প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হলফনামা
খুলনায় হেভিওয়েট প্রার্থীদের কার কত আয় ও সম্পদ

ডেস্ক রিপোর্ট : খুলনার ৬টি আসনে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৫১ প্রার্থী। এর মধ্যে আট জন হেভিওয়েট প্রার্থীকে নিয়ে আগ্রহ বেশি ভোটারদের। এই আট প্রার্থীর মধ্যে আয় ও সম্পদ বেশি খুলনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং শিল্পপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীর। প্রতি মাসে তার ব্যক্তিগত আয় ৫৩ লাখ টাকা। আর মামলা বেশি বিএনপি নেতাদের। খুলনা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলার সংখ্যা ১০১টি।

আবদুস সালাম মুর্শেদী :খুলনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি ভাড়া থেকে আয় ১৬ লাখ টাকা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বেতন-ভাতা দুই কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং শেয়ার থেকে আয় তিন কোটি ৫৮ লাখ টাকা। তার ব্যাংক ঋণ রয়েছে ৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক এবং পেশা গার্মেন্ট, ব্যাংক ও হাসপাতালের পরিচালক। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল :খুলনা-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েলের বার্ষিক আয় দুই কোটি ২০ লাখ টাকা। সে হিসাবে মাসে আয় ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি ভাড়া থেকে আয় তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে এক কোটি ৯ লাখ টাকা, শেয়ার থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ও ব্যাংক থেকে মুনাফা ২৬ লাখ টাকা।

তার ঋণ রয়েছে ২৯ কোটি টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি এবং পেশা ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

নারায়ণ চন্দ্র চন্দ :মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবারও খুলনা-৫ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি এমএ পাস। তার বিরুদ্ধে আগে একটি মামলা ছিল। হলফনামায় কৃষি, ইটভাটার ব্যবসা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিত্বকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয় ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে ৮০ হাজার ৫০০ টাকা, ইটভাটা থেকে আট লাখ ৬৩ হাজার টাকা ও মন্ত্রী হিসেবে পারিতোষিক ভাতা ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা পান। তার ব্যাংক ঋণ রয়েছে এক কোটি ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

বেগম মন্নুজান সুফিয়ান :খুলনা-৩ আসনের বর্তমান সাংসদ ও সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বাংলায় বিএ সম্মান উত্তীর্ণ। হলফনামায় গৃহ সম্পত্তি, মৎস্য চাষ ও পারিতোষিক ভাতাকে আয় হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। এসব খাত থেকে বছরে তার আয় ১৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে আয় প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার কাছে নগদ ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮৯ টাকা, ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা মূল্যের গাড়ি, ৪০ তোলা স্বর্ণ রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া দশমিক ৪৯ একর কৃষি জমি, ১৩ একর অকৃষি জমি ও তিনতলা একটি ভবন রয়েছে।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু :বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা-২ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ব্যবসা বন্ধ থাকায় বাড়ি ভাড়াই একমাত্র আয়ের উৎস। বাড়ি ভাড়া থেকে দুই লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে এক লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন তিনি। এ ছাড়া আইন পেশা থেকে তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ১৬০ টাকা।

আইনে স্নাতক পাস করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে নাশকতার চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সম্প্রতি তিনটি মামলায় তিনি অব্যাহতি পান।

আজিজুল বারী হেলাল :খুলনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতক উত্তীর্ণ। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ১০১টি মামলা রয়েছে। তিনটি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি।

হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসা, ঠিকাদারি, সরবরাহকারী উল্লেখ করেছেন। এ থেকে তার বার্ষিক আয় তিন লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া কৃষি খাত থেকে বছরে ১২ হাজার টাকা পান তিনি।

শরীফ শাহ কামাল তাজ :খুলনা-৪ আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ এমকম পাস। মার্কেট অ্যাকসেস প্রোভাইডার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। এ ছাড়া আরও দুটি কোম্পানির পরিচালক তিনি।

হলফনামায় দেখা গেছে, তিনিই বিএনপির একমাত্র নেতা যিনি গত ১০ বছরে কোনো মামলার আসামি হননি। কোম্পানির পরিচালক হিসেবে মাসিক ভাতা ও শেয়ার মিলিয়ে বছরে তার আয় ১৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা আয় তার। আয় ও সম্পদের দিক থেকে শাহ কামাল তাজই বিএনপির সবচেয়ে ধনী প্রার্থী। তার ব্যাংক ঋণ রয়েছে ১ কোটি ৫৮ লাখ ২৪৮ টাকা।

রকিবুল ইসলাম বকুল :খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ রকিবুল ইসলাম বকুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ। আমদানি, রফতানি ও সরবরাহকারী পেশায় যুক্ত তিনি। এ থেকে বছরে আয় চার লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক আমানত থেকে ১২ হাজার ২৯৪ টাকা পান তিনি।

হলফনামায় দেখা গেছে, তার কাছে নগদ ১২ লাখ ৮২ হাজার টাকা, ব্যাংকে তিন লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের বিপরীতে মার্জিন ঋণ রয়েছে ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকার।
সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ