফরিন জাফর- (যুব মহিলা লীগের সদস্য), কক্সবাজার-২ আবু বকর সিদ্দিক (মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি), কক্সবাজার-৩ নজিবুল ইসলাম পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। কক্সবাজার-৪ এম গফুর উদ্দিন (ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি)।

কুমিল্লার ১১টি আসনে চারজন বিদ্রোহী। কুমিল্লা-২ অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ (উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি) ও সরোয়ার হোসেন বাবু (কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক) কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে আ ফ ম সোলায়মান চৌধুরী (জামায়াত সমর্থিত সম্মিলিত পেশাজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক)। লক্ষ্মীপুরে চারটি আসনে সাতজন বিদ্রোহী থাকলেও তারা কেউ পদে নেই।

নোয়াখালীর ৬টি আসনে ১০ বিদ্রোহী। নোয়াখালী-১ আসনে মামুনুর রশিদ (কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি), মো. মোজাম্মেল হোসেন (উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক), নোয়াখালী-২ আসনে আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক (জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি), কাজী মফিজুর রহমান (বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য), নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে ডা. মাজহারুল ইসলাম দোলন (তারেক জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক), আক্তার হোসেন ফয়সাল (চৌমুহনী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি), নোয়াখালী-৪ আসনে অ্যাডভোকেট মোসাম্মৎ শাহিনুর বেগম (কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক)। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী (আওয়ামী লীগ), মাহমুদ আলী রাতুল (উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি), অ্যাডভোকেট সাইফ উদ্দিন (পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি)।

চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনে চারজন বিদ্রোহী

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া (উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম (উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য)। চট্টগ্রাম-১৫ লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা নুরুল আলম ও জাফর সাদেক দক্ষিণ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত